কুষ্টিয়া হত্যাকাণ্ড: সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু ৮ ডিসেম্বর

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৫ বার
মাহবুব-উল আলম হানিফস

প্রকাশ: প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০২৫ মঙ্গলবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কুষ্টিয়ায় ছয় জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ী হিসেবে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফসহ চার জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ আগামী ৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্যানেল মঙ্গলবার এই নির্দেশ দেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ প্রসিকিউশনপক্ষে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তিনি আদালতকে জানিয়েছেন, এই মামলায় অভিযুক্তরা কুষ্টিয়ার ছয়জন নিরীহ নাগরিককে হত্যার ঘটনায় মূলভাবে জড়িত ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পিত এবং সংগঠিত হিসাবে দেখা হচ্ছে, যার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও ক্ষমতা হস্তক্ষেপের প্রমাণ রয়েছে। প্রসিকিউটরের বক্তব্যে বলা হয়েছে, মামলার সব প্রমাণ, সাক্ষী ও দলিলাদি এই হত্যাকাণ্ডের দায়িত্ব প্রত্যেক অভিযুক্তের উপর প্রমাণ করতে সক্ষম।

এই মামলায় মোট ৩৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হবে। আদালত জানিয়েছে, প্রত্যেক সাক্ষীর বক্তব্য শুনে এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি যাচাই করে মামলার পরবর্তী ধাপ এগোবে। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়ার পর প্রত্যেক সাক্ষীর বিশদ বিবরণ ও ঘটনার সময়সূচি আদালতের রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত হবে।

মাহবুব-উল আলম হানিফ ছাড়াও মামলার বাকি তিন আসামি হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সদর উদ্দিন খান, জেলা সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। আদালতের কাছে সূচনা বক্তব্যে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নে এই চারজন প্রত্যেকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ এবং সুস্পষ্ট প্রমাণের মাধ্যমে প্রমাণ করা সম্ভব।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর সূত্র মতে, এই মামলার প্রসঙ্গে তদন্ত ও প্রমাণ সংগ্রহের কাজ দীর্ঘ সময় ধরে চলে। প্রাথমিকভাবে এই হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। মামলার সূচনা থেকেই আদালত চেষ্টা করেছে সকল প্রমাণ যথাযথভাবে যাচাই করতে। মামলার গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, হত্যাকাণ্ডের সময় ও স্থান নির্ধারণ, প্রত্যক্ষদর্শী ও সমকালীন দলিলাদি সংগ্রহ এবং অভিযুক্তদের প্রত্যেকের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অবস্থান।

এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়ার দিন আদালত কার্যক্রমের নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী চলবে। প্রত্যেক সাক্ষীর বিবৃতি রেকর্ড করা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সাক্ষীদের পুনরায় হাজির করার সুযোগ থাকবে। আদালত উল্লেখ করেছে, সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালীন সময়ে সকল প্রমাণাদি ও ঘটনার বিবরণ পর্যায়ক্রমে আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

এর পাশাপাশি, ট্রাইব্যুনাল-১-এ রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেনকে গুলি করে হত্যার ও দুইজনকে হত্যা করার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সাক্ষ্যগ্রহণও আজ অনুষ্ঠিত হবে। এটি নির্দেশ করে যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল দেশের সকল মানবতাবিরোধী হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমে দৃঢ় এবং ধারাবাহিক।

মামলার গুরুত্ব এবং সাক্ষ্যগ্রহণের আগ্রহের কারণে সাধারণ জনগণ, সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংস্থার নজর এই প্রক্রিয়ার দিকে নিবদ্ধ রয়েছে। মামলার সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্ট সকল নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ কেবল চার আসামির নয়, পুরো অঞ্চলের ইতিহাস এবং মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। আদালতের নিয়ম অনুযায়ী, সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে প্রমাণাদি বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত রায় ঘোষণার প্রক্রিয়া শুরু হবে। দেশের আইনি ইতিহাসে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা হিসেবে বিবেচিত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত