ভারত শান্তি চায়, কিন্তু সীমান্তে কোনো ছাড় নেই: মোদি

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪১ বার
ভারত শান্তি চায়, কিন্তু সীমান্তে কোনো ছাড় নেই: মোদি

প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে স্পষ্টভাবে বলেছেন, তার দেশ শান্তি চায়, তবে সীমান্ত বা জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। দেশের স্বার্থ রক্ষার বিষয়ে তিনি দৃঢ় অবস্থান গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন এবং বলেন, ভারত সন্ত্রাসবাদের কাছে কখনো নতি স্বীকার করবে না। এই মন্তব্য তিনি নবম শিখ গুরু গুরু তেগ বাহাদুরের ৩৫০তম শহীদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রদান করেন।

মোদি তাঁর বক্তব্যে বিশেষভাবে ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তার গুরুত্বকে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা শান্তি চাই, কিন্তু আমাদের সীমান্তের নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থান অটল। ভারত ভয় পায় না, থামে না এবং নতি স্বীকার করে না।’ প্রধানমন্ত্রী মোদির এই মন্তব্য দেশের সামরিক ও কূটনৈতিক নীতি সম্পর্কে স্পষ্ট বার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে।

তিনি তার বক্তৃতায় ‘অপারেশন সিন্দুর’ সম্পর্কেও উল্লেখ করেন এবং এটি প্রশংসা করেন। মোদি জানান, পেহেলগাম সন্ত্রাসী হামলার প্রতিশোধ হিসেবে পাকিস্তানে চালানো ওই সামরিক অভিযান ভারতের দেশের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য অপরিহার্য ছিল। যদিও মার্কিন এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই যুদ্ধে ভারত সামরিকভাবে পরাজিত হয়, মোদি এ বিষয়ে কোনো শঙ্কা প্রকাশ না করে তাঁর দেশের সাহস, প্রস্তুতি এবং সামর্থ্যের ওপর জোর দেন।

মোদি বলেন, আজকের ভারত শুধুমাত্র শক্তিশালী সামরিক ক্ষমতার জন্য নয়, বরং সাহস, স্পষ্টতা এবং ন্যায়সঙ্গত অবস্থান রাখার জন্য বিশ্বের দরবারে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো দেশকে শান্তি এবং স্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে নেওয়া, তবে দেশের সুরক্ষা এবং জনগণের নিরাপত্তা হুমকির মুখে কোনো আপস করা হবে না।’

শিখ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বেও মোদি বিশেষভাবে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, আফগানিস্তান থেকে গুরু গ্রন্থ সাহিবের তিনটি প্রাচীন সংস্করণ ভারতে পৌঁছানো ছিল ভারতের জন্য এক গর্বের মুহূর্ত। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ শিখ সম্প্রদায়ের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে ভারতের একাগ্রতা ও সংযোগকে আরও দৃঢ় করেছে। মোদি জানান, তার সরকার ধারাবাহিকভাবে শিখ ঐতিহ্য রক্ষা, উদযাপন এবং দেশের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদি আরও বলেন, ভারতের জন্য সীমান্তের নিরাপত্তা কেবল একটি সামরিক বিষয় নয়, এটি দেশের অর্থনীতি, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং জনগণের স্বাভাবিক জীবনধারার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। সীমান্তে কোনো ধরনের অবহেলা, নীতি-অবহিত বা দমনমূলক পদক্ষেপ দেশের সার্বভৌমত্বকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। তিনি বলেন, ভারত প্রতিনিয়ত তার সীমান্তে নজরদারি, আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি প্রয়োগ এবং কৌশলগত প্রস্তুতি গ্রহণ করছে যাতে দেশের সীমান্ত নিরাপদ থাকে এবং সন্ত্রাসবাদ ও অপরাধমূলক কার্যক্রম রুখে দেওয়া যায়।

মোদি তাঁর বক্তৃতায় কেবল সামরিক ও রাজনৈতিক ইস্যুই উল্লেখ করেননি; তিনি ভারতের মানবিক এবং সাংস্কৃতিক দিকগুলোকেও গুরুত্ব দিয়েছেন। শিখ সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংযোগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের ইতিহাসকে মনে রাখি, আমাদের সংস্কৃতিকে সম্মান করি এবং আমাদের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে ভাগ করি।’ তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে, ভারত কেবল শক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং সংহতি, সংস্কৃতি এবং মানুষের আস্থা বজায় রাখার মধ্য দিয়েও নিজের অবস্থান শক্তিশালী করছে।

বিশেষভাবে সীমান্ত ইস্যুতে মোদির এই অবস্থান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নরেন্দ্র মোদির স্থির মনোভাব ভারতের রাজনৈতিক দৃঢ়তা এবং দেশের স্বার্থ রক্ষার অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করছে। তিনি জানান, ‘ভারত কখনো ভীত হবে না, থেমে থাকবে না, এবং নতি স্বীকার করবে না। আমাদের নীতি হলো দেশের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখা, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ অনুসরণ করা।’

মোদি বলেন, ভারতের সামরিক সক্ষমতা এবং নীতি-নির্ধারণের মধ্যে সমন্বয় রয়েছে। এটি দেশকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সক্ষম করে এবং সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। তিনি দেশের জনগণকে আশ্বস্ত করেছেন যে, যেকোনো আক্রমণ বা হুমকির বিরুদ্ধে ভারত প্রস্তুত এবং তার প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ সময়মতো গ্রহণ করবে।

শেষে প্রধানমন্ত্রী মোদি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের স্থিতিশীল, সাহসী এবং স্পষ্ট অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো শান্তি প্রতিষ্ঠা করা, তবে তা কখনো দেশের সুরক্ষা ও মানুষের জীবনের মূল্য হ্রাস করার মাধ্যমে হবে না। ভারত সবসময় শক্তি, নীতি এবং ন্যায়ের সঙ্গে এগিয়ে চলবে।’

সার্বিকভাবে, মোদির বক্তব্য শুধু ভারতের সীমান্ত নীতি নয়, বরং দেশের সাংস্কৃতিক, আধ্যাত্মিক এবং মানবিক দিকগুলোর গুরুত্বকেও তুলে ধরেছে। এটি একটি শক্তিশালী বার্তা পাঠিয়েছে যে, ভারত শান্তিপ্রিয় হলেও নিজের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় কোনো ছাড় দিতে প্রস্তুত নয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত