শিবগঞ্জ সীমান্তে দুই বাংলাদেশিকে হত্যার অভিযোগ বিএসএফের বিরুদ্ধে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬৬ বার
দুই বাংলাদেশিকে পিটিয়ে হত্যার পর পদ্মায় ফেললো বিএসএফ

প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ওয়াহেদপুর সীমান্তে দুই বাংলাদেশিকে পিটিয়ে হত্যা করে লাশ পদ্মা নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফের বিরুদ্ধে। রোববার রাত দু’টার দিকে আন্তর্জাতিক পিলার ৭৬ থেকে ৭৭ নম্বরের মাঝামাঝি এলাকায় এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

স্থানীয় সূত্র তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের সময় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ৪ থেকে ৫ জনের একটি ব্যবসায়ী দল সীমান্ত এলাকায় গরু আনতে যায়। এ সময় বিএসএফের সদস্যরা দুই যুবককে বেধড়ক মারধর করে এবং পরে পদ্মা নদীতে ফেলে দেয়। নিহতরা হলেন শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়নের গাইপাড়া গ্রামের মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে ইব্রাহিম রিংকু (২৮) এবং পাঁকা ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামের আমিনুল ইসলামের ছেলে মমিন মিয়া (২৯)।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, পালিয়ে ফিরে আসা দুই ব্যবসায়ীর বর্ণনা অনুযায়ী মমিন ও রিংকুকে পিটিয়ে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। পাঁকা ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ড সদস্য রফিক উদ্দিনও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে হত্যাকাণ্ডের পর পরিবারের সদস্যরা আইনি জটিলতা ও হয়রানির ভয়ে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপটে ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের খবর শুনেছেন এবং ইতোমধ্যে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তবে বিজিবির পক্ষ থেকে এখনও কোনো চূড়ান্ত বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।

এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকার সাধারণ জনগণ ও স্থানীয় ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর আতঙ্ক বিরাজ করছে। সীমান্ত এলাকায় ব্যবসা করা এবং কৃষিজমিতে কর্মরতদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, সীমান্ত এলাকায় এমন ঘটনা নতুন নয়, তবে এবার হত্যাকাণ্ডের পর লাশ পদ্মা নদীতে ফেলে দেওয়া ঘটনাটি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক।

রাজনৈতিক ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সীমান্ত এলাকায় আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি ও মানবাধিকার সংরক্ষণের দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়া অত্যন্ত গুরুতর এবং তা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনার সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে। তারা আরও বলেছেন, নিহতদের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।

স্থানীয় প্রশাসন ও বিজিবি সীমান্ত এলাকায় পর্যবেক্ষণ বৃদ্ধি করলেও সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মনে নিরাপত্তাহীনতার বোধ রয়েছে। সীমান্তে নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে চলাচল ও ব্যবসা করার ক্ষেত্রে আতঙ্ক বিরাজ করছে। হত্যাকাণ্ডের পর পরিবার ও স্থানীয়রা এখনও শোকের মধ্যে আছে এবং তারা ন্যায়বিচারের জন্য সাড়া আশা করছেন।

এই ঘটনার মাধ্যমে সীমান্ত এলাকা, বিশেষ করে শিবগঞ্জের ওয়াহেদপুরের মতো সীমান্ত অঞ্চলগুলোতে সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাস্তব চ্যালেঞ্জ ও সীমান্ত রক্ষী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকার উপর নতুন প্রশ্ন উঠেছে। সমাজ, মানবাধিকার সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বিষয়টি গভীর মনোযোগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দ্রুত তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন। তারা চান, যেন এমন হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং সীমান্তে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও কৃষকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।

এই হত্যাকাণ্ড শুধু স্থানীয় জনগণের মধ্যে নয়, জাতীয় পর্যায়েও মানবিক ও রাজনৈতিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। নিহতদের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার, সীমান্ত নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এখন সময়োপযোগী এবং জরুরি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত