দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা, ধ্বংসপ্রায় অর্থনীতি—সরকারকে কঠোর সমালোচনায় রিজভী

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১১ জুলাই, ২০২৫
  • ৪৯ বার
দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা, ধ্বংসপ্রায় অর্থনীতি—সরকারকে কঠোর সমালোচনায় রিজভী

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে ভয়াবহ ও করুণ বলে আখ্যায়িত করে কঠোর ভাষায় সরকারের সমালোচনা করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, আসন্ন সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে। তার মতে, অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও কর্মসংস্থানের অভাব জনগণকে চরম দুর্দশায় ফেলতে চলেছে।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জিয়া পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এক কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন। সংগঠনের সভাপতি এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুল কুদ্দুসের রোগমুক্তি কামনায় দুঃস্থদের মাঝে জায়নামাজ বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রিজভী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, “এটা শুধু মুখের কথা নয়, সামনে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে দেশে দুর্ভিক্ষ হয় কিনা, এই প্রশ্ন এখন প্রতিটি মানুষের মনে। দুর্ভিক্ষের আলামত আমরা দেখতে পাচ্ছি, শুনতেও পাচ্ছি। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে জনগণ আমাদের ছেড়ে দেবে না।”

অর্থনীতির ভয়াবহ অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, “দেশে গার্মেন্টস কারখানাগুলো একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। হাজার হাজার মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ছে। মানুষ যখন ন্যূনতম খাবারও কিনতে পারে না, তখন সেটা দুর্ভিক্ষেরই আলামত। এই আলামত দেখা দিলে কেউই রেহাই পাবে না—সেই সময় কেউ হাততালি দেবে না, বরং সবাই রুষ্ট হবে।”

তিনি অভিযোগ করেন, “যারা ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করেছে, সেই দোসরদের বিচার না করে সরকার চোখ বুজে আছে। অথচ সরকার চাইলে এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য প্রশাসক নিয়োগ করতে পারে। গার্মেন্টস খাতকে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে চালিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে যাতে শ্রমিকদের জীবিকা ও দেশের রপ্তানি আয়ে বিপর্যয় না ঘটে।”

রিজভী আরও বলেন, “এই অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মাঝেও সরকার তাদের ফ্যাসিবাদী চরিত্র রক্ষা করতে ব্যস্ত। জনগণের মালিকানা ফিরিয়ে না দিয়ে, গণতন্ত্রকে বাকরুদ্ধ করে একদলীয় ক্ষমতা ধরে রাখার অপচেষ্টা চলছে।”

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, “আমরা বৃহত্তর আদর্শের জন্য লড়াই করছি—আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, মানবিক সাম্য এবং প্রকৃত গণতন্ত্রের জন্য। কিন্তু এই গণতন্ত্রের মূলে আছে জনগণের মালিকানা। সেটি ফিরিয়ে না দিলে রাজনৈতিক ভারসাম্য আর স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়।”

ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমর্থনের প্রেক্ষাপটেও তিনি কথা বলেন। রিজভীর মতে, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ধারণাটি এখন জনসমর্থিত হয়ে উঠছে। সমস্ত রাজনৈতিক দল—আওয়ামী লীগ ও তার কিছু দোসর ছাড়া—এই সরকারের বিরোধিতা করছে এবং একটি নিরপেক্ষ ও জনমতভিত্তিক সরকারের দাবি জানাচ্ছে।”

অর্থনৈতিক দুর্দশার পাশাপাশি সংস্কার প্রস্তাব নিয়েও সরকারকে উদ্দেশ করে বক্তব্য দেন রিজভী। “সংস্কার কখনোই পর্বতমালার মতো স্থির কোনো বিষয় নয়,” তিনি বলেন। “এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, সমাজ ও রাষ্ট্রের চাহিদা অনুযায়ী সময়ের সঙ্গে পরিবর্তনশীল। যুগে যুগে দেশে দেশে সংস্কার এসেছে জনগণের কল্যাণে, কিন্তু সেটিকে কোনো গোঁড়ামিতে পরিণত করে বিভ্রান্তি ছড়ানো ঠিক নয়।”

তিনি বলেন, “আপনারা জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন ‘আগে সংস্কার, পরে ঐক্য’ ইত্যাদি অজুহাতে। অথচ বিএনপির ৩১ দফার মধ্যে এই সংস্কারের বহু বিষয়ই প্রতিফলিত হয়েছে। আমরা তো সংস্কারের বিরুদ্ধে নই, বরং প্রকৃত সংস্কারের পক্ষেই কথা বলেছি। কিন্তু সেটিকে জনবিচ্ছিন্ন করে ক্ষমতা রক্ষার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।”

রিজভীর বক্তব্যে রাজনৈতিক শঙ্কা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা একসঙ্গে উঠে এসেছে। তার দাবি, “এই সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে, গণতন্ত্রকে বন্দি করে রেখেছে এবং অর্থনৈতিকভাবে দেশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। যদি এখনই ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না।”

দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সংকট, শিল্পকারখানার বন্ধ হয়ে যাওয়া, দুর্নীতির বিস্তার এবং জনগণের ভোগান্তির বিরুদ্ধে বিএনপির এই অবস্থান নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়ে তুলেছে। সামনে আসন্ন মাসগুলোতে পরিস্থিতি কোনদিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Ask ChatGPT

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত