ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াত আমিরের প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির ফেরদৌস

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৩০ বার
সুদানে শান্তির মিশনে রক্তঝরা দিন, ৬ শহীদের শোকাহত বাংলাদেশ

প্রকাশ: ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েই চলেছে। এই আসনে জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। তার বিরুদ্ধে লড়াই চালাচ্ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে মনোনীত প্রার্থী মেজর (অব.) মুহাম্মদ আলমগীর ফেরদৌস। একই আসনে বিএনপি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।

ঢাকা-১৫ আসনটি কাজীপাড়া-শেওড়াপাড়া এলাকা নিয়ে গঠিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কেবল ভোটের লড়াই নয়, বরং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাব ও জনপ্রিয়তার পরীক্ষা হিসেবেও দেখা যাবে। এনসিপি এবং বিএনপি উভয়ই জোরদার প্রচারণা চালাচ্ছে, যা স্থানীয় ভোটারদের মনোযোগ আকৃষ্ট করছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টি ইতিমধ্যেই তাদের প্রথম ধাপের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। এ তালিকায় ঢাকার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলিতেও দলীয় প্রার্থী নিশ্চিত করা হয়েছে। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসন থেকে লড়বেন শাপলা কলি প্রতীকে। তালিকা ঘোষণার দায়িত্ব পালন করেছেন দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ঢাকা-১৫ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা কেবল স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবই নয়, বরং জাতীয় রাজনীতির দিকনির্দেশক হিসেবে দেখা যেতে পারে। জামায়াত ইসলামী এবং বিএনপি উভয়ই দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় শক্ত অবস্থান রেখে আসছে। অন্যদিকে, এনসিপি নতুন প্রার্থী এনে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন শক্তি ও পরিবর্তনের বার্তা দিতে চাইছে।

মেজর (অব.) মুহাম্মদ আলমগীর ফেরদৌসের মনোনয়ন এনসিপির পক্ষ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে মূল্যায়িত হচ্ছে। তিনি একদিকে সামরিক অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের দক্ষতা সঙ্গে নিয়ে এলেন, অন্যদিকে রাজনৈতিক দিক থেকে নতুন প্রজন্মের সাথে সংযোগ স্থাপনের জন্য স্থানীয় কর্মীদের সঙ্গে জোরালো আলোচনা চালাচ্ছেন। এনসিপি তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় সামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষা ও ন্যায্য ভোটের অধিকার নিয়ে মনোনিবেশ করছে।

ঢাকা-১৫ আসনের ভোটাররা জানাচ্ছেন, তারা প্রতিটি প্রার্থীর নীতিগত অবস্থান, অঙ্গীকার এবং স্থানীয় উন্নয়নমূলক প্রস্তাব বিবেচনা করে ভোট দেবেন। বিশেষত, জামায়াত ইসলামীর দীর্ঘদিনের প্রভাব এবং বিএনপির ঐতিহ্যবাহী উপস্থিতি এই আসনকে সবসময় রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে রেখেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ফেরদৌসের প্রার্থিতা এনসিপিকে ঢাকা-১৫ আসনে একটি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তুলে ধরবে। এটি শুধুমাত্র ভোটের লড়াই নয়, বরং রাজনৈতিক সংস্কার, নতুন নেতৃত্ব এবং স্বচ্ছ নির্বাচনী পরিবেশ তৈরির দিকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এনসিপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নির্বাচনের আগে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সংলাপ ও মত বিনিময় বাড়ানো হবে। নতুন প্রার্থীর লক্ষ্য ভোটারদের মাঝে আস্থা ও সমর্থন বৃদ্ধি করা এবং ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তনের বার্তা পৌঁছে দেওয়া। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ঢাকা-১৫ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভোটারদের রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ঢাকা-১৫ আসন এই নির্বাচনে শুধু স্থানীয় স্তরে নয়, বরং জাতীয় রাজনীতিতেও দিকনির্দেশক প্রভাব রাখতে পারে। জামায়াত ইসলামী এবং বিএনপির শক্ত অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ করে এনসিপির নতুন প্রার্থী ফেরদৌস ভোটারদের মনোযোগ ও সমর্থন কেমনভাবে অর্জন করেন, সেটাই আসনের ফলাফলের মূল নিয়ন্ত্রক হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত