চীন-জাপান উত্তেজনায় আন্তর্জাতিক আকাশপথে ভাঙন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৪ বার
চীন-জাপান কূটনৈতিক উত্তেজনায়

প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০২৫ মঙ্গলবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাপান ও চীনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক আকাশপথে বিরাট অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। মাত্র তিন দিনে জাপানগামী প্রায় পাঁচ লাখ বিমান টিকিট বাতিল হয়েছে, যা করোনা পরবর্তী সময়ে নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে দেখা যাচ্ছে। পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে চীনের ভ্রমণ-সতর্কতা এবং সম্প্রতি জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির তাইওয়ান ইস্যুতে কড়া মন্তব্য।

বেইজিং কর্তৃপক্ষের ভ্রমণ সতর্কতা জারি হওয়ার পরপরই জাপান রুটে কয়েকটি চীনা এয়ারলাইনের ফ্লাইট সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। সিচুয়ান এয়ারলাইন্স ও স্প্রিং এয়ারলাইন্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর ফ্লাইট বাতিলের ফলে ১৫ থেকে ১৭ নভেম্বরের মধ্যে প্রায় পাঁচ লাখ যাত্রীর বুকিং বাতিল হয়েছে। যদিও প্রতিষ্ঠানগুলো এটিকে ‘ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেছে, বিশ্লেষকরা মনে করছেন এর পেছনে রাজনৈতিক টানাপোড়েনই মূল ভূমিকা রেখেছে।

চীনের নাগরিকরা জাপানে যাওয়া পর্যটকদের মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম অংশ, ফলে টিকিট বাতিলের প্রভাব জাপানের হোটেল, বিপণিবিতান, রেস্তোরাঁ ও স্থানীয় পরিবহন খাতে স্পষ্টভাবে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে টোকিওর গিনজা ও শিনজুকুর মতো জনপ্রিয় এলাকায় ক্রেতার সংখ্যা কমে যাওয়ায় শেয়ারবাজারেও পতন লক্ষ্য করা গেছে। অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, দীর্ঘমেয়াদে খুচরা, হসপিটালিটি এবং সেবা খাতে কোটি কোটি ইয়েন ক্ষতি হতে পারে।

এই আকাশপথ সংকট বিদেশমুখী যাত্রীদের মধ্যেও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ডিসেম্বরে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করা শিক্ষার্থীরা বেইজিং ট্রানজিট রুট বাতিল বা পরিবর্তনের ঝুঁকিতে পড়েছেন। অনেকেই বিকল্প রুট খুঁজছেন, যা বাড়তি ব্যয়, সময় ও ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে জাপানগামী ফ্লাইট সংখ্যা আরও কমে যেতে পারে, যা যাত্রীদের বিকল্প রুটের চিন্তা করতে বাধ্য করবে।

এফেক্ট শুধুমাত্র পরিবহণ ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কও এই সংকটের কারণে প্রভাবিত হতে পারে। সম্প্রতি চীনা এবং জাপানি কর্মকর্তারা একে অপরের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান গ্রহণ করেছেন, যা আন্তর্জাতিক ব্যবসা, পর্যটন এবং বিনিয়োগ ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কূটনৈতিক উত্তেজনার ফলে অঞ্চলীয় অর্থনীতির জন্য অস্থিরতার নতুন দফা শুরু হতে পারে।

পর্যটন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। জাপানে চীনা পর্যটকদের সংখ্যা হ্রাস পাওয়া মানে শুধু হোটেল ও রেস্তোরাঁর আয়ের পতন নয়, বরং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য আয়ের নতুন সম্ভাবনা ও বিনিয়োগে ধাক্কা। জাপানি কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য পর্যটন ও সেবা খাতে জরুরি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তবে তা কতটা কার্যকর হবে তা সময়ের সঙ্গে পরিমাপ হবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সংকট কেবল ফ্লাইট বাতিলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবেনা, বরং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকেও প্রভাবিত করবে। বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুর সংবেদনশীলতা পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে। চীন ও জাপানের মধ্যে উত্তেজনা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মতো অন্যান্য আন্তর্জাতিক ইস্যুর সঙ্গে সমন্বয় ঘটিয়ে আকাশপথ ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

সর্বশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী, যাত্রীরা বিকল্প রুটের দিকে ঝুঁকছেন, যা সময় ও খরচ উভয় বৃদ্ধি করেছে। আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলো ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার কারণে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা দ্রুত সমাধান না হলে পর্যটন, অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব দেখা দেবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত