কলকাতায় সন্ত্রাস মামলায় ৫ বাংলাদেশিকে যাবজ্জীবন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৫৮ বার
কলকাতায় সন্ত্রাস মামলায় ৫ বাংলাদেশিকে যাবজ্জীবন

প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ভারতের কলকাতার একটি আদালত শুক্রবার পাঁচ বাংলাদেশিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্র, ভারতের সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার প্রস্তুতি নেওয়া এবং ভুয়া ভারতীয় নথিপত্র রাখার। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, প্রমাণের অভাবে আরেক অভিযুক্ত আব্দুল কালামকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আনোয়ার হোসেন ফারুক, মো. রুবেল, মাওলানা ইউসুফ শেখ, মো. শহিদুল ইসলাম এবং জাবিরুল ইসলাম। এই ছয়জনকে নয় বছর আগে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) গ্রেপ্তার করেছিল। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উত্তর ২৪ পরগনার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের সময় তাদের আটক করা হয়।

গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের কাছ থেকে ভুয়া ভারতীয় নথি, বিস্ফোরক তৈরির উপকরণ এবং যোগাযোগ রেকর্ড পাওয়া যায়। অভিযোগ ছিল, তারা বাংলাদেশভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সদস্য এবং ভারতের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলার পরিকল্পনা করছিল। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর আদালত অবশেষে পাঁচজনকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে। মামলা চলাকালীন সময়ে আদালতে অভিযুক্তরা নিজেদের দোষ স্বীকার করেন।

এ ঘটনা স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় গুরুত্বসহকারে প্রকাশিত হয়েছে। বিচারিক প্রক্রিয়ার সময় সুষ্ঠু তদন্ত, প্রমাণ সংগ্রহ এবং সাক্ষ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, এই রায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপ প্রতিরোধে সতর্কবার্তা হিসেবে গণ্য হবে।

আসামিদের কারাদণ্ড দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা নজরে রেখেছে। যদিও রায় ঘোষণার পর কোনো আপত্তি বা আপিলের সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এই ঘটনায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করা হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় জঙ্গি কার্যক্রম রোধে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী জানাচ্ছে, সন্দেহভাজন গ্রুপের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই ধরনের ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা সচেতনতার বিষয়েও গুরুত্ব বহন করে। আদালতের রায় নিঃসন্দেহে এই ধরনের অপরাধের জন্য কঠোর দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত