সিলেটে মধ্যরাতে মাত্র পাঁচ মিনিটে দুইবার ভূমিকম্প

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৫২ বার
সিলেটে মধ্যরাতে দুইবার ভূমিকম্প: আতঙ্ক ও সতর্কতা

প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সিলেটের আকাশচুম্বি হিল স্টেশনের অশান্ত রাতের অগ্নিকন্যা যেন মধ্যরাতের নিস্তব্ধতাকে ভেঙে দিয়েছে। বুধবার রাত ২টা ২০ মিনিট ৩১ সেকেন্ডে প্রথম ভূমিকম্প অনুভূত হয়। মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে রাত ২টা ২৫ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে দ্বিতীয়বার কেঁপে ওঠে পুরো সিলেট। স্থানীয়দের অনেকেই প্রথম কম্পনের পর আতঙ্কিত হয়ে ঘর থেকে বের হন, কিন্তু দ্বিতীয় কম্পনের সঙ্গে মিলিত আতঙ্ক আরও বৃদ্ধি পায়। ছোট-বড় প্রায় সবাই মধ্যরাতে অচেনা কম্পনের ধাক্কায় আতঙ্কিত হয়ে ওঠে এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তৎপর হন।

ভারতের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির তথ্য অনুযায়ী, প্রথম কম্পনের মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৫ এবং গভীরতা ২০ কিলোমিটার। দ্বিতীয় কম্পনের মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৩, গভীরতা ছিল ৩০ কিলোমিটার। এই কম্পনগুলো স্থানীয় মানুষকে স্বাভাবিক জীবনধারায় হঠাৎ আতঙ্কে ফেলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মাত্রার কম্পন সাধারণত ভয়ঙ্কর ক্ষতি আনে না, তবে সংবেদনশীল অঞ্চলে কিছু বাড়িঘর কেঁপে ওঠার অনুভূতি দিতে পারে।

এছাড়া রাত ২টা ৫৪ মিনিট ৩ সেকেন্ডে মিয়ানমারের উত্তর মান্দালয় থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে ৩ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে। একই রাত ৩টা ৩৮ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে বঙ্গোপসাগরে ৪ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যার গভীরতা ছিল ১৫ কিলোমিটার। এই কম্পনগুলো পূর্ব আঞ্চলিক ভূমিকম্প কর্মকাণ্ডের একটি অংশ হিসেবে ধরা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের মধ্যমাত্রার কম্পনগুলো মেরুপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন অঞ্চলে এক ধরনের “সিসমিক কার্যক্রমের চক্র” নির্দেশ করে।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এর আগে, ৪ ডিসেম্বর সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে রাজধানীসহ আশপাশের এলাকায় ৪ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। কম্পনের উৎপত্তি টঙ্গী থেকে ৩৩ কিলোমিটার উত্তর-উত্তরপূর্ব এবং নরসিংদীর ৩ কিলোমিটার উত্তরে। গভীরতা ছিল ৩০ কিলোমিটার। ওই কম্পনও স্থানীয় মানুষদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল, বিশেষত রাজধানী শহরের মানুষ।

সিলেটের ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা জানান, কম্পনের কোনো প্রাণহানি বা বড় ধ্বংস reported হয়নি। তবে তারা সতর্কতামূলকভাবে সকল স্কুল, হাসপাতাল এবং জনসমাগমস্থল পরিদর্শন করছেন। স্থানীয় মানুষদের নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হলে আতঙ্কিত হয়ে না থেকে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা জানান, সিলেট ও পার্বত্য অঞ্চল ভূমিকম্প সংবেদনশীল এলাকা। ভারতের অরুণাচল প্রদেশ ও মায়ানমার থেকে আসা ভূমিকম্পের তরঙ্গ এই অঞ্চলে ক্ষুদ্র বা মাঝারি মাত্রার কম্পন সৃষ্টি করতে পারে। পূর্বাভাস এবং সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। তারা আরও বলছেন, এই ধরনের কম্পনগুলো প্রাকৃতিক নিয়মের অংশ, তবে নতুন অবকাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে ভূমিকম্প সহনশীল নকশা ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্থানীয় জনগণ এই মধ্যরাত্রির কম্পন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সতর্কতা ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করছে। অনেকেই জানান, ঘরের চেয়ার, টেবিল কেঁপে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বাতি ঝুলে কম্পন অনুভূত হয়। অনেকে জানিয়েছেন, তারা পরিবারসহ নিরাপদ স্থানে চলে গিয়েছিলেন। এমন ঘটনা মানুষকে সতর্ক ও সচেতন করতে সহায়ক হলেও হঠাৎ আতঙ্ক বৃদ্ধি করায় সাধারণ মানুষের মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করছে।

সিলেটের ভূমিকম্পগুলোর কারণ হিসেবে সিসমোলজিস্টরা মায়ানমার ও বঙ্গোপসাগরীয় ভূ-পৃষ্ঠীয় স্তরের টেকটনিক চলাচলের প্রভাবে এই অঞ্চলে মাঝারি মাত্রার কম্পন সাধারণ বলছেন। এ ধরনের কম্পন অতি গুরুত্বপূর্ণ সিসমিক সতর্কতা ও ভবিষ্যৎ নির্মাণ নীতি প্রয়োগে গুরুত্ব বহন করে। বিশেষজ্ঞরা মানুষকে ঘর, অফিস, বিদ্যালয় ও জনসমাগম স্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিচ্ছেন।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

সিলেটসহ পার্বত্য ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলের ভূমিকম্প সচেতনতা সম্প্রসারণের জন্য জেলা প্রশাসন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ সক্রিয়। তারা জানিয়েছেন, ভূমিকম্প অনুভূত হলে আতঙ্কিত না হয়ে স্থিরভাবে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে হবে। এছাড়া স্থাপনাগুলোতে ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো নিরীক্ষণ করা হবে এবং ভবিষ্যৎ ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সর্বশেষ ভূমিকম্পগুলো এ অঞ্চলের মানুষের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিটি কম্পন মানুষকে ভূমিকম্প সচেতনতা বৃদ্ধির সুযোগ দেয়। সঠিক প্রস্তুতি ও প্রতিক্রিয়া মানুষকে নিরাপদ রাখতে সাহায্য করে। মধ্যরাতের এই কম্পনগুলো স্থানীয় মানুষের আতঙ্কের কারণ হলেও তা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়নি।

সিলেটের মানুষের জন্য এই মধ্যরাতের কম্পন একটি স্মরণীয় ঘটনা হিসেবে থাকবে। তবে ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ভবিষ্যতের জন্য সচেতন থাকা এবং ভূমিকম্প সহনশীল নির্মাণ নীতি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। স্থানীয় প্রশাসন ও বিজ্ঞানীরা এখনও পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত