কালনী এক্সপ্রেস ইঞ্জিন বিকলে, দুই ঘণ্টা যাত্রীরা আটকা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৫ বার
কালনী এক্সপ্রেস ইঞ্জিন বিকলে, দুই ঘণ্টা যাত্রীরা আটকা

প্রকাশ: ২৭ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকামুখী কালনী এক্সপ্রেসের যাত্রীরা বৃহস্পতিবার সকালে সিলেট থেকে ঢাকা যাচ্ছিলেন, কিন্তু মাধবপুরের ইটাখোলা স্টেশনের কাছে ট্রেনের ইঞ্জিন হঠাৎ বিকল হয়ে যাওয়ায় প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে তারা ভোগান্তিতে পড়েন। সকাল ১০টার দিকে এই ঘটনাটি ঘটে। যাত্রীদের অভিযোগ, ট্রেনটি হঠাৎ থেমে যাওয়ার পর অনেকেই উদ্বিগ্ন ও হতাশ হয়ে পড়েন। ছোটখাটো বাচ্চা, বৃদ্ধ ও বিভিন্ন বয়সী যাত্রীরা দীর্ঘক্ষণ ট্রেনের কামরায় আটকে থাকেন, যেখানে বায়ুচলাচল সীমিত ছিল এবং অপেক্ষার সময় খাবার বা পানির মতো কোনো সুবিধা ছিল না।

নোয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. মনির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ইটাখোলা স্টেশনের কাছে কালনী এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেছে। আমরা অবিলম্বে আখাউড়া থেকে একটি উদ্ধারকারী ট্রেন পাঠিয়েছি। আশা করা যাচ্ছে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।”

যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই ধরনের ভোগান্তি তাদের জন্য নতুন কিছু নয়। ট্রেনের যাত্রীরা বলছেন, পূর্বের মতো সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ না থাকার কারণে মাঝে মাঝে এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। এদিনও অনেক যাত্রী সময়মতো অফিস বা গুরুত্বপূর্ণ কাজে পৌঁছানোর জন্য প্রতীক্ষা করছিলেন। ইঞ্জিন বিকল হওয়ায় তাদের দিন-রাতের পরিকল্পনা ব্যাহত হয়। অনেকে ভেবেছিলেন, হয়তো দীর্ঘ সময় ধরে স্টেশনে আটকে থাকতে হবে।

যাত্রীদের মধ্যে বাচ্চাসহ পরিবারের সঙ্গে সফরে আসা এক মহিলা বলেন, “আমরা সকাল ৭টায় সিলেট থেকে ট্রেনে উঠেছিলাম। ইঞ্জিন বিকল হওয়ার পর পুরো পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ছোটদের সঙ্গে থাকা পরিবারগুলো বেশি সমস্যায় পড়ে। কেউ জানত না, আমাদের কতক্ষণ ধরে এখানেই অপেক্ষা করতে হবে।”

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়, উদ্ধারকারী ট্রেন পৌঁছানোর পর ইঞ্জিনটিকে ট্র্যাক থেকে সরিয়ে নতুন ইঞ্জিনের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। এরপর ট্রেনটি যাত্রা পুনরায় শুরু করতে পারবে। রেলওয়ে কর্মকর্তারা আরও বলেন, “যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখার জন্য আমরা স্টেশনে অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েন করেছি। এছাড়া ট্রেনের যাত্রীদের জন্য খাবার ও পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

সিলেট থেকে ঢাকামুখী বিভিন্ন ট্রেনের যাত্রীরা নিয়মিত এই ধরনের পরিস্থিতির শিকার হন। রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ইঞ্জিন বিকলের কারণ হল যান্ত্রিক ত্রুটি। তবে তারা পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন যে, এটি রক্ষণাবেক্ষণজনিত সমস্যা নাকি অন্য কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ঘটেছে।

যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, এই ধরনের দুর্ঘটনার জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পূর্বসতর্কতা অপর্যাপ্ত। কিছু যাত্রী বলেন, “যদি ট্রেনে আধুনিক সিগন্যালিং বা ব্যাকআপ ইঞ্জিনের ব্যবস্থা থাকত, তবে হয়তো এমন দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হতো না। আমরা চাই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এই ধরনের ঘটনায় আগাম ব্যবস্থা নিক।”

মাধবপুরের স্থানীয়রা বলেন, “ইটাখোলা স্টেশনের কাছে এই ধরনের সমস্যার ঘটনা মাঝে মাঝে ঘটে। তবে আজকের ঘটনা ছিল অত্যন্ত ভোগান্তিকর। সকাল থেকেই ট্রেনের কামরায় যাত্রীরা উদ্বিগ্ন ও হতাশ ছিলেন। আমরা আশ্চর্য হচ্ছিলাম যে রেলওয়ে কত দ্রুত উদ্ধারকারী ট্রেন পাঠাবে।”

ঘটনার প্রভাব শুধু যাত্রীদের ওপরই সীমিত থাকেনি। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, ট্রেনের আটকে থাকার কারণে তাদের স্টেশনের আশেপাশের দোকানপাটে অপ্রত্যাশিত চাপ পড়েছে। কিছু দোকানপাটে দ্রুত খাবার ও পানি সরবরাহের ব্যস্ততা দেখা দেয়, যা প্রাথমিকভাবে পরিকল্পিত ছিল না।

রেলওয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “কালনী এক্সপ্রেসের মতো গুরুত্বপূর্ণ দূরপাল্লার ট্রেনে যান্ত্রিক ত্রুটি অস্বাভাবিক নয়, তবে এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের জন্য দ্রুত নিরাপত্তা ও সহায়তার ব্যবস্থা অপরিহার্য। এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধের জন্য নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং জরুরি ব্যাকআপ ইঞ্জিনের ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

প্রত্যক্ষদর্শী ও যাত্রীদের মতে, দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারী ট্রেনের আসা দেরি হওয়ায় যাত্রীরা কিছুটা আতঙ্কিত ছিলেন। তবে যখন রেলওয়ে কর্মীরা উপস্থিত হন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন, তখন অনেকেই কিছুটা স্বস্তি পান।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন এক যাত্রী, “দুই ঘণ্টার জন্য ট্রেনে আটকে থাকা মানে শুধু সময়ের অপচয় নয়, বরং মানসিক চাপও অনেক। আমরা আশা করি, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।”

পরিশেষে, কালনী এক্সপ্রেসের যাত্রীরা উদ্ধারকারী ট্রেনের সহায়তায় আবার যাত্রা শুরু করতে সক্ষম হন। তবে এ ঘটনায় পুনরায় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ দূরপাল্লার ট্রেনগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি যথাযথ কি না।

রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, “আমরা সকল যাত্রীকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করব। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য সকল ইঞ্জিনের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও জরুরি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।”

এই ঘটনায় স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য রক্ষা করা এবং অব্যাহত ট্রেন পরিষেবা নিশ্চিত করা দেশের রেলপরিষেবার জন্য অত্যন্ত জরুরি। একদিকে যাত্রীরা দুশ্চিন্তা ও ভোগান্তি বোধ করলেও, অন্যদিকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষও এ ধরনের পরিস্থিতি প্রতিরোধে নতুন কৌশল ও পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত