পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডে পুলিশের দায় ও জনতার হতাশা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৪ জুলাই, ২০২৫
  • ৪৫ বার

প্রকাশ:১৪ জুলাই ২০২৫ ।একটি বাংলাদেশ অনলাইন । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক

রাজধানী ঢাকায় গত ছয় মাসে ১৯০টি খুন এবং সারা দেশে সাড়ে ছয় মাসে গণপিটুনিতে ৯৪ জনের মৃত্যু—এমন ভয়াবহ চিত্র কোনো সভ্য রাষ্ট্র বা শৃঙ্খলাবদ্ধ সমাজের জন্য নিছক সংখ্যা নয়, এটি একটি গভীর সংকেত, যে সংকেত নির্দেশ করছে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আজ কোথায় গিয়ে ঠেকেছে।

৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে পুলিশের শৃঙ্খলা, চেইন অব কমান্ড ও মনোবল স্পষ্টভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

  • মাঠপর্যায়ের টহল, তাৎক্ষণিক অভিযান, মামলার তদন্তে সরেজমিনে যাওয়া—সবই কমেছে।

  • পুলিশের ভেতরে একধরনের আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা ও সিদ্ধান্তহীনতা স্পষ্ট।

  • টহল, গ্রেফতার, অপারেশন—সবই কার্যত সীমিত হয়ে পড়েছে।

ফলে সহিংসতা বা হত্যাকাণ্ড ঘটার আগে প্রতিরোধমূলক কোনো শক্ত ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। ফলে জনগণ আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে বা অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে।


২. পুলিশের দায় সীমাবদ্ধ নয়

যদিও পুলিশের দায়িত্ব অপরাধ প্রতিরোধ ও অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করা, তবু এটি এককভাবে পুলিশের ব্যর্থতা নয়।

  • রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনিক স্থবিরতা এবং নতুন ক্ষমতার কাঠামোতে পুলিশের অবস্থান অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

  • এ সুযোগে স্থানীয় সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, দলবদলকারী অপরাধীচক্র পুনর্গঠিত হচ্ছে।


৩. দায়সারা ভূমিকা ও প্রতিক্রিয়া

অধিকাংশ ঘটনায় দেখা যাচ্ছে:

  • ঘটনার ভিডিও করা হচ্ছে, অথচ পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

  • স্থানীয় জনগণও আইন নিজের হাতে নিচ্ছে—এটি পুলিশের প্রতি অনাস্থারই বহিঃপ্রকাশ।

  • অপরাধী চিহ্নিত হলেও তাদের গ্রেফতারে পুলিশের তৎপরতা ধীর গতির।


৪. পুলিশের বক্তব্য

পুলিশ সদর দপ্তরের ভাষ্য, তারা আন্তরিকভাবে কাজ করছে, কোনো ছাড় দিচ্ছে না—কিন্তু মাঠপর্যায়ের তথ্য সেই কথার সঙ্গে মিলছে না।
অর্থাৎ:

  • পুলিশ বলছে “সর্বোচ্চ চেষ্টা”, অথচ সোহাগের মতো হত্যাকাণ্ড প্রকাশ্যে ঘটছে।

  • চাঁদপুরের মসজিদের ঘটনা, কুমিল্লার হত্যাকাণ্ড, খুলনার গুলি করে হত্যা—সবই একই চিত্র দেখায়।


৫. সমাজ ও পরিবারের দায়ও অনস্বীকার্য

সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, সমাজ ও পরিবার সচেতন না হলে শুধু পুলিশের পক্ষে অপরাধ দমন সম্ভব নয়।

  • সহনশীলতা, আইনের প্রতি আস্থা, অপরাধীর পক্ষ নেওয়া না—এসব প্রয়োজন।

  • গণপিটুনি ও স্বেচ্ছাচারিতা পুলিশি শূন্যতার ফাঁকেই জন্ম নিচ্ছে।


 পুলিশের দায় কতটা?

✅ পুলিশের কাঠামোগত সংকট, মনোবলহীনতা, মাঠপর্যায়ের টহল কমানো, অপরাধ প্রতিরোধে দেরি—সব মিলিয়ে পুলিশের দায় অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন অনেক বেশি।
✅ তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব ও সামাজিক উদাসীনতাও দায়ী—এটি পুলিশের একক দায় নয়।
✅ দ্রুত সময়ের মধ্যে পুলিশের চেইন অব কমান্ড পুনর্গঠন, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ দূর করা ও জনগণের আস্থা ফেরানো ছাড়া পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।

এখন পুলিশ যদি ভয় ও অনিশ্চয়তার অবস্থা কাটিয়ে শক্ত হাতে দায়িত্ব পালন না করে, তাহলে পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড ও গণপিটুনির মতো নৃশংসতা অব্যাহত থাকবে—এবং এর দায় প্রধানত পুলিশ প্রশাসনের ওপরই বর্তাবে।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত