একতা এক্সপ্রেস ট্রেনে হকার হত্যাকাণ্ড, আহত ১

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩৮ বার
একতা এক্সপ্রেস ট্রেনে হকার হত্যা ও আহত এক

প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০২৫ মঙ্গলবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকা থেকে পঞ্চগড়গামী একতা এক্সপ্রেস ট্রেনে চলন্ত অবস্থায় হকারদের মধ্যে ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তি গলা কেটে নিহত হয়েছেন এবং আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনাটি সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাতে দিনাজপুরের সেতাবগঞ্জ স্টেশন অতিক্রমের পর ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ রেলস্টেশনে ঘটে। নিহতের নাম আল আমিন, তিনি কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার চড়বথুয়াতুলি গ্রামের মন্টু মিয়ার ছেলে। আহত মিলনও একই এলাকার বাসিন্দা এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আল আমিন ও মিলনের সঙ্গে প্রতিপক্ষ আকাশ-সুজন এবং কুদরতের মধ্যে কয়েক দিন ধরে ট্রেনে পপকর্ন ও নারিকেল বিক্রি নিয়ে বিরোধ চলছিল। সোমবার রাতে একতা এক্সপ্রেস দিনাজপুরের সেতাবগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে পীরগঞ্জ অভিমুখে ছাড়ার পর চলন্ত ট্রেনে প্রতিপক্ষরা ছুরি দিয়ে আল আমিনের গলা কেটে আহত করে। ঘটনাস্থলে থাকা যাত্রীরা রক্তাক্ত অবস্থায় উভয়কে ট্রেন থেকে নামিয়ে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক সেখানে আল আমিনকে মৃত ঘোষণা করেন।

পীরগঞ্জ রেলস্টেশনের সহকারী মাস্টার আব্দুল আজিজ বলেন, স্টেশনে পৌঁছানোর পর গুরুতর আহতদের স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। তিনি জানান, বিষয়টি রেলওয়ে পুলিশকে জানানো হয়েছে। পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাজুল ইসলামও জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ স্টেশন ও হাসপাতালে উপস্থিত ছিল। হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ায় এখনো কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তদন্তের দায়িত্বে দিনাজপুর রেলওয়ে পুলিশ নিয়োজিত আছে।

ট্রেনে এই হত্যাকাণ্ড যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। রাসেল নামে এক যাত্রী বলেন, “ট্রেনের ভেতর হকারদের দৌরাত্ম্য বেড়ে গেছে। মারামারি, চাঁদাবাজি সবই চলছে। রেল পুলিশ কোথায়?” তিনি আরও যোগ করেন, চলন্ত ট্রেনে মানুষের গলা কেটে হত্যার ঘটনা নিরাপত্তার চরম ব্যর্থতা প্রকাশ করছে। অন্য এক যাত্রী ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নিরাপত্তা বলতে কিছুই নেই। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ শুধু ভাড়া নেয়, নিরাপত্তা দেয় না।”

যাত্রী মাহির বলেন, “আমাদের চোখের সামনে একজন খুন হলো, তারপরও প্রশাসন শুধু ‘ব্যবস্থা নেবে’ বলছে। কাজের কাজ কিছু হয় না। এতে রেলের সুনাম দিন দিন ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।” এই মন্তব্য প্রতিফলিত করছে যাত্রীদের মধ্যে নীরব ক্রোধ ও নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ।

নিহত আল আমিনের চাচাতো ভাই মাহবুবুর রহমান জানান, ট্রেনে নারিকেল ও পপকর্ন বিক্রির কারণে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষরা ছুরি নিয়ে হামলা চালায়। স্থানীয়রা বলছেন, ট্রেনে নিয়মিত টহল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এ ধরনের ঘটনা আবারও ঘটতে পারে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা যাত্রীদের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলছে।

এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রেনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে। বিশেষ করে হকারদের দৌরাত্ম্য, চাঁদাবাজি ও মারামারি রোধ করতে রেলওয়ে পুলিশকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে ভবিষ্যতে আরও এমন মর্মান্তিক ঘটনার সম্ভাবনা থাকবে।

এই হত্যাকাণ্ড কেবল ব্যক্তিগত বিরোধের ঘটনা নয়, বরং রেল যাত্রীদের জন্য একটি বড় নিরাপত্তা সংকেত। চলন্ত ট্রেনে মানুষ কতটা সুরক্ষিত, তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। রেলওয়ে কর্মকর্তাদের দায়িত্ব প্রমাণের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনা রোধ করা প্রয়োজন।

ঘটনার তদন্ত চলছে, রেলওয়ে পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন আহত মিলনের চিকিৎসা নিশ্চিত করছে। যাত্রীরা আশা করছেন, এই ঘটনায় দোষীদের দ্রুত সনাক্ত ও শাস্তি দেওয়া হবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার না হলে চলন্ত ট্রেনে যাত্রীর জীবন প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত