প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বিশ্বজুড়ে ভারতীয় সংস্কৃতি ও সিনেমাকে প্রতিনিধিত্ব করে বহুবার প্রশংসিত হয়েছেন বলিউড তারকা প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। পশ্চিমা জগতেও সাফল্যের দাপট দেখিয়েছেন তিনি, কিন্তু দেশি শিকড়কে কখনওই অস্বীকার করেননি—এমনটাই বিশ্বাস ছিল অনেকের। কিন্তু সম্প্রতি এক সহজ খাবারভিত্তিক প্রশ্নে দেওয়া উত্তরের পর থেকেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ‘দেশি গার্ল’ খ্যাত এই অভিনেত্রী।
যুক্তরাষ্ট্রে ‘হেড অফ স্টেট’ চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ারে হাজির হয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা। সেখানে এক ইন্টারভিউর সময়ে তাঁকে কিছু জনপ্রিয় খাবারের মধ্যে পছন্দের একটি বেছে নিতে বলা হয়। প্রশ্ন করা হয়—শিঙাড়া না এমপানাডা? প্রিয়াঙ্কা জবাবে বলেন, তিনি এই দুই খাবারকেই ভালোবাসেন এবং কোনো একটিকে আলাদা করে এগিয়ে রাখা কঠিন। এর পরই আরেক প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়া হয় তাঁর দিকে—‘বড়া পাও না হট ডগ?’ এখানেই বিতর্কের সূচনা।
দ্বিধা না করেই প্রিয়াঙ্কা উত্তর দেন—“অবশ্যই হট ডগ।” অর্থাৎ, মুম্বাইয়ের জনপ্রিয় দেশি স্ট্রিট ফুড বড়া পাওয়ের থেকে আমেরিকান খাবার হট ডগকে প্রাধান্য দিলেন প্রিয়াঙ্কা। ব্যস, এরপরই শুরু হয়ে যায় আলোচনা, সমালোচনা এবং বিতর্কের এক অবিরাম ধারা।
সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কেউ বলেন, “দেশি গার্ল এখন পুরোপুরি বিদেশি হয়ে গেছেন।” আবার কারো মতে, “প্রিয়াঙ্কা আমেরিকান হবার প্রাণান্ত চেষ্টা করছেন।” অনেকে সরাসরি তিরস্কার করে বলেন, “যিনি নিজেকে দেশি গার্ল বলে পরিচয় দেন, তিনিই কীভাবে দেশের খাবারকে পাশ কাটিয়ে আমেরিকান পদ বেছে নিতে পারেন?”
এই বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয় যখন কিছু জনপ্রিয় পডকাস্টার ভিডিও বানিয়ে বিষয়টি ব্যঙ্গ করতে শুরু করেন। এক ভিডিওতে বলা হয়, “দেশি গার্ল হবার কি কোনও সিলেবাস আছে? তা হলে তো পরীক্ষাও থাকা উচিত!”
তবে প্রিয়াঙ্কাও এই সমালোচনার জবাব দিতে দেরি করেননি। বিতর্কিত পডকাস্ট ভিডিওটি নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শেয়ার করে তিনি হালকা ব্যঙ্গের সুরে লেখেন, “আরে বাহ ভাই! দেশি গার্ল হওয়ার আবার কোনও সিলেবাস আছে বলে তো আমার জানা ছিল না! এতটাও সিরিয়াস বিষয় নয় কিন্তু এটা।” সঙ্গে তিনি যোগ করেন, ‘বড়া পাও ভার্সেস হট ডগ’—এই ক্যাপশন।
এই প্রতিক্রিয়া থেকে বোঝা যায়, প্রিয়াঙ্কা পুরো বিষয়টিকে যতটা না জাতীয় গর্বের প্রশ্ন হিসেবে দেখছেন, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিসংবেদনশীলতা এবং অতি উৎসাহী সমালোচকদের প্রতি কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন হালকা চালে।
তবে এটাও সত্য, বিশ্বমঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্বকারী একজন তারকার মুখ থেকে দেশি সংস্কৃতির জায়গায় বিদেশি পছন্দ প্রকাশ—তা যতই ব্যক্তিগত পছন্দ হোক না কেন—দেশীয় আবেগকে নাড়া দিয়ে যেতে পারে। আর এই আবেগ থেকেই হয়তো নেটিজেনদের এই তীব্র প্রতিক্রিয়া।
আলোচনার কেন্দ্রে থাকা সেই ছোট্ট প্রশ্ন হয়তো ছিল নিছক বিনোদনমূলক, কিন্তু তা এখন হয়ে উঠেছে সামাজিক বিতর্কের অনির্দেশ্য কেন্দ্রে। আর প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, যিনি একাধারে বলিউড এবং হলিউডে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন, তিনি জানেন—কীভাবে এমন মুহূর্তকে নিজের কৌশলে সামলে নিতে হয়।