৪ বছর পর ভারত সফরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১১৬ বার
৪ বছর পর ভারত সফরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দীর্ঘ চার বছর পর আবারও ভারত সফরে আসছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান ভ্লাদিমির পুতিন। আগামী বৃহস্পতিবার দু’দিনের সংক্ষিপ্ত সফরে নয়াদিল্লিতে পৌঁছান তিনি এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় অংশ নেবেন। এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো রাশিয়া ও ভারতের বানিজ্যিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা খাতে চুক্তি, গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ, মিসাইল সিস্টেম এবং ফাইটার জেট ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত আলোচনা এ সফরে প্রধান আলোচ্য বিষয়।

ভারতীয় বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সামরিক ও কৌশলগত ক্ষেত্রে রাশিয়া ভারতের দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরযোগ্য সহযোগী। জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অমিতাভ সিং বলেন, “ভারতের অস্ত্র ও প্রযুক্তি নির্ভরতার ক্ষেত্রে রাশিয়া গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন শুল্কের হুঁশিয়ারি থাকলেও অস্ত্র ক্রয়ে ভারত রাশিয়াকে বাদ দেবে এমন নয়।”

তবে এ সফরের পথে প্রধান বাধা হিসেবে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা। ইউক্রেনে যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার উপর আরোপিত সীমাবদ্ধতা ও ভারতের রাশিয়া থেকে তেল আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি দমাচ্ছে না ভারতকে। গত আগস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের উপর অন্তত ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন। তবুও ভারতের এবং রাশিয়ার দ্বিপাক্ষিক নির্ভরশীলতা এতে প্রভাবিত হয়নি।

ভারতের বিমান বাহিনীর অন্যতম শক্তি রাশিয়া নির্মিত সুখোই থার্টি ফাইটার জেট। এবার রাশিয়া ভারতের কাছে তাদের সর্বাধুনিক এস ইউ-৫৭ ক্রয়ের প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে ভারত এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।

২৩তম ভারত-রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে পুতিন নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনায় বসবেন। রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে থাকবেন দেশটির প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান জাইবারবাঙ্কের প্রতিনিধিরা। এছাড়াও আলোচনায় অংশ নেবেন রাশিয়ার বিভিন্ন অস্ত্র রপ্তানীকারী সংস্থার কর্মকর্তারা এবং নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত দুটি জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীরা।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ সফর কেবল প্রতিরক্ষা বা অর্থনীতিতে নয়, ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়া ও ভারতের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং স্ট্র্যাটেজিক অংশীদারিত্ব উন্নয়নের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

উভয় পক্ষই আশা করছে, এই সফরের মাধ্যমে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা চুক্তি, জ্বালানি ও প্রযুক্তি সংক্রান্ত সমঝোতা হবে। এছাড়া উভয় দেশই এই সম্পর্কের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়া ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাদের কৌশলগত অবস্থান শক্ত করার লক্ষ্য রাখছে।

ভারতের বিদেশনীতি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে ভারত কৌশলগত ভারসাম্য নিশ্চিত করতে পারছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা বিষয়ক চাপও বিবেচনা করতে হবে।”

সফরের সময় পুতিন-মোদি আলোচনায় থাকবে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বানিজ্য চুক্তি, নতুন সম্ভাব্য বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা সামগ্রী ক্রয়-বিক্রয়, জ্বালানি সরবরাহ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, এবং স্ট্র্যাটেজিক অংশীদারিত্ব। এতে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আরও গভীরতা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই সফর ভারত ও রাশিয়ার দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের ওপর একটি নতুন দিক নির্ধারণ করবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাশিয়া ভারতকে নির্ভরযোগ্য প্রতিরক্ষা সরবরাহকারী হিসেবে দেখতে চায় এবং ভারতও নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী।

সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা আরও দৃঢ় হবে। এছাড়াও আন্তর্জাতিক স্তরে ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্কের গুরুত্ব এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের প্রভাব স্পষ্ট হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com