প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০২৫, বুধবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ বুধবার আদেশ দিয়েছেন সাবেক ডিবি প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ এবং সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের স্ত্রী জীশান মির্জা ও কন্যা তাহসীন রাইসা বিনতে বেনজীরের আয়কর নথি জব্দ করার। আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এই আদেশ দুদকের পৃথক তিনটি আবেদনের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। দুদকের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন তিনজনের আয়কর নথি সরবরাহ চেয়ে আবেদন করেছিলেন। আদালত নথি জব্দের নির্দেশ দিয়ে জানিয়েছে যে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর রিটার্ন এবং আর্থিক নথিপত্র পর্যালোচনা করা একান্ত প্রয়োজন।
হারুন অর রশিদের ক্ষেত্রে অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি সরকারি ক্ষমতা অপব্যবহার করে ১৭ কোটি ৫১ লাখ ১৭ হাজার ৮০৬ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। বেনজীরের স্ত্রী জীশান মির্জা মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রায় ১৬ কোটি এক লাখ ৭১ হাজার ৩৩৬ টাকার সম্পদের উৎস গোপন করেছেন এবং ৩১ কোটি ৬৯ লাখ ৫৫ হাজার ১৪৯ টাকার মূল্যমানের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ দখলে রেখেছেন। তাহসীন রাইসা প্রায় ৫ কোটি ৫৯ লাখ ৫৫ হাজার ৮৫ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আছেন।
আদালতের নির্দেশে বলা হয়েছে যে এই নথি জব্দের মাধ্যমে আয় ও সম্পদের উৎস যাচাই করা হবে এবং সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত হবে। আদালতের এই পদক্ষেপ উচ্চ পদে থাকা কর্মকর্তাদের আর্থিক স্বচ্ছতার গুরুত্ব তুলে ধরে।
এই ধরনের পদক্ষেপ দেশের বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যদি তদন্তে প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। অন্যদিকে, প্রমাণ না পাওয়া গেলে আদালত বা তদন্তকারীরা নিষ্কৃতকার্যের সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেন।
পাঠকের জন্য বিষয়টি গুরুত্বের দাবি রাখে, কারণ এটি দেখায় যে ক্ষমতার অপব্যবহার, সম্পদ গোপন এবং কর ফাঁকির মতো বিষয়গুলো সমাজে সময়মতো উন্মোচিত এবং সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। একে দেশের আর্থিক ও সামাজিক স্বার্থ রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে।