প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
তথ্য প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের সম্প্রচারব্যবস্থাকে আধুনিক, কার্যকর এবং সর্বোপরি জনস্বার্থকেন্দ্রিক করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ সরকার। এ লক্ষ্যে কেবল টেলিভিশন ডিজিটালাইজেশন, টেলিভিশন রেটিং পয়েন্ট (টিআরপি) সেবার মানোন্নয়ন এবং ওভার দ্য টপ (ওটিটি) প্ল্যাটফর্ম ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সুসংহত নীতিমালার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম। তিনি বলেন, “জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই দেশের সম্প্রচারব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও কাঠামোগতভাবে আধুনিক করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রযুক্তির ব্যবহার ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডকে গুরুত্ব দিয়ে একটি টেকসই ও দায়িত্বশীল সম্প্রচারব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয়িক সহযোগিতা অপরিহার্য।”
সভায় উপদেষ্টা আরো উল্লেখ করেন, কেবল টিভির ডিজিটালাইজেশন, টিআরপি সেবার যথাযথ নিয়ন্ত্রণ এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ব্যবস্থাপনায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় উভয়েই সংশ্লিষ্ট। এসব ক্ষেত্রে কে কোন দায়িত্ব পালন করবে, তা ‘অ্যালোকেশন অব বিজনেস’ নীতিমালার মাধ্যমে নির্ধারিত। তাই প্রতিষ্ঠান ও মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ ও সহযোগিতা প্রয়োজন, যাতে করে সমন্বয়হীনতা বা দ্বৈততা এড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হয়।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব তাঁর বক্তব্যে বলেন, “সমপ্রচারব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করতে হলে শুধুমাত্র প্রযুক্তি ব্যবহার নয়, বরং প্রযুক্তির মান, গণমানুষের চাহিদা এবং ভবিষ্যৎমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করাও জরুরি। এ জন্য একটি কার্যকর প্রযুক্তি মূল্যায়ন পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে এবং এতে অংশীজনদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “লাইসেন্সিং, মনিটরিং এবং মনিটাইজেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে উভয় মন্ত্রণালয় একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নিলে একটি দায়িত্বশীল ও ফলপ্রসূ কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব।”
সভায় উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা, অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের (অ্যাটকো) প্রতিনিধিরা এবং কেবল অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) নেতৃবৃন্দ। অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও বাস্তবতার ভিত্তিতে মতামত উপস্থাপন করেন এবং সম্প্রচারব্যবস্থার উন্নয়নে নীতিগত নির্দেশনা ও কাঠামোগত সংস্কারের জন্য সুপারিশ দেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের বিস্তার, কেবল নেটওয়ার্কের অব্যবস্থাপনা এবং টিআরপি পদ্ধতির অস্পষ্টতা গণমাধ্যম খাতে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে বলে অনেকেই মনে করছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ব্যবস্থাকে কেন্দ্রীয় নীতিমালার আওতায় এনে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সর্বজনগ্রাহ্য ব্যবস্থাপনা কাঠামো তৈরি করা সময়ের দাবি। সরকার যদি এই মুহূর্তে যুগোপযোগী ও কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নে আন্তরিক ও সমন্বিত থাকে, তাহলে গণমাধ্যম খাত একটি নতুন ধাপে উন্নীত হবে।
এই বৈঠকটি ছিল সেই সম্ভাবনারই একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা। জনগণের অংশগ্রহণ, ব্যবসায়ী ও অপারেটরদের অভিজ্ঞতা, নীতিনির্ধারকদের দূরদর্শিতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর পরিকল্পনার সমন্বয়ে বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু, স্বাধীন ও আধুনিক সম্প্রচারব্যবস্থা গড়ে ওঠার আশাবাদ এখন ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছে।