প্রকাশ: ১২ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন
টেলিভিশন নাটক থেকে বড় পর্দা, বাংলাদেশের অভিনয় জগতে একাধিক চরিত্রে নিজেকে প্রমাণ করেছেন কাজী নওশাবা আহমেদ। এবার সেই সীমানা পেরিয়ে পা রাখছেন ওপার বাংলার রূপালি পর্দায়। আসছে দুর্গাপূজা উপলক্ষে কলকাতার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে অনিক দত্ত পরিচালিত বহু প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র “যত কাণ্ড কলকাতাতেই”, যার মধ্য দিয়ে টলিউডে অভিষেক হচ্ছে বাংলাদেশের এই মেধাবী অভিনেত্রীর।
দুই বছর আগে নির্মিত হলেও নানা কারণে আটকে ছিল ছবির মুক্তি। অবশেষে গতকাল শুক্রবার প্রযোজনা সংস্থা ফ্রেন্ডস কমিউনিকেশন আনুষ্ঠানিকভাবে সিনেমাটির মোশন পোস্টার প্রকাশ করে এই পূজায় মুক্তির ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে ছবিটি ঘিরে দর্শকদের আগ্রহও নতুন করে উস্কে ওঠে।
ছবির গল্প আবর্তিত হয়েছে এক ধরণের রহস্য আর স্মৃতিমেদুরতায় ভরা আবহের মধ্য দিয়ে, যেখানে ফেলুদার ধাঁচে তৈরি হয়েছে চরিত্রগুলোর মনস্তাত্ত্বিক জটপাকানো দ্বন্দ্ব ও সম্পর্কের ভিন্ন মাত্রা। পরিচালক অনিক দত্ত বরাবরই সাহিত্য, নস্টালজিয়া এবং সমাজ-রাজনীতিকে মিলিয়ে গল্প বলার জন্য পরিচিত। এই ছবিতেও সেই ছাপ রয়েছে প্রবলভাবে।
ছবিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা আবির চট্টোপাধ্যায়। আর নওশাবা অভিনয় করেছেন এক বাংলাদেশি তরুণীর চরিত্রে, যে নিজ শিকড়ের খোঁজে কলকাতায় আসে এবং এক রহস্যময় যাত্রার মুখোমুখি হয়। এই যাত্রায় তার সহচর হয়ে ওঠে আবিরের চরিত্রটি, যে একজন ফেলুদা-ভক্ত এবং একইসঙ্গে একজন চিন্তাশীল নাগরিক।
নওশাবা একান্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “সিনেমার গল্পে ফেলুদার প্রতি ভালোবাসা চরিত্রগুলোর মিলনের মূল জায়গা। আবিরের চরিত্র আর আমার চরিত্র—দুজনই ফেলুদা-ভক্ত। সিনেমাটির প্রতিটি দৃশ্যে যেন সত্যজিৎ রায়ের প্রতি এক অব্যক্ত শ্রদ্ধা লুকিয়ে আছে। যদিও এটা কোনো গোয়েন্দা গল্প নয়, কিন্তু গোটা গল্পে ফেলুদার ধাঁধা, সূত্র, আর রহস্যময় আবহ টের পাওয়া যায়। এটা ছিল একদমই জাদুর মতো কাজ—একদিন হঠাৎ করে অনিক দা’র একটি টেক্সট, এরপর অডিশন, এবং তারপর শুটিং। এখন সেই কাজ পূজায় মুক্তি পেতে যাচ্ছে, এটা আমার জন্য বিশাল পাওয়া।”
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে শেষ হয় ছবির শুটিং। এর পর থেকেই চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে গুঞ্জন ছিল—এই ছবিটি নতুন এক ধারা তৈরি করবে টলিউডে। বিশেষ করে, নওশাবার মতো আন্তর্জাতিক দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী এতে যুক্ত হওয়ায় ছবিটির প্রতি আগ্রহ বেড়েছে বাংলাদেশের দর্শকদের মধ্যেও।
টলিউডে আগেও বাংলাদেশি অভিনেত্রী জয়া আহসান ও রাফিয়াথ রশিদ মিথিলা সফলভাবে নিজেদের জায়গা তৈরি করেছেন। তাদের পথ ধরে এবার কলকাতার পর্দায় অভিষেক হচ্ছে কাজী নওশাবা আহমেদের, যিনি ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে নিজের অভিনয় গুণ, চরিত্র নির্বাচন ও অভিনয়শৈলীর জন্য আলাদাভাবে প্রশংসিত।
নওশাবার মতে, “টলিউডে কাজ করা মানে শুধু আরেকটা ইন্ডাস্ট্রিতে যুক্ত হওয়া নয়, বরং গল্প বলার নতুন ভাষা, নতুন দর্শক এবং নতুন বাস্তবতার সঙ্গে নিজেকে একীভূত করা। এই অভিজ্ঞতা আমাকে ভীষণ সমৃদ্ধ করেছে।”
অনিক দত্ত পরিচালিত “যত কাণ্ড কলকাতাতেই” সিনেমাটি তাই শুধু নওশাবার জন্য নয়, দুই বাংলার চলচ্চিত্র দর্শকদের কাছেও এক নতুন উৎসাহের জায়গা তৈরি করছে। এ ছবির মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন দুই বাংলার শিল্পসংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটবে, অন্যদিকে দর্শকরা দেখতে পাবেন এক নতুন নওশাবাকে, যিনি বাংলা সিনেমার আরেকটি অধ্যায়ে যোগ দিচ্ছেন সাহস ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে।
এই পূজায় কলকাতার সিনেমা হলে যখন “যত কাণ্ড কলকাতাতেই” মুক্তি পাবে, তখন সেটি শুধু একটি সিনেমার মুক্তিই হবে না—একটি নতুন সীমানা অতিক্রমের ঘোষণাও বটে। কাজী নওশাবার এই পথচলা কতটা দীর্ঘ হবে, তা সময়ই বলবে, তবে এই শুরুটা যে দারুণ আলো ছড়াতে চলেছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।








