ঢাকা-কক্সবাজার রুটে মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রা শুরু

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২ বার
ঢাকা-কক্সবাজার রুটে মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রা শুরু

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকা থেকে পর্যটননগরী কক্সবাজারে যাতায়াত আরও সহজ করতে আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে এই রুটে চলাচল শুরু করতে যাচ্ছে মহানগর এক্সপ্রেস। নতুন এই ট্রেন চালু হলে রাজধানী থেকে কক্সবাজার যাত্রার পাশাপাশি নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও ফেনীসহ মধ্যবর্তী বিভিন্ন এলাকার যাত্রীরাও সরাসরি রেলপথে পর্যটননগরীতে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। নতুন ট্রেনের যাত্রা ঘিরে নিয়মিত যাত্রী, পর্যটক, পরিবার নিয়ে ভ্রমণ করতে ইচ্ছুক মানুষ এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে ২৬ অক্টোবরের যাত্রার টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর থেকে। ফিরতি যাত্রার টিকিট বিক্রি শুরু হবে শনিবার, ১৭ অক্টোবর।

রেলওয়ের প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, মহানগর এক্সপ্রেস প্রতিদিন রাত সাড়ে ৮টায় ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। যাত্রাপথে ট্রেনটি রাত ২টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে পৌঁছাবে। সেখানে যাত্রাবিরতির পর রাত ৩টায় আবার যাত্রা শুরু করে সকাল ৬টার দিকে কক্সবাজারে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এই সময়সূচি কার্যকর হলে রাতের যাত্রা শেষে ভোরে পর্যটননগরীতে পৌঁছাতে পারবেন যাত্রীরা। ফলে দিনের বড় একটি অংশ ঘোরাঘুরি, ব্যবসায়িক কাজ কিংবা ব্যক্তিগত প্রয়োজন মেটানোর জন্য ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হবে।

ফেরার পথে মহানগর এক্সপ্রেস কক্সবাজার থেকে সকাল ৯টায় ঢাকার উদ্দেশে ছাড়বে। ট্রেনটি দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে চট্টগ্রাম স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেবে। এরপর নির্ধারিত যাত্রাপথ পেরিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ট্রেনটির সাপ্তাহিক বন্ধের দিন রবিবার। যাত্রার পরিকল্পনা করার আগে যাত্রীদের নির্ধারিত দিনের সময়সূচি ও টিকিটের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করে নেওয়া প্রয়োজন, বিশেষ করে যাঁরা পরিবার নিয়ে ভ্রমণ করবেন কিংবা দূরবর্তী এলাকা থেকে স্টেশনে আসবেন।

নতুন এই ট্রেন চালুর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মধ্যবর্তী জেলাগুলোর যাত্রীদের জন্য সরাসরি কক্সবাজার যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি। এত দিন যাতায়াতের ক্ষেত্রে অনেক যাত্রীকে নিজেদের অবস্থান, ট্রেনের সময়সূচি এবং সংযোগ পরিবহনের সুবিধা বিবেচনা করে একাধিক ধাপে যাত্রার পরিকল্পনা করতে হতো। মহানগর এক্সপ্রেসের মাধ্যমে নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও ফেনীসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার যাত্রীরা উপকৃত হতে পারেন। তবে এসব স্টেশনে ট্রেনটির নির্দিষ্ট থামার সময়, যাত্রাবিরতি এবং টিকিটের প্রাপ্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া জরুরি। কারণ কোনো রুট দিয়ে ট্রেন চলাচল করা এবং সেই রুটের প্রতিটি স্টেশনে যাত্রী ওঠানামার সুযোগ থাকা এক বিষয় নয়।

বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারে সারা বছরই দেশি-বিদেশি পর্যটকদের যাতায়াত থাকে। সমুদ্রসৈকত, সামুদ্রিক পরিবেশ, স্থানীয় খাবার, পর্যটনকেন্দ্র এবং আশপাশের দর্শনীয় স্থান দেখতে বিভিন্ন বয়সী মানুষ সেখানে ভ্রমণ করেন। রাজধানী ও অন্যান্য অঞ্চল থেকে যাতায়াতের সুবিধা বাড়লে পর্যটকদের ভ্রমণ পরিকল্পনা আরও সহজ হতে পারে। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে যাত্রা করা, প্রবীণ সদস্যদের সঙ্গে ভ্রমণ কিংবা শিশুদের নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার ক্ষেত্রে রেলপথ অনেকের কাছে সুবিধাজনক বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে ভ্রমণের স্বাচ্ছন্দ্য নির্ভর করে সময়ানুবর্তিতা, আসনের ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা এবং যাত্রীসেবার মানের ওপরও।

কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম মাস্টার মো. মেহেদী হাসানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার থেকে ঢাকা পর্যন্ত মহানগর এক্সপ্রেসের সর্বনিম্ন ভাড়া ৬৮৫ টাকা এবং সর্বোচ্চ ভাড়া ১ হাজার ৫৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত সর্বনিম্ন ভাড়া ২৪০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ভাড়া ৫৪৭ টাকা। আসনের শ্রেণি ও প্রযোজ্য ভাড়ার ধরন অনুযায়ী যাত্রীদের খরচে পার্থক্য থাকবে। যাত্রার আগে টিকিট কেনার সময় সংশ্লিষ্ট শ্রেণির ভাড়া, আসনের ধরন এবং অন্যান্য প্রযোজ্য শর্ত যাচাই করে নেওয়া উচিত।

রেলপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ভাড়ার পাশাপাশি সময়ও যাত্রীদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রাত সাড়ে ৮টায় ঢাকা থেকে ছাড়ার সময়সূচি কর্মদিবস শেষে যাত্রা শুরু করতে ইচ্ছুক মানুষের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। আবার ভোর ৬টার দিকে কক্সবাজার পৌঁছানোর সম্ভাব্য সময়সূচি পর্যটকদের দিনের শুরু থেকেই পরিকল্পনা অনুযায়ী চলার সুযোগ দিতে পারে। তবে যাত্রাপথের বাস্তব পরিস্থিতি, রেল চলাচলের অবস্থা এবং স্টেশনে নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তনের কারণে প্রকৃত পৌঁছানোর সময়ে পার্থক্য হতে পারে। তাই দূরপাল্লার যাত্রার সঙ্গে হোটেল বুকিং, পর্যটন পরিবহন কিংবা অন্য কোনো সংযোগের পরিকল্পনা করলে পর্যাপ্ত সময় হাতে রাখা ভালো।

নতুন ট্রেন চালু হলে কক্সবাজারকেন্দ্রিক পর্যটন ব্যবসার ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পর্যটকের সংখ্যা বাড়লে হোটেল, রেস্তোরাঁ, স্থানীয় পরিবহন, ক্ষুদ্র ব্যবসা, হস্তশিল্প এবং বিভিন্ন সেবার চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান ও আয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে পর্যটন মৌসুমে যাতায়াতের বিকল্প বাড়লে ভ্রমণকারীরা নিজেদের বাজেট ও সময় অনুযায়ী পরিবহন বেছে নিতে পারবেন। তবে এসব সম্ভাব্য সুফল বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে ট্রেনটির নিয়মিত চলাচল, আসনসংখ্যা, টিকিট ব্যবস্থাপনা এবং যাত্রী চাহিদার ওপর।

রেলযোগাযোগের সম্প্রসারণ দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটনকে আরও বিস্তৃত করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। সড়কপথে যানজট, দীর্ঘ যাত্রা কিংবা যাতায়াতের ব্যয় নিয়ে যাঁরা চিন্তিত, তাঁদের কাছে ট্রেন একটি বিকল্প হতে পারে। একই সঙ্গে নিয়মিত যাতায়াতকারী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া যাত্রীরাও রেলসেবার সুবিধা নিতে পারেন। তবে ট্রেনের টিকিট সহজে পাওয়া, নির্ধারিত সময়ে চলাচল এবং যাত্রীদের প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো নিশ্চিত না হলে নতুন সেবা থেকে প্রত্যাশিত সুবিধা পুরোপুরি পাওয়া কঠিন হবে।

টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে আগাম পরিকল্পনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ২৬ অক্টোবরের যাত্রার জন্য টিকিট শুক্রবার থেকে পাওয়া যাচ্ছে এবং ফিরতি যাত্রার টিকিট বিক্রি শুরু হবে শনিবার। যাত্রার তারিখ অনুযায়ী আসনসংখ্যা সীমিত থাকতে পারে, তাই ভ্রমণের পরিকল্পনা করা ব্যক্তিদের সময়মতো টিকিট সংগ্রহ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি টিকিটের তথ্য, যাত্রার তারিখ, নির্ধারিত স্টেশন এবং ট্রেনের সময়সূচি ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে মধ্যবর্তী কোনো স্টেশন থেকে যাত্রা করার পরিকল্পনা থাকলে সেখানে ট্রেনটির যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত।

সব মিলিয়ে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে মহানগর এক্সপ্রেস চালু হওয়া দেশের রেল যোগাযোগ ও পর্যটন খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে পারে। আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ট্রেনটির চলাচল শুরুর কথা রয়েছে। রাতের যাত্রা, ভোরে কক্সবাজার পৌঁছানোর সময়সূচি এবং নির্ধারিত ভাড়ার কারণে নতুন সেবাটি যাত্রীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। এখন যাত্রীদের প্রত্যাশা থাকবে, ট্রেনটি নিয়মিত ও সময়মতো চলবে, টিকিট সংগ্রহের প্রক্রিয়া সহজ থাকবে এবং যাত্রাপথে প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা হবে। এসব বিষয় কার্যকরভাবে বজায় রাখা গেলে মহানগর এক্সপ্রেস কেবল ঢাকা ও কক্সবাজারের সংযোগ বাড়াবে না, বরং মধ্যবর্তী এলাকার যাত্রীদের যাতায়াত এবং দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটনেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com