উত্তরার অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের পরিবারের পাশে জামায়াত আমির

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৮০ বার
জামায়াত আমিরের শোক

প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানীর উত্তরায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এই মর্মান্তিক ঘটনায় ছয়জনের প্রাণহানি এবং আরও ১৩ জনের আহত হওয়ার খবরে দেশজুড়ে যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে, তারই প্রেক্ষাপটে তিনি সরাসরি ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের স্বজনদের সান্ত্বনা দেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করেন।

শুক্রবার বিকেলে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান জামায়াত আমির। সেখানে তিনি নিহত দুই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের খোঁজখবর নেন এবং এই দুঃসময়ে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে তিনি আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

নিহত ছয়জনের স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আমরা আল্লাহ তায়ালার দরবারে দোয়া করি—আল্লাহ যেন নিহতদের ক্ষমা করেন, তাঁদের ওপর রহম করেন এবং তাঁদের শহীদের মর্যাদা দান করেন। যারা আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন, তাঁদের জন্যও আমরা দোয়া করি, আল্লাহ তায়ালা যেন তাঁদের সুস্থতার নিয়ামত দান করেন এবং দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনেন।

তিনি আরও বলেন, বিপদ কখন কার জীবনে আসে, তা কেউ জানে না। মানুষ হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো বিপদের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। কখনো আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে, কখনো শুধু মানসিক সান্ত্বনা ও সাহস জোগানোই বড় বিষয় হয়ে ওঠে। এই মুহূর্তে শোকাহত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে তাদের মনোবল শক্ত করা আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব। তিনি আশপাশের প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বিশেষভাবে অনুরোধ করেন, যেন তারা এই পরিবারগুলোর পাশে থাকেন, শোক কাটিয়ে ওঠার সময়টুকুতে তাদের সাহস জোগান এবং মানসিক সমর্থন দেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা সবাই মিলে আল্লাহর কাছে দোয়া করি, যেন তিনি এই পরিবারগুলোকে সবরের নিয়ামত দান করেন। কারণ এমন শোক সহজে বহন করার মতো নয়। প্রিয়জন হারানোর বেদনা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আল্লাহ ছাড়া কেউ এই ক্ষতি পূরণ করতে পারবে না। জীবন আর ফিরে আসবে না, তবে যারা বেঁচে আছেন, আল্লাহ যেন তাঁদের সুস্থভাবে তাঁদের আপনজনের বুকে ফিরিয়ে দেন—এটাই আমাদের একমাত্র কামনা।

আহতদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা এই দুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে গেছেন, তারা যেন সুস্থ হয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন। তারা যেন তাদের জীবনের বাকি সময় নিজেদের কল্যাণের পাশাপাশি মানবতার খেদমতে ব্যয় করতে পারেন—এই দোয়াই আমরা করি। এই ধরনের দুর্ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, জীবন কতটা অনিশ্চিত এবং মানুষ হিসেবে একে অপরের জন্য আমাদের দায়িত্ব কতটা গভীর।

এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, যদি আল্লাহ তায়ালা আমাদের এই দেশ ও জাতির খেদমত করার সুযোগ দেন, তাহলে জরুরি নিরাপত্তা বিষয়গুলো শিক্ষাব্যবস্থার অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তাঁর মতে, মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা সবার ঊর্ধ্বে। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে উন্নয়ন বা জৌলুশের কোনো অর্থ থাকে না। তাই অগ্নি-নিরাপত্তা, জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয়, প্রাথমিক চিকিৎসা—এই বিষয়গুলো শিক্ষার সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি আরও বলেন, শুধু পাঠ্যবই নয়, গণমাধ্যম, সামাজিক সংগঠন, এনজিও, মসজিদ, বিভিন্ন উপাসনালয় এবং সামাজিক ক্লাবের মাধ্যমেও নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। সমাজের সব স্তরের মানুষকে এই বিষয়ে সচেতন করা গেলে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে। তিনি বলেন, প্রতিটি নাগরিকের উচিত নিজের নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রতিবেশী ও সমাজের মানুষের নিরাপত্তার বিষয়েও সচেতন থাকা।

উত্তরার এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে এখনও আতঙ্ক ও শোক বিরাজ করছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় জানা যায়, আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যেই তা ছড়িয়ে পড়ে এবং উদ্ধার কাজ চালাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বেশ বেগ পেতে হয়। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় ছয়জনের মৃত্যু হয়। বর্তমানে ১৩ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

এই দুর্ঘটনা রাজধানীর অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জনবহুল এলাকায় ভবনের নিরাপত্তা মান, জরুরি নির্গমন ব্যবস্থা এবং সচেতনতার অভাবই এমন দুর্ঘটনাকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। উত্তরার ঘটনায়ও দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে না আসায় হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

সব মিলিয়ে উত্তরার এই অগ্নিকাণ্ড শুধু কয়েকটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্যই এক গভীর বেদনার নাম। জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সরাসরি ঘটনাস্থলে গিয়ে শোক প্রকাশ ও সহমর্মিতা জানানো এই বাস্তবতাই তুলে ধরে যে, বিপদের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই মানবিকতার প্রকৃত পরিচয়। এই শোক যেন ভবিষ্যতে আরও সচেতন ও নিরাপদ সমাজ গঠনের প্রেরণা হয়ে ওঠে—এটাই এখন সবার প্রত্যাশা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত