দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আসছে বড় পরিবর্তন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬
  • ৩১ বার
ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ।

প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তিনি জানিয়েছেন, আগামী দিনগুলোতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও আধুনিক করতে একাধিক বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্ত হিসেবে উঠে এসেছে পোস্টার ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা, যা কার্যকর হলে নির্বাচনী প্রচারণার প্রচলিত চিত্রে বড় পরিবর্তন আসবে।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিধিমালায় যেসব পরিবর্তন আনা হচ্ছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো পোস্টার ব্যবহার বন্ধ করা। তিনি মনে করেন, নির্বাচনী পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা এবং পরিবেশ দূষণ কমানোর জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। কমিশনও এ বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আসন্ন সংশোধিত বিধিমালায় শুধু পোস্টার নয়, আরও বেশ কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন আসছে বলে জানান তিনি। অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার বর্তমান ব্যবস্থা বাতিলের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহারের নিয়মও আর থাকছে না বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। এসব পরিবর্তনের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও সরল ও বাস্তবসম্মত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন পুরোপুরি নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে। ফলে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না। তবে বাস্তবে রাজনৈতিক সমর্থন ও প্রভাব পুরোপুরি অস্বীকার করা যায় না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এছাড়া প্রার্থীদের সমর্থনে ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহের যে বাধ্যবাধকতা ছিল, সেটিও বাতিলের প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে।

নতুন বিধিমালায় প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আছে। তবে কতটা বাড়ানো হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। উপজেলা নির্বাচন ছাড়া অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এই পরিবর্তন কার্যকর হতে পারে বলে জানা গেছে।

বিদেশে অবস্থানরত ভোটারদের ভোটাধিকার বা পোস্টাল ভোটের বিষয়টি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না বলে তিনি জানান। একই সঙ্গে ফেরারি আসামি এবং নির্দিষ্ট কিছু আইনি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়েও কঠোর অবস্থান নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের অধীনে চার্জশিটভুক্ত ব্যক্তিরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে তিনি স্পষ্ট করেন।

নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য হলো একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করা। এজন্য সংশোধিত বিধিমালায় আরও কিছু প্রশাসনিক ও আইনগত পরিবর্তন আনা হচ্ছে। কমিশনের মতে, সময়োপযোগী পরিবর্তনের মাধ্যমে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।

আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, সংশোধিত বিধিমালা চূড়ান্ত করতে ইতোমধ্যে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঈদের পর এটি চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং জুন মাসের মধ্যেই পুরো কাজ শেষ হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের শেষ দিকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে, এমন সম্ভাবনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে চারটি প্রধান বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছে কমিশন। প্রথমত, সরকারের নিরপেক্ষ ভূমিকা। তিনি বলেন, সরকার যদি নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকে, তবে নির্বাচনী পরিবেশ অনেকটাই স্বাভাবিক থাকে। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ। প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, কিন্তু সংঘর্ষ বা সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয়।

তৃতীয়ত, নির্বাচন কমিশনের দৃঢ় ও নিরপেক্ষ ভূমিকা। কমিশনের নিজস্ব শক্তি সীমিত হলেও নীতিগত অবস্থান থেকে কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা থাকতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। চতুর্থত, নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততা ও দায়িত্বশীলতা। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা থেকে শুরু করে ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত সকলের নিষ্ঠা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, সহিংসতা রোধে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়, রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তরিক সহযোগিতাও প্রয়োজন। নির্বাচনের সময় উত্তেজনা, সংঘর্ষ ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে দলগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দলগুলো নিজেদের অবস্থান থেকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, অতীতে বড় রাজনৈতিক জোটগুলো অনেক ক্ষেত্রে আচরণবিধি মেনে চলেছে, যার ফলে ভোটের দিন বড় ধরনের অনিয়ম বা সহিংসতা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে। ভবিষ্যতেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে নির্বাচন আরও গ্রহণযোগ্য হবে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও কমিশন প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানান তিনি। পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হবে এবং ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে কাজ করবেন। কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে ভোটকেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতাও আইন অনুযায়ী থাকবে।

সব মিলিয়ে নির্বাচন কমিশন একটি শান্তিপূর্ণ, গ্রহণযোগ্য এবং স্বচ্ছ স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে কাজ করছে বলে জানান আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সংশোধিত বিধিমালা বাস্তবায়িত হলে নির্বাচনী ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং জনগণ আরও আস্থার সঙ্গে ভোট প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত