মতিঝিলে চোর সন্দেহে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৩১ বার
মতিঝিলে চোর সন্দেহে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

প্রকাশ: ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানীর মতিঝিলের আরামবাগ এলাকায় মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে চুরি করার সন্দেহে গণপিটুনির পর এক ব্যক্তিকে মারা যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে পুলিশ করিম ভিলা, ৯৮/১ নম্বরে অবস্থিত একটি আবাসিক ভবনের চতুর্থ ও পঞ্চম তলার মাঝামাঝি সিঁড়ি থেকে ওই ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মৃত ব্যক্তির বয়স প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে প্রায় ৫০ বছর। তবে পুলিশ এখনও তার পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি।

মৃতদেহ উদ্ধার করেন মতিঝিল থানা–র পুলিশ। থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কাজী আরমান হোসেন জানিয়েছেন, “খবর পেয়ে গত রাতে আরামবাগের করিম ভিলা ভবনের সিঁড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হাত, পিঠ ও পাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে বহুলসংখ্যক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।”

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে নিহত ব্যক্তিকে ভবনের ৬ষ্ঠ তলায় একটি ফ্ল্যাট থেকে মোবাইল ফোন চুরি করার সময় ধরা পড়ে। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তার ওপর হামলা চালিয়ে পিটিয়ে মারধর করে। আহত ব্যক্তি গুরুতর অবস্থায় ফিরে গিয়ে মারা যান। পরে মৃতদেহ ফেলে দেওয়া হয়। পুলিশ জানায়, স্থানীয়রা তাকে মারধর করেছিল এবং মৃত্যুর পর তারা নিজ নিজ বাড়িতে গা ঢাকা দেয়। রাতের পর প্রতিবেশীরা সিঁড়িতে এক অচেনা ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখেন; পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক উদ্বেগ ছড়িয়েছে। প্রতিবেশীরা অভিযোগ করছেন, এমন ধরনের গণপিটুনি–ভিত্তিক “নিজস্ব বিচার” বা মব–জাস্টিসের ঘটনা সমাজে অন্যায় ও ভয় ছড়ায়। ইতিমধ্যেই একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এখনো কোনো কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। পুলিশ জানায় — পরিচয় শনাক্তকরণ ও গনজিজ্ঞাসা চালাচ্ছে।

এই ধরনের ঘটনার তুলনা সাম্প্রতিক অতীতে দেখা গেছে। উদাহরণ হিসেবে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের আওতায় থাকা মোহাম্মদপুর এলাকায় চোর সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে গণপিটুনির পরে একজনের মৃত্যু ঘটে।

সামাজিক ও অপরাধ‑বিশ্লেষকরা বলছেন, সামাজিক ও আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে এমন গণপিটুনির ঘটনা ভয়ানক। কারণ, যুক্তি–প্রমান ছাড়াই সন্দেহ করলে মানুষকে মারধর বা হত্যার হাত পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এমন আচরণ প্রতিরোধ করতে এবং আইন অনুসারে বিচার নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার ব্যবস্থা আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান করা হচ্ছে।

এই ঘটনায় এখন প্রশ্ন হচ্ছে — চুরি হওয়া বা সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে এমন বিচার কেন নেওয়া হলো? অপরদিকে, আইনশাসন আগে থেকেই নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করতে পারে না। ফলে, সন্দেহভাজনকেও মৌলিক মানবাধিকারের আওতায় রাখা উচিত।

নিহতের পরিচয় যদি শনাক্ত হয়, তার পরিবারকে জানানো এবং অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনা জরুরি। একই সঙ্গে সামাজিক সচেতনতা ও আইনশৃঙ্খলার গুরুত্ব সর্বত্র প্রতিপাদন করতে হবে, যেন ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত