মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার নতুন সুযোগ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২১ বার
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০২৫ মঙ্গলবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের অসংখ্য মানুষের স্বপ্ন। স্বপ্নের সেই দেশটিতে বৈধভাবে স্থায়ী হতে হলে সাধারণত দীর্ঘ প্রক্রিয়া, কঠোর নিয়ম এবং জটিল যাচাই পদ্ধতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত গোল্ড কার্ড ভিসা প্রোগ্রাম নতুন করে সেই পথ কিছুটা হলেও সহজ করে দিচ্ছে। বিনিয়োগের মাধ্যমে সরাসরি স্থায়ী আবাসনের সুযোগ এখন আর কেবল কল্পনা নয়; খুব শিগগিরই তা বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে। ইতোমধ্যে প্রোগ্রামটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে এবং সবকিছু ঠিকঠাক চললে ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যেই এটি কার্যকর হবে।

গোল্ড কার্ড কর্মসূচির মূল ধারণা হলো, যুক্তরাষ্ট্রে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করলে আবেদনকারী এবং তার পরিবার স্থায়ীভাবে বসবাসের যোগ্যতা অর্জন করতে পারবেন। সর্বশেষ যে খসড়া নীতিমালা তৈরি হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে—ব্যক্তিগত আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে বিনিয়োগের পরিমাণ কমপক্ষে ১০ লাখ ডলার হতে হবে। আর কোনো কোম্পানি বা করপোরেট প্রতিষ্ঠান আবেদন করলে তাদের জন্য এই পরিমাণ হতে হবে ২০ লাখ ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে প্রত্যক্ষ অবদান রাখতে সক্ষম বিনিয়োগকারীদের টার্গেট করেই এই পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট এবং ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) ইতোমধ্যেই আবেদনকারীদের জমা দিতে হবে এমন ফর্মের খসড়া তৈরি করেছে। ফর্মটির নাম রাখা হয়েছে আই-১৪০জি, যা গোল্ড কার্ড ভিসার জন্য ইমিগ্রেশন পিটিশন হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এ ফর্ম এখন অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেটের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। যদিও প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, হোয়াইট হাউস এই খসড়ার জরুরি অনুমোদন ইতোমধ্যেই প্রদান করেছে। অর্থাৎ, চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার সময়সীমা এখন শুধু আনুষ্ঠানিকতার বিষয়।

গোল্ড কার্ড কর্মসূচি ঘোষণা হওয়ার পর প্রশাসনের কর্মকর্তারা দাবি করেছিলেন, প্রতিদিন তারা এক হাজার করে গোল্ড কার্ড ইস্যু করতে পারবেন। কিন্তু অভিবাসন নীতিতে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান এবং কিছু অভ্যন্তরীণ জটিলতার কারণে কর্মসূচিটি পিছিয়ে পড়ে। তবে ১৮ ডিসেম্বরের আগেই আবারও নতুন করে সব কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং এবার আর কোনো বাধায় এটি দেরিতে পড়বে না বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই কর্মসূচির বড় সুবিধা হলো, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা শুধু স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের অধিকারই পাবেন না; একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা পরিচালনা, সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়, শিক্ষা সুবিধা গ্রহণসহ গ্রিন কার্ডধারীদের প্রায় সব সুবিধাই ভোগ করতে পারবেন। তাদের সন্তানরাও যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থায় সরাসরি অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে। বিনিয়োগের টাকাও নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে লাগানো হবে।

যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন মানুষদেরও আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছে। যারা বিজ্ঞানী, গবেষক, শিল্পী বা ব্যবসায়িক উদ্ভাবনে বিশেষ যোগ্যতা রাখেন, তারা ইবি-১ ক্যাটাগরির আওতায় আবেদন করতে পারবেন। আবার যারা এমন কোনো কাজে যুক্ত আছেন যা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ, তারা ইবি-২ (ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েভার) ক্যাটাগরিতে সুযোগ পাবেন। এই দুই ক্যাটাগরি যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে উচ্চমানের পেশাজীবীদের আকর্ষণ করার জনপ্রিয় উপায় হিসেবে পরিচিত।

আবেদন করার ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট নিয়মও যুক্ত করা হয়েছে। আবেদনটি ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সে জমা দিতে হবে এবং প্রতি আবেদনের জন্য ১৫ হাজার ডলার ফি পরিশোধ করতে হবে, যা একবার পরিশোধ করলে ফেরতযোগ্য নয়। এরপর ইউএসসিআইএস আবেদনকারীর যোগ্যতা যাচাই করবে। অর্থের উৎস বৈধ কি না, বিনিয়োগ সত্যিই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে কি না—এসব বিষয় কঠোরভাবে পরীক্ষা করা হবে। সব যাচাই-বাছাই শেষ হলে আবেদনকারীকে দূতাবাসে কনস্যুলার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। সবশেষ ধাপে অনুমোদন পাওয়া গেলে আবেদনকারীকে অভিবাসী ভিসা নম্বর প্রদান করা হবে এবং দেশটিতে প্রবেশের পর তিনি ‘লফুল পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট’ বা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন উদ্যোগ তাদের অর্থনীতিতে বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ শ্রমশক্তি ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। আর বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের অনেক বিনিয়োগকারী বা অভিবাসন-ইচ্ছুক ব্যক্তির জন্য এটি একটি বড় সুযোগ হয়ে উঠতে পারে। যদিও বিনিয়োগের পরিমাণ অত্যন্ত বেশি, তবুও যারা ব্যবসায়িকভাবে শক্তিশালী বা আন্তর্জাতিক বাজারে সম্প্রসারণে আগ্রহী, তাদের জন্য এটি খুব কার্যকর একটি পথ।

এ ছাড়া এ ধরনের প্রোগ্রাম বিশ্বজুড়ে প্রচলিত। ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ দীর্ঘদিন ধরে গোল্ডেন ভিসা ও রেসিডেন্স বাই ইনভেস্টমেন্ট কর্মসূচি চালু রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্র সেই তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে আরও বিস্তৃত ও কঠোর নিয়মের মাধ্যমে, যা অভিবাসন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখবে এবং সম্ভাব্য জালিয়াতি প্রতিরোধ করবে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে বসবাসের এই সুযোগ শুধু অভিবাসন প্রক্রিয়ায় নতুন দিগন্তই উন্মোচন করছে না; বরং আন্তর্জাতিক অভিবাসন ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করবে। ১৮ ডিসেম্বরের নির্ধারিত সময়সীমার আগেই যদি এই কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে কার্যকর হয়, তবে বিশ্বব্যাপী এর ব্যাপক সাড়া পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত