নিউইয়র্কের মামদানির ট্রানজিশন টিমে স্থান পেলেন ১০ বাংলাদেশি

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩৩ বার
নিউইয়র্কের ট্রানজিশন টিমে স্থান পেলেন ১০ বাংলাদেশি

প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির রাজনীতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম এবার ফলপ্রসূ হয়েছে। নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানির ট্রানজিশন টিমে এই শহরের বিভিন্ন সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ১০ জন বাংলাদেশি সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিউনিটির এই উল্লেখযোগ্য সাফল্য শুধু প্রবাসীদের গর্বই নয়, বরং তাদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের একটি বড় ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

টিমে স্থান পাওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে অন্যতম হলেন প্রখ্যাত কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহারের কন্যা সমতলী হক। সমতলী বর্তমানে সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কে অধ্যাপনা করছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য কাজ করছেন। অধ্যাপনার আগে তিনি লেবার অ্যাটর্নি হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং মেয়র প্রার্থিতা ঘোষণার সময় থেকেই জোহরান মামদানির নির্বাচনি প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন। তার গভীর অভিজ্ঞতা, আইন ও মানবাধিকার ক্ষেত্রে দক্ষতা এই ট্রানজিশন টিমের জন্য এক অনন্য সংযোজন।

সমতলী হকের ব্যক্তিগত জীবনও আলোচনার বিষয়। তিনি ফরহাদ মজহারের প্রথম স্ত্রীর সন্তান। বর্তমানে তিনি পুয়ের্তো রিকোর একজন নাগরিককে বিয়ে করেছেন এবং নিউইয়র্কে বসবাস করছেন। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। সমতলী হকের অন্তর্ভুক্তি প্রমাণ করে, রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রবাসী বাংলাদেশিরাও উচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

ফরহাদ মজহারের কন্যার সঙ্গে ট্রানজিশন টিমে স্থান পাওয়া অন্য বাংলাদেশিরাও যথেষ্ট প্রভাবশালী। নাগরিক আন্দোলনের নেত্রী কাজী ফৌজিয়া, জনসংগঠক আব্দুল আজিজ ভূঁইয়া, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা শামসুল হক, শ্রম অধিকার সংগঠক মোহাম্মদ করিম চৌধুরী, অভিবাসন অধিকারকর্মী ফারিহাহ আখতার, ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতের সংগঠক ও মুসলিম কমিউনিটির নেতা আরমান চৌধুরী, সামাজিক সংগঠন ভালো ও ম্যাসভোটের সংগঠক শাহরিয়ার রহমান, শিক্ষা ও যুব খাতে পরিচিত সংগঠক তাজিন আজাদ এবং আইন ও ন্যায়বিষয়ক ক্ষেত্রের প্রতিনিধি ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ড ইসলামিক সেন্টারের কমিউনিটি সংগঠক ইমরান পাশা—এরা সবাই ট্রানজিশন টিমে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে মনোনীত হয়েছেন।

নিউইয়র্কের এই বৃহৎ ট্রানজিশন টিমে চার শতাধিক বিশেষজ্ঞ, কর্মী ও কমিউনিটি নেতার সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং দীর্ঘদিনের কাজের ভিত্তিতে ১৭টি কমিটির দায়িত্বে মনোনীত হয়েছেন। বাংলাদেশিদের উপস্থিতি এই তালিকায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ৪০০ জনের দীর্ঘ তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এবারের ট্রানজিশন টিমে ১১ জন পাকিস্তানি এবং ১৬ জন ভারতীয়সহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন কমিউনিটির প্রতিনিধিত্ব থাকলেও, বাংলাদেশির সংখ্যার এই মাত্রা প্রথমবারের মতো দেখা যাচ্ছে। এটি প্রবাসী কমিউনিটির রাজনৈতিক ক্ষমতায়নকে আরো দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেছে।

বাংলাদেশি কমিউনিটির দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং সমাজসেবা এই সাফল্যের পেছনের মূল চালিকা শক্তি। বিশেষত নাগরিক ও শ্রমিক অধিকার, শিক্ষা, সমাজকল্যাণ এবং কমিউনিটি সংগঠন নিয়ে যারা দীর্ঘদিন কাজ করছেন, তাদের অভিজ্ঞতা স্থানীয় প্রশাসনের নীতি-নির্ধারণ ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই ধারা শুধু নিউইয়র্কে নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ইমেজ ও প্রভাব বৃদ্ধিতেও সহায়ক। এটি প্রমাণ করে যে, বিদেশে বসবাসরত নাগরিকরা কমিউনিটি নেতৃত্বের মাধ্যমে সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। ট্রানজিশন টিমে বাংলাদেশিদের উপস্থিতি স্থানীয় সম্প্রদায়কে আরও সংহত করবে এবং জনগণের জন্য কার্যকর সমাধান ও নীতি প্রণয়নে অবদান রাখবে।

একাধিক প্রবাসী নেতা মনে করেন, সমতলী হক এবং অন্যান্য বাংলাদেশি সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি প্রমাণ করছে যে, দক্ষতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কমিউনিটির সঙ্গে নিবিড় সংযোগ থাকলেই আন্তর্জাতিক নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব। এটি নবপ্রবীণ প্রজন্মের প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

এছাড়া, ট্রানজিশন টিমের মাধ্যমে বাংলাদেশিদের অভিজ্ঞতা স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি, সামাজিক উদ্যোগ এবং মানবাধিকার বিষয়ক কার্যক্রমে প্রয়োগ করা সম্ভব হবে। এতে কমিউনিটির মধ্যে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা যাবে।

সামাজিক সংগঠন, শিক্ষাব্যবস্থা, শ্রমিক অধিকার এবং নাগরিক আন্দোলনে দীর্ঘদিন কাজ করা বাংলাদেশিরা আশা করছেন, এই অভিজ্ঞতা তাদের কমিউনিটি নেতৃত্বে নতুন দিক উন্মোচন করবে। এই উদ্যোগ বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতাকে দৃঢ় করবে।

নিউইয়র্ক সিটির নতুন মেয়র জোহরান মামদানির ট্রানজিশন টিমে বাংলাদেশিদের এই ভূমিকা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রবাসী কমিউনিটির স্বীকৃতি ও মর্যাদা বৃদ্ধি করবে। পাশাপাশি এটি দেখাবে যে, প্রবাসী বাংলাদেশিরাও দেশের বাইরে সমাজ ও প্রশাসন উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারা জানিয়েছেন, এই সম্মিলিত উপস্থিতি তাদের জন্য গর্বের বিষয়। এটি প্রমাণ করছে যে, দক্ষতা, নেতৃত্ব ও সমাজসেবার মাধ্যমে প্রবাসী কমিউনিটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রভাবশালী হতে পারে। ট্রানজিশন টিমে তাদের অন্তর্ভুক্তি ভবিষ্যতের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

নিউইয়র্ক সিটির ট্রানজিশন টিমে বাংলাদেশের ১০ জনের এই ভূমিকা শুধু রাজনৈতিক নয়, মানবিক, সামাজিক ও শিক্ষাগত ক্ষেত্রে প্রবাসী সম্প্রদায়ের জন্য এক নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি তাদের প্রভাবকে দৃঢ় করার পাশাপাশি বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের পরিচয়কে আরও দৃশ্যমান করে তুলেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত