জাতিসংঘে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র তীব্র বাকযুদ্ধ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৯ বার
জাতিসংঘ ইরান যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক

প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) তীব্র বাকযুদ্ধে জড়িয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা। বৈঠকটি জরুরি তৎপরতায় অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল ইরানে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, বিক্ষোভ এবং মার্কিন হুমকি ও সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি দেশটির বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন।

ইরানের প্রতিনিধি গোলাম হোসেন দারজি বৈঠকে বলেন, ইরান কোনো সংঘাত চায় না। তবে যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তারা জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী চূড়ান্ত ও আইনানুগ প্রতিক্রিয়া দিতে প্রস্তুত। দারজি যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযোগ করে বলেন, ইরানে অস্থিরতা উসকে দেয়ার জন্য ওয়াশিংটন দায়ী। তিনি মার্কিন হুমকিকে আইন বহির্ভূত আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এর পরিণতির দায় কেবল ওয়াশিংটনের উপরই বর্তাবে।

অন্যদিকে, জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেন, ইরানে চলমান ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের জনগণ স্বাধীনতার দাবিতে আগের তুলনায় অনেক বেশি মাত্রায় প্রতিবাদ করছে। আর সরকার এসব বিক্ষোভকে বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করছে, যা প্রকৃতপক্ষে সরকারের নিজেদের জনগণের প্রতি ভীতির প্রকাশ। ওয়াল্টজ বলেন, “প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানে হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করতে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। আমরা জাতিসংঘে যে অশেষ কথাবার্তা দেখি, তিনি সেরকম নন। তিনি পরিষ্কার করে বলেছেন, হত্যাকাণ্ড বন্ধে সব ধরনের অপশনই খোলা রয়েছে।”

ইরানের পক্ষ থেকে বিক্ষোভকে বিদেশি ষড়যন্ত্র এবং সামরিক হস্তক্ষেপের প্রেক্ষাপট হিসেবে উপস্থাপন করার অভিযোগ নাকচ করে ওয়াল্টজ বলেন, “বিশ্ববাসীকে জানা উচিত, ইরানের শাসকগোষ্ঠী বর্তমানে আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় দুর্বল। জনগণের শক্তির মুখে তারা ভীত, তাই তারা মিথ্যা গল্প ছড়াচ্ছে। তারা নিজের জনগণকেই ভয় পাচ্ছে।”

জাতিসংঘে নিরাপত্তা পরিষদের এই জরুরি বৈঠক আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর কাড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ এবং সরকার বিরোধী আন্দোলনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করতে পারে। ইরানের জনগণ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতার জন্য দাবী জানাচ্ছে, কিন্তু শাসকগোষ্ঠীর কঠোরতা ও সেনা নিয়োগের কারণে সংঘর্ষে রূপ নেয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা কেবল নিজেদের জনগণকে সুরক্ষা দিতে চায় এবং কোনো আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক সংঘাতে জড়াতে চায় না। দারজি বৈঠকে বলেন, “আমরা আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘের বিধি অনুযায়ী আমাদের প্রতিক্রিয়া জানাব। যেকোনো আগ্রাসনের মোকাবেলায় আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।” তিনি আরও বলেন, ইরানের জনগণ শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করছে, কিন্তু সরকারি দমন-পীড়ন চলমান।

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ওয়াল্টজ বলেন, ইরানের শাসকগোষ্ঠীর বর্তমান দুর্বলতার সুযোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট করেন, ইরানে হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘে সাধারণত দীর্ঘ আলোচনার পরিবেশ থাকে, কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি এবং কার্যকরভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলার পরিকল্পনা করেছেন।

বিশ্ববাসী উদ্বিগ্ন হয়ে নিরাপত্তা পরিষদের এই তীব্র বাকযুদ্ধ পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইরানে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার এবং স্বাধীনতা রক্ষার সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সংযুক্তি এবং চাপ গুরুত্বপূর্ণ। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা চলমান থাকায় পরবর্তী সময় আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে উভয়পক্ষের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে একটি স্পষ্ট বার্তা উঠে এসেছে। ইরান বলছে, তারা কোনো আগ্রাসন চাইছে না, তবে নিজেদের জনগণ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ইরান হত্যাযজ্ঞ বন্ধে সকল অপশন ব্যবহার করতে পারে এবং জনগণের স্বতন্ত্র অধিকার রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। বৈঠকের এই দুই ধারার বক্তব্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

উপসংহারে বলা যায়, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বৃহস্পতিবারের বৈঠক ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধের মাধ্যমে বিশ্বের নজর কাড়ে। ইরানের জনগণ স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভ চালাচ্ছে, সরকার কঠোর দমন-পীড়ন করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে হুমকি জারি করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা এই পরিস্থিতি মনোযোগ সহকারে পর্যবেক্ষণ করছে। নিরাপত্তা ও শান্তি রক্ষার জন্য সকল পক্ষের সক্রিয় উদ্যোগ এবং সংলাপের প্রয়োজনীয়তা এই বৈঠকে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত