পূর্বাচল প্লট দুর্নীতি মামলায় হাসিনা–জয়–পুতুলসহ ২৩ আসামির রায় আজ

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৬৭ বার
পূর্বাচল প্লট দুর্নীতি মামলায় হাসিনা–জয়–পুতুলসহ ২৩ আসামির রায় আজ

প্রকাশ: ২৭ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা তিনটি পৃথক মামলার রায় আজ বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে। মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল)–সহ মোট ২৩ জন এই মামলার আসামি। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে এই প্রথম কোনো মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারিত হয়েছে।

আজ দুপুরে ঢাকার পাঁচ নম্বর বিশেষ জজ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে রায় ঘোষণার কথা রয়েছে। এর আগে গত ২৩ নভেম্বর বিচারক মামলাগুলোর যুক্তিতর্ক শেষে ২৭ নভেম্বর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। তবে মামলার ২৩ আসামির মধ্যে শেখ হাসিনাসহ ২২ জন পলাতক থাকায় তাদের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ হয়নি। শুধু একজন আসামি—রাজউকের সাবেক কর্মকর্তা মোহাম্মদ খুরশীদ আলম—কারাগারে আছেন এবং তিনিই একমাত্র যিনি আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পেয়েছেন।

দুদকের কৌঁসুলি খান মাইনুল হাসান (লিপন) বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতার অপব্যবহার করে কন্যা সায়মা ওয়াজেদের আবদার পূরণে রাজউক থেকে প্লট বরাদ্দ নেন। সাক্ষীদের জবানবন্দি ও নথিপত্রের মাধ্যমে এই দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ করা সম্ভব হয়েছে বলেই দুদকের দাবি। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর আশা, শেখ হাসিনাসহ যাবতীয় আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি—যাবজ্জীবন কারাদণ্ড—ঘোষণা করা হতে পারে।

অন্যদিকে মামলায় একমাত্র হাজির থাকা আসামি খুরশীদ আলমের আইনজীবী মো. শাহিনুর ইসলাম বলেন, তার মক্কেল কোনোভাবেই প্লট বরাদ্দে প্রভাব বিস্তারে জড়িত ছিলেন না। বরং তৎকালীন নির্দেশনা অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক কাজ করতেই তিনি বাধ্য ছিলেন। কোনো প্রকার ব্যক্তিগত সুবিধা বা লাভ তিনি নেননি। তাই ন্যায়বিচার পেলে তিনি খালাস পাবেন বলে আশা করছেন।

আদালত সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে দুর্নীতি দমন কমিশন পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ অনিয়মের অভিযোগে ছয়টি মামলা করে। সেখানে শেখ হাসিনাসহ তার পরিবারের সদস্য—সজীব ওয়াজেদ জয়, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, শেখ রেহানা, টিউলিপ রিজওয়ান সিদ্দিক, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিক—প্রতিটি মামলায় আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। শেখ পরিবার ছাড়াও তখনকার সরকারি বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান ও সদস্যরা এই মামলার আসামির তালিকায় রয়েছেন।

মামলাগুলোর তদন্তে দুদক দাবি করে, সরকারপ্রধানের পদে থাকাকালে শেখ হাসিনা ও তার পরিবার তাদের প্রভাব ও ক্ষমতা ব্যবহার করে রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরে অযোগ্য হয়েও ১০ কাঠা করে মোট ছয়টি প্লট বরাদ্দ নেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, বিশেষ সুবিধা ও নির্দেশনার মাধ্যমে নিয়মবহির্ভূত দ্রুততার সঙ্গে এসব প্লট বরাদ্দের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

প্রতিটি মামলায় দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ৩১ জুলাই ঢাকার পাঁচ নম্বর বিশেষ জজ আব্দুল্লাহ আল মামুন তিনটি মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করেন। এরপর চার মাসের বিচার প্রক্রিয়ায় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে মোট ৯১ জন সাক্ষী জবানবন্দি দেন। সাক্ষ্যগ্রহণের শেষ পর্যায়ে এসে কারাবন্দি খুরশীদ আলম আত্মসমর্পণ করেন এবং তার আবেদন অনুযায়ী আদালত পূর্বে সাক্ষ্য দেওয়া সাক্ষীদের পুনরায় হাজির করে জেরা করার সুযোগ দেন।

২৩ নভেম্বর আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্যে খুরশীদ আলম নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তবে পলাতক থাকায় শেখ হাসিনা, জয়, পুতুল ও অন্যান্য আসামি এই সুযোগ পাননি। যুক্তিতর্ক শেষে বিচারক রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন আজকের জন্য।

এদিকে একই অভিযোগে দায়ের করা বাকি তিনটি মামলা বর্তমানে ঢাকার চার নম্বর বিশেষ জজ রবিউল আলমের আদালতে বিচারাধীন আছে। ওই মামলাগুলোর একটিতে রায় ঘোষণার দিন নির্ধারিত হয়েছে আগামী ১ ডিসেম্বর। সেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা ও রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিকসহ ১৭ আসামি বিচারাধীন। এছাড়া রেহানার সন্তান রাদওয়ান ও আজমিনার বিরুদ্ধে পৃথক দুই মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।

পূর্বাচল প্লট বরাদ্দ—যা একসময় উন্নয়নমূলক প্রকল্প হিসেবে আলোচিত ছিল—এখন দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে এটি প্রথম রায় হতে যাচ্ছে। তাই রাজনৈতিক মহল, প্রশাসনসহ সাধারণ মানুষও আজকের রায়কে ঘিরে দারুণভাবে আগ্রহী।

দুদক, সিআইসি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তারা মনে করছেন, আজকের এই রায় দুর্নীতিবিরোধী সামগ্রিক প্রচেষ্টায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। অন্যদিকে আইনজীবীদের একাংশ বলছেন, রায় যাই হোক, এটি বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।

আজ দুপুরে আদালত রায় পড়া শুরু করলে জানা যাবে—দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয় কি না, এবং এই বহুল আলোচিত মামলার পরিণতি কোন পথে যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com