কক্সবাজারে কাঁপুনি ধরানো শীত, বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫০ বার
কক্সবাজারে কাঁপুনি ধরানো শীত, বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড

প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারী ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পর্যটন নগরী কক্সবাজারে চলতি বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে জেলায় তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা এ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর সঙ্গে ঘণ্টায় ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার বেগে বইছে শীতল বাতাস। ফলে উপকূলীয় এই জেলাজুড়ে শীতের তীব্রতা বেড়ে গেছে এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় পড়েছে স্পষ্ট প্রভাব।

সকালের দিকে কক্সবাজার শহরসহ আশপাশের এলাকায় কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাসের কারণে রাস্তাঘাটে লোকজনের চলাচল তুলনামূলক কম দেখা গেছে। সৈকত এলাকায় ভোরবেলায় হাঁটতে বের হওয়া মানুষদের অনেককেই ভারী পোশাক, শাল কিংবা জ্যাকেট পরতে দেখা যায়। সাধারণত কক্সবাজারে শীত তুলনামূলক কম অনুভূত হলেও এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের কাছে এই তাপমাত্রা বেশ অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

কক্সবাজার আবহাওয়া দপ্তরের আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রেকর্ড করা ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা চলতি বছরের সর্বনিম্ন। তিনি বলেন, “আজকের তাপমাত্রা কক্সবাজারে এ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। সঙ্গে ঠান্ডা বাতাস থাকায় শীতের অনুভূতি আরও বেশি হচ্ছে।” আবহাওয়া দপ্তরের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সামনের কয়েকদিন তাপমাত্রা খুব বেশি না বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কক্সবাজারের পাশাপাশি জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা টেকনাফ এবং পার্বত্য জেলা বান্দরবানেও শীতের প্রকোপ ছিল আরও বেশি। সোমবার টেকনাফে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বান্দরবানে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই তাপমাত্রা উত্তরবঙ্গের অনেক এলাকার তুলনায়ও কম ছিল, যা আবহাওয়ার একটি ব্যতিক্রমী চিত্র তুলে ধরেছে। সাধারণত দেশের উত্তরাঞ্চলে শীত বেশি অনুভূত হলেও এবার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলেও শীতের তীব্রতা নজর কেড়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, উত্তর দিক থেকে আসা শীতল বায়ুপ্রবাহ এবং পরিষ্কার আকাশের কারণে রাতের তাপমাত্রা দ্রুত নেমে যাচ্ছে। বিশেষ করে পাহাড়ি ও সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে এই প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে। টেকনাফ ও বান্দরবানের মতো অঞ্চলে পাহাড় ও বনভূমির কারণে রাতের বেলায় ঠান্ডা জমে থাকে, যা ভোরের দিকে তাপমাত্রা আরও কমিয়ে দেয়।

শীতের এই তীব্রতা কক্সবাজারের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি পর্যটন খাতেও প্রভাব ফেলছে। শীত মৌসুমে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়লেও অতিরিক্ত ঠান্ডা ও বাতাসের কারণে অনেক পর্যটক সকালে ও সন্ধ্যায় সৈকতে কম সময় কাটাচ্ছেন। তবে দিনের বেলা রোদ উঠলে কিছুটা স্বস্তি মিলছে। হোটেল ও রেস্টুরেন্ট সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পর্যটক সংখ্যা খুব একটা কমেনি, তবে ঠান্ডার কারণে তাদের আচরণে পরিবর্তন এসেছে।

শীতের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, জেলে ও উপকূলীয় এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠী। অনেকেরই পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র নেই। ভোরের দিকে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরা জানান, সমুদ্রে ঠান্ডা বাতাসের কারণে কাজ করতে কষ্ট হচ্ছে। একইভাবে শহরের ফুটপাতবাসী ও বস্তিবাসীদের জন্য শীত বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হঠাৎ তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় শিশু ও বয়স্কদের ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি ও জ্বরের মতো সমস্যা এই সময় বেশি দেখা দেয়। তাই প্রয়োজন ছাড়া ভোরের ঠান্ডায় বাইরে না যাওয়া, গরম কাপড় ব্যবহার করা এবং পর্যাপ্ত গরম খাবার গ্রহণের পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

এদিকে কক্সবাজারের স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শীতের তীব্রতা বাড়লে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

আবহাওয়া বিশ্লেষকদের মতে, জানুয়ারি মাস সাধারণত দেশের শীতলতম সময়। তবে এবছর উপকূলীয় ও পার্বত্য এলাকায় তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি কমে যাওয়ায় বিষয়টি আলাদা করে নজরে এসেছে। তারা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেও আবহাওয়ার এই অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে পারে। একদিকে যেমন তাপমাত্রা হঠাৎ কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে দিনভেদে আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তনও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

কক্সবাজারের বাসিন্দারা বলছেন, তারা সাধারণত এত কম তাপমাত্রা খুব একটা অনুভব করেন না। অনেক প্রবীণ মানুষ মনে করছেন, বহু বছর আগে এমন শীত তারা দেখেছিলেন। শহরের কলাতলী, লাবণী পয়েন্ট কিংবা সুগন্ধা সৈকত এলাকায় সকালবেলায় মানুষের জট কম থাকলেও দুপুরের দিকে রোদ উঠলে আবার স্বাভাবিক চিত্র ফিরে আসে।

সব মিলিয়ে, কক্সবাজারে বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়া শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলছে। উপকূলীয় এই জেলায় শীতের এমন তীব্রতা নতুন করে সতর্কতার বার্তা দিচ্ছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সামনের কয়েকদিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখার পাশাপাশি শীতজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার প্রয়োজন রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত