প্রকাশ: ২৭ নভেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
প্রাতঃরাশের আগে কিছুক্ষণ রোদে দাঁড়ানো হয়তো অনেকের কাছে তুচ্ছ মনে হতে পারে, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সকালে দেরি করে ওঠা শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন-ডি তৈরির প্রক্রিয়ায় বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। সকালে সূর্যালোকের সরাসরি সংস্পর্শ ত্বকে ভিটামিন-ডি সংশ্লেষণ করতে সাহায্য করে। এই হরমোন জাতীয় উপাদান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, হাড়ের স্বাস্থ্য, মুড এবং বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনেক সময় সপ্তাহের ব্যস্ত সময় কাটানোর পর দেরিতে ঘুম থেকে ওঠার ইচ্ছে হয়। তবে নিয়মিতভাবে সকালে ওঠার সময় এড়িয়ে গেলে শরীরের একটি অত্যাবশ্যক পুষ্টি উপাদান নীরবে কমে যেতে পারে। ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. প্রদীপ নারায়ণ সাহু বলেন, “সকালে সূর্য না দেখলে ভিটামিন-ডি সংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় ইউভিবি রশ্মির যথাযথ মাত্রা পাওয়া যায় না। দিনের পরের দিকে সূর্য উজ্জ্বল হলেও ইউভিবির ভারসাম্য কম থাকে। ফলে ত্বকে ভিটামিন-ডি তৈরির ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।”

ভিটামিন-ডি ঘাটতির প্রভাব শুধু হাড়ের ক্ষয়েই সীমাবদ্ধ থাকে না। ক্লান্তি, মুড ফ্লাকচুয়েশন, ব্রেন ফগ, ত্বকের শুষ্কতা, চুল ভঙ্গুরতা এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার হ্রাস—এসবই সাধারণ উপসর্গ। নিউট্রিশনিস্ট আদিতি প্রসাদ আপ্ত বলেন, ভিটামিন-ডি স্বাভাবিকভাবে তৈরির সবচেয়ে কার্যকর সময় সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টার মধ্যে। এই সময় ইউভিবি রশ্মি তীব্র এবং ছায়ার পরিমাণ কম থাকে। শীতকালে দিনের আলো কম থাকায় সমস্যা আরও প্রকট হয়।
দেরিতে ওঠার ফলে শুধু ভিটামিন-ডি নয়, সার্কাডিয়ান রিদম বা শরীরের জৈবিক ঘড়িও বিঘ্নিত হয়। এর ফলে কম শক্তি, ক্লান্তি, খারাপ মুড এবং ধীরে পেশি পুনরুদ্ধার—এসব সমস্যা দেখা দেয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত সকালবেলার সূর্যালোকের সংস্পর্শ এবং সুষম খাদ্য শিশু থেকে বড় সব বয়সের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভিটামিন-ডি স্বাভাবিকভাবে বাড়ানোর জন্য বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন। ঘুম থেকে ওঠার কিছুক্ষণ পর অন্তত ১০-১৫ মিনিট বাইরে রোদে থাকা, খাদ্যতালিকায় ফর্টিফায়েড দুধ-দই, ডিম এবং ফ্যাটি ফিশ রাখা, প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা, এবং প্রতিদিন নির্দিষ্ট ঘুম জাগার রুটিন বজায় রাখা। এসব অভ্যাস রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, হাড়ের শক্তি, শক্তির মাত্রা এবং মুডকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।
দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততার কারণে দেরিতে ওঠা অনেকের জন্য স্বাভাবিক মনে হলেও, দীর্ঘমেয়াদে এটি সূর্যালোকের সংস্পর্শ কমিয়ে দেয় এবং শরীরের ভিটামিন-ডি তৈরির ক্ষমতাকে হ্রাস করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সকালে নিয়মিত ওঠা, রোদ নেওয়া এবং সুষম খাদ্য বজায় রাখলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, হাড় শক্ত থাকে এবং মন ও শরীর উভয়ই সচল থাকে।
অতএব, একটি সুস্থ জীবনধারা বজায় রাখতে সকালবেলার রোদ এবং সুষম খাদ্যকে গুরুত্ব দিতে হবে। শরীরের ভিটামিন-ডি মাত্রা ঠিক রাখার মাধ্যমে শুধু হাড় নয়, মন, মুড এবং সামগ্রিক শক্তি ও স্বাস্থ্যও সুস্থ থাকে।