শুটিং সেটে সালমানকে নিয়ে চিত্রাঙ্গদার প্রশংসা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৭ বার
শুটিং সেটে ‘ভাইজান’-এর প্রশংসায় পঞ্চমুখ চিত্রাঙ্গদা সিং

 

প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা Salman Khan-এর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা সবসময়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। এবার সেই অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন অভিনেত্রী Chitrangda Singh। নতুন ছবি মাতৃভূমি–এর শুটিং সেটে সালমান খানের কর্মনিষ্ঠা, মানবিকতা এবং সহকর্মীদের প্রতি তার আচরণ দেখে তিনি গভীরভাবে মুগ্ধ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

চিত্রাঙ্গদা বলেন, সালমান খানের সঙ্গে কাজ করা তার জন্য শুধু একটি পেশাগত অভিজ্ঞতা নয়, বরং অভিনয়জগতের ভেতরের বাস্তবতা ও মানবিক দিকগুলো কাছ থেকে দেখার একটি সুযোগ হয়ে উঠেছে। তার মতে, সালমান খানের কোনো নির্দিষ্ট ‘ছুটির দিন’ নেই। তিনি সবসময়ই কাজকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন এবং সিনেমার প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয়ে নজর রাখেন।

অভিনেত্রী জানান, শুটিং চলাকালীন সালমানকে প্রায়ই দেখা গেছে সিনেমার ভিজ্যুয়াল, ফ্রেমিং কিংবা ভিএফএক্সসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে। এমনকি ছোট কোনো দৃশ্য বা শটের উন্নতি নিয়েও তিনি সক্রিয়ভাবে মতামত দেন। এই ধরনের নিবেদনই একজন বড় তারকাকে আলাদা করে তোলে বলে মনে করেন চিত্রাঙ্গদা।

একটি বিশেষ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একদিন তার একটি অত্যন্ত আবেগঘন দৃশ্যের শুটিং ছিল, যেখানে সালমান খানের উপস্থিতি থাকার প্রয়োজন ছিল না। তবুও তিনি শুধুমাত্র সহ-অভিনেত্রীর পারফরম্যান্সে সঠিক প্রতিক্রিয়া দিতে সেটে উপস্থিত ছিলেন। চিত্রাঙ্গদার মতে, এই ধরনের মনোযোগ ও সহযোগিতা সহশিল্পীদের কাজকে আরও সহজ করে তোলে।

শুটিং সেটে সালমান খানের আচরণ নিয়েও প্রশংসা করেন চিত্রাঙ্গদা। তিনি জানান, সুপারস্টার হলেও সালমান কখনোই নিজেকে আলাদা করে রাখেন না। বরং সেটে থাকা লাইট বয়, সহকারী পরিচালক বা অন্যান্য টেকনিশিয়ানদের সঙ্গে তিনি খুব সহজভাবে মিশে যান। তার মধ্যে কোনো ধরনের অহংকার বা দূরত্ব নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

চিত্রাঙ্গদার ভাষায়, সালমান খানের কাজের পরিবেশ সবসময়ই প্রাণবন্ত ও ইতিবাচক। তিনি চিৎকার-চেঁচামেচির মাধ্যমে কাজ করানোর পরিবর্তে শান্ত ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে পছন্দ করেন। এতে করে পুরো টিমের মধ্যে একটি স্বস্তিদায়ক ও সহযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হয়, যা শুটিংকে আরও কার্যকর করে তোলে।

অভিনেত্রী আরও জানান, সহকর্মীদের যত্ন নেওয়ার দিক থেকেও সালমান খান অত্যন্ত মনোযোগী। বিশেষ করে টিমের সবার খাবার নিয়ে তিনি খুব সচেতন থাকেন। শুটিংয়ের সময় নাস্তা, দুপুর কিংবা রাতের খাবার—সবকিছুই যেন ঠিকভাবে সবাই পাচ্ছে, তা নিশ্চিত করেন তিনি। এই মানবিক দিকটি তাকে শুধু একজন অভিনেতা নয়, বরং একজন দায়িত্বশীল সহকর্মী হিসেবে আলাদা করে তোলে।

চিত্রাঙ্গদা সিংয়ের মতে, মাতৃভূমি ছবির শুটিং তার ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে। কারণ এই প্রকল্পের মাধ্যমে তিনি শুধু একটি সিনেমার অংশ হননি, বরং একজন সুপারস্টারের কাজের নৈতিকতা, পেশাদারিত্ব এবং মানবিক আচরণকে কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পেয়েছেন।

বলিউডে সালমান খানের জনপ্রিয়তা নতুন কিছু নয়। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি একাধিক ব্লকবাস্টার সিনেমা উপহার দিয়েছেন এবং একই সঙ্গে নিজের ব্যক্তিত্ব ও জনসংযোগের জন্যও আলোচিত হয়েছেন। তবে সহশিল্পীদের কাছ থেকে পাওয়া এমন ইতিবাচক মন্তব্য তার পেশাগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা।

সব মিলিয়ে, চিত্রাঙ্গদা সিংয়ের এই মন্তব্য আবারও প্রমাণ করে যে, বড় তারকা হওয়া মানেই শুধু পর্দায় নয়, বরং সেটের ভেতরের আচরণ, সহকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং কাজের প্রতি দায়বদ্ধতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত