প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশ পুলিশের পদায়ন ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে পুলিশ সুপারদের মতোই ওসিদের (অধিনায়ক সহকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের) বিভিন্ন জেলায় বদলি লটারির মাধ্যমে করা হবে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এডিপি (অগ্রাধিকার ভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্প) পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “ওসিদের পদায়নেও এখন লটারির ব্যবস্থার মাধ্যমে যাবতীয় নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে। এর ফলে মেধাবী কর্মকর্তাদের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না।”
উপদেষ্টা জানান, বর্তমানে দেশের ৬৪ জেলার পুলিশ সুপারদের মধ্যে পূর্বে ১৮ জনকে সরানো হয়েছিল। এ পদায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুনভাবে তাদের জায়গায় নিয়োগ দেয়া হয়েছে এবং বাকি জেলারও দায়িত্ব লটারির মাধ্যমে ভাগ করা হবে। এই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো দুর্নীতিমুক্ত ও ন্যায়সঙ্গত প্রশাসন নিশ্চিত করা। জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “লটারির মাধ্যমে বদলির ক্ষেত্রে কোন প্রকার পক্ষপাতিত্ব থাকবে না। মেধাবী কর্মকর্তারা অবশ্যই উপযুক্ত স্থান পাবে, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।”
তিনি আরও বলেন, এই ব্যবস্থা শুধুমাত্র পুলিশ সুপার এবং ওসিদের জন্য নয়, বরং দেশের পুলিশ প্রশাসনের মান উন্নয়নের একটি অংশ। দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন জেলার পদায়ন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং রাজনৈতিক চাপের অভিযোগ থাকলেও, লটারির মাধ্যমে বদলি নিশ্চিত হলে সেই ধরনের অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। এটি শুধু প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নয়, বরং জনগণের প্রতি পুলিশের আস্থা বৃদ্ধিরও এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এ সময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা দুর্নীতির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি রয়েছে। এটি শুধুমাত্র পুলিশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, আমাদের পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থায় এটি বিরাজ করছে। তবে সরকার সর্বদা দুর্নীতি হ্রাসে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা চাই, সমাজে কোনো জায়গাতেই কেউ দুর্নীতির খেলা চালাতে না পারে।” তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, “যেমন সড়কে চাঁদাবাজি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি, তবে এটি কমানোর জন্য সক্রিয়ভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হলো জনগণ যেন নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আস্থা রাখতে পারে।”
পুলিশ প্রশাসনে এই ধরনের পদক্ষেপ শুধু আধিকারিকদের জন্য নয়, সাধারণ মানুষের জন্যও সুফল বয়ে আনবে। লটারির মাধ্যমে বদলি নিশ্চিত হলে রাজনৈতিক প্রভাব ও অন্যরকম চাপ কমবে। এতে পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের দায়িত্ব সৎভাবে পালন করতে পারবে এবং জনগণ পুলিশের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পাবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে পেশাদারিত্ব এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে।
এডিপি পর্যালোচনা সভায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পুলিশ প্রশাসনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, লটারির মাধ্যমে বদলি কেবল পদায়ন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করবে না, বরং কর্মকর্তাদের মধ্যে নৈতিক মান ও দায়িত্ববোধও বাড়াবে। তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা চাই, পুলিশ শুধুমাত্র আইন প্রয়োগকারী বাহিনী হিসেবে নয়, জনগণের বন্ধু হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হোক। এর জন্য কর্মকর্তাদের সততা, যোগ্যতা এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত পদায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। লটারির মাধ্যমে বদলি ব্যবস্থা এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে নেয়া হয়েছে। এতে রাজনৈতিক প্রভাব ও অনিয়ম থেকে কর্মকর্তা মুক্ত থাকবেন, এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। বিশেষ করে ওসিদের মতো মধ্যপর্যায় কর্মকর্তাদের জন্য এটি নতুন একটি উদাহরণ তৈরি করবে, যেখান থেকে অন্য সকল স্তরের কর্মকর্তারা অনুপ্রাণিত হবেন।
সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া অনুসারে, এই পদক্ষেপকে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, দেশের পুলিশ প্রশাসনে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পেলে সাধারণ জনগণের সুরক্ষা, সড়কে নিরাপত্তা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে। লটারির মাধ্যমে বদলির ফলে যেকোনো প্রকার অনৈতিক প্রভাব থেকে কর্মকর্তা মুক্ত থাকবেন, যা জনগণের জন্য আশা জাগানিয়া।
এছাড়া স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানিয়েছেন, পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে এমন পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতেও লটারির মাধ্যমে পদায়ন নিশ্চিত করা হবে এবং অন্যান্য প্রশাসনিক স্তরেও স্বচ্ছতা বজায় রাখার চেষ্টা করা হবে। তিনি বলেন, “আমরা চাই, দেশব্যাপী প্রতিটি জেলা এবং থানার দায়িত্বপূর্ণ কর্মকর্তা তাদের সৎ ও যোগ্যতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করুক, যাতে জনগণ নিরাপদে জীবনযাপন করতে পারে।”
সংক্ষেপে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর ঘোষিত লটারির মাধ্যমে ওসিদের বদলির সিদ্ধান্ত শুধু প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে না, বরং এটি পুলিশের মান ও সাধারণ মানুষের আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যস্থতাকারী কর্মকর্তা এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহযোগিতা আরও দৃঢ় করবে।