প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা লিভ টু আপিলের শুনানি বুধবার (৩ ডিসেম্বর) শেষ হয়েছে। আপিল বিভাগ জানিয়েছে, মামলার বিষয়ে আদেশ আগামীকাল দেওয়া হবে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত সাতজনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ দিন শুনানি পরিচালনা করেন।
শুনানিতে রাষ্ট্রের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এবং আইনজীবীরা অংশ নেন। তারা আদালতকে জানান, ভ্রান্ত ধারণার ওপর ভিত্তি করে রিটটি দায়ের করা হয়েছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো ভিত্তি নেই। অ্যাটর্নি জেনারেলের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, গণঅভ্যুত্থানের পর যে সরকার গঠিত হয়েছে, তার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে তা সংবিধান ও প্রশাসনিক নীতির পরিপন্থী হবে।
রিটকারীর পক্ষের আইনজীবীরা তাদের যুক্তি হিসেবে বলেন, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের বিচারপতিরা ক্যান্টনমেন্টে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তাদের দাবি, এ কারণে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের আলোকে রাষ্ট্রপতির রেফারেন্সে সরকারের গঠনের বিষয়ে সুস্পষ্ট মতামত প্রদান করা সম্ভব হয়নি। ফলে তারা মনে করেন, বর্তমান সরকারের শপথ ও গঠন প্রক্রিয়া অবৈধ হয়েছে।
রিটটি প্রথমে গত বছরের ডিসেম্বরে সিনিয়র আইনজীবী মহসিন রশিদ দায়ের করেন। হাইকোর্ট এটি খারিজ করে দিয়েছেন এবং রিটকারীর যুক্তি গ্রহণ করেননি। তবে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ শুনানির মাধ্যমে মামলাটিকে পুনরায় যাচাইয়ের সুযোগ দিয়েছে।
এদিনের শুনানিতে আইনজীবীরা আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত সরকারের বৈধতা নিয়ে আপিল করা সংবিধান অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক নয়, কারণ সরকার শপথ গ্রহণের পর সুপ্রিম কোর্ট তার পূর্ণাঙ্গ কার্যক্ষমতা নিশ্চিত করেছে। তাই এই পর্যায়ে সরকারের বৈধতা নিয়ে পুনর্বিবেচনা করা স্ববিরোধী হবে।
এ বিষয়ে আদালত আগামীকাল (৪ ডিসেম্বর) আদেশের মাধ্যমে চূড়ান্ত নির্দেশনা দেবেন বলে জানা গেছে। সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত দেশীয় রাজনীতিতে নতুন প্রেক্ষাপট তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে নির্বাচন ও প্রশাসনিক নীতি সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে।
সংবাদটিতে মানবিক দিক ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়ার প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরা হয়েছে, যাতে পাঠকরা দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আদালতের সিদ্ধান্তের গুরুত্ব বোঝার সুযোগ পান। আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায় যে কোনো মুহূর্তে প্রকাশ পেতে পারে এবং তা দেশের রাজনীতি ও সংবিধানগত প্রশ্নে নতুন আলো ফেলতে সক্ষম।