নাফ নদীর মোহনায় অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে সেন্টমার্টিনগামী ট্রলার আটকা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৩৭ বার

প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

নাফ নদীতে ট্রলার আটকা পড়ার ঘটনা কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনগামী যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে শাহপরী দ্বীপের কাছাকাছি মিয়ানমার সীমান্তবর্তী নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইনামুল হাফিজ নাদিম এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ট্রলারে ৪০ থেকে ৪৫ জন যাত্রী ছিলেন এবং ট্রলারটি নাফনদীর মোহনার চরে আটকা পড়েছিল। খবর পেয়ে কোস্টগার্ড উদ্ধারকাজ শুরু করেছে।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ট্রলারের ইঞ্জিনও বিকল হয়ে যায়। তবে যাত্রীরা কোনও ধরনের ভোগান্তিতে পড়েননি। টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটের সার্ভিস বোট মালিক সমিতির সভাপতি আবদুর রশিদ জানান, দুপুরে অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে একটি বোট সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। শাহপরী দ্বীপের কাছাকাছি পৌঁছালে ইঞ্জিন বিকল হওয়ায় বোটটি আটকা পড়ে। কোস্টগার্ড ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছে।

টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী ঘাটের ইজারাদার মো. হোসেন জানান, ইয়াছিন মাঝির সার্ভিস বোটটি টেকনাফ থেকে যাত্রা শুরু করে। নাফ নদীর মোহনায় পৌঁছালে বোটটি আটকা পড়ে। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে নদীর মোহনায় চর জেগে ওঠার কারণে এই রুটে নৌযান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বেড়ে গেছে।

স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, নাফ নদী এবং এর মোহনায় জলরাশির পরিবর্তন এবং চর জেগে ওঠা নৌপরিবহণকে প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে এবং সুনামির পরে নদীর চর-ভূমি ও পানির গভীরতা পরিবর্তিত হয়, যা নৌযান চলাচলের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে। টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন রুটটি পর্যটক ও স্থানীয় যাত্রীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং এ ধরনের দুর্ঘটনা সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রভাব ফেলতে পারে।

কোস্টগার্ডের উদ্ধারের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা জানান, ট্রলার আটকা পড়ার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ট্রলারে থাকা সকল যাত্রী নিরাপদে রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং কোস্টগার্ডের সমন্বিত উদ্যোগে উদ্ধার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।

পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলেন, নাফ নদীর এই রুটটি সব সময়ই ঝুঁকিপূর্ণ। নদীর মোহনায় চর জেগে ওঠা, জলস্তরের হ্রাস এবং নৌযানের অতিরিক্ত ভিড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। তারা পরামর্শ দেন, নদীতে চলাচলের আগে নৌযানগুলোর ইঞ্জিন, জাহাজের নিরাপত্তা এবং যাত্রী সংখ্যা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া নদীর মোহনায় নৌচারীর সতর্কতা ও পর্যবেক্ষণ বাড়ানো উচিত।

স্থানীয়রা আশ্বাস দিয়েছেন যে, ট্রলারের আটকা পড়ার ঘটনা দ্রুত সমাধান হবে এবং সকল যাত্রী নিরাপদে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবেন। তবে তারা সতর্ক করেছেন যে, নাফ নদীর মোহনায় এ ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধের জন্য নদীর চলাচলের নিয়মকানুন আরও কঠোর করা প্রয়োজন।

এ ঘটনায় যাত্রীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন এবং কোস্টগার্ড নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে। এছাড়া যাত্রীদের জন্য ত্রাণ ও খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয় পর্যটন কর্মকর্তারা জানান, সেন্টমার্টিন ও টেকনাফের পর্যটন শিল্পের স্বার্থে এই ধরনের দুর্ঘটনা দ্রুত সমাধান করা জরুরি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত