চুয়াডাঙ্গায় শীতকালীন সবজির বাজার চড়া, ভোগান্তিতে ক্রেতারা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৮ বার
চুয়াডাঙ্গায় শীতকালীন সবজির বাজার চড়া, ভোগান্তিতে ক্রেতারা

প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

শীতকাল মানেই ছিল গ্রামবাংলার বাজারে সবজির প্রাচুর্য, তুলনামূলক কম দাম আর সাধারণ মানুষের স্বস্তির হাঁফ ছেড়ে বাঁচা। কিন্তু চলতি মৌসুমে চুয়াডাঙ্গার বাজারে সেই চিত্র আর দেখা যাচ্ছে না। কয়েক দিন ধরেই জেলার বিভিন্ন বাজারে শীতকালীন সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী। সরবরাহ কম থাকায় পাইকারি ও খুচরা—দুই বাজারেই বাড়তি দামে সবজি বিক্রি হচ্ছে। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজি কিনে সংসার চালানো দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে চুয়াডাঙ্গা বড়বাজার পাইকারি সবজির বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে সবজির উপস্থিতি থাকলেও দাম তুলনামূলক বেশি। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরেই এই ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা। বাজারে শীতকালীন সবজির চাহিদা থাকলেও মাঠপর্যায়ে উৎপাদন ও আমদানি কম থাকায় সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে দামের ওপর।

বড়বাজারে পাইকারি দরে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়, যা কয়েক দিন আগেও ছিল অনেক কম। উস্তে বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা কেজিতে, আলু ২২ টাকা, সিম ৩৫ টাকা, ফুলকপি ৩৫ টাকা, পাতাকপি ১৮ টাকা, মুলা ৩৫ টাকা, আদা ১৬০ টাকা, রসুন ৭০ টাকা, টমেটো ৪৫ টাকা এবং শসা ১০০ টাকা কেজি দরে। পাইকারি বাজারে এই দাম থাকলেও খুচরা বাজারে প্রতিটি সবজির দাম কেজিপ্রতি আরও ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। ফলে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য বাজার করা দিন দিন কষ্টকর হয়ে উঠছে।

বাজারে আসা ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই আগের মতো সবজি কিনতে পারছেন না। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে তালিকা ছোট করছেন, আবার কেউ কেউ দাম কম এমন সবজি খুঁজে নিতে চেষ্টা করছেন। চুয়াডাঙ্গা পোস্টঅফিস পাড়ার বাসিন্দা আহসান বলেন, “বাজারে সবজির দাম অনেক বেশি। কয়েক দিনের ব্যবধানে কাঁচামরিচ কেজিতে প্রায় ৬০ টাকা বেড়ে গেছে। অন্য সবজির দিকেও তাকানো যায় না। সংসার চালাতে বাধ্য হয়েই আজ অল্প অল্প করে সবজি কিনলাম।” তাঁর মতো অনেক ক্রেতাই অভিযোগ করছেন, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লেও আয় সেই হারে বাড়ছে না।

চুয়াডাঙ্গা পলাশপাড়ার বাসিন্দা হারুন বলেন, শীত মৌসুমে সাধারণত পাতাকপি ও ফুলকপি গ্রামে এত বেশি পাওয়া যায় যে অনেক সময় কৃষকরা গরু-ছাগলকে এসব খাওয়ান। অথচ এবার সেই সবজিই খুচরা বাজারে ফুলকপি ৪০ টাকা ও পাতাকপি ২৫ টাকা কেজিতে কিনতে হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, “বাজার করতে গিয়ে আমাদের মতো অল্প আয়ের মানুষদের অবস্থা নাজেহাল হয়ে যাচ্ছে। সবজি ছাড়া রান্না করা যায় না, আবার কিনতেও কষ্ট।”

সবজির পাশাপাশি মাছের বাজারেও কিছুটা চড়া ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, শীতকালে নদী ও প্রাকৃতিক জলাশয় থেকে মাছের আমদানি তুলনামূলক কম হয়। এর প্রভাব পড়েছে দামে। আকার ও প্রজাতিভেদে দেশি মাছ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১২০ টাকা থেকে শুরু করে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত। তবে মাংসের বাজার এখনো তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। বাজারে বয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৪০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭৫০ টাকা ও খাসির মাংস ১১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বড়বাজারের আড়তদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাজারে দাম বাড়ার পেছনে প্রধান কারণ সরবরাহ ঘাটতি। চুয়াডাঙ্গা বড়বাজারের আড়তদার বাতেন মিয়া বলেন, “চাহিদা অনুযায়ী সবজির আমদানি নেই। মাঠে এখন সবজি খুব একটা পাওয়া যাচ্ছে না। কৃষকরা আগের মতো সবজি তুলতে পারছেন না, আবার কিছু এলাকায় আবহাওয়ার প্রভাবও পড়েছে। আমদানি বাড়লে বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসবে।” তিনি জানান, বাইরের জেলা থেকে সবজি কম আসায় স্থানীয় বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মৌসুমের শুরুতে কিছু এলাকায় অতিবৃষ্টি ও শীতের তীব্রতা বাড়ায় সবজি উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটেছে। এর ফলে বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় ও শ্রমমূল্য বাড়ার প্রভাবও দামে পড়ছে। সব মিলিয়ে এই কারণগুলোই চুয়াডাঙ্গার বাজারে শীতকালীন সবজির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে মাঠপর্যায়ে উৎপাদন বাড়ানো এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা প্রয়োজন। কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় বাজার মনিটরিং জোরদার করা জরুরি। নইলে এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন সীমিত আয়ের মানুষ, যাঁদের সংসারে সবজি একটি অপরিহার্য খাদ্য উপাদান।

চুয়াডাঙ্গার বাজার পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা একটাই—যত দ্রুত সম্ভব সরবরাহ বাড়ুক এবং দাম সহনীয় পর্যায়ে ফিরে আসুক। শীতকাল মানেই স্বস্তির বাজার—এই ধারণা যেন আবার বাস্তবে ফিরিয়ে আনা যায়, সেই অপেক্ষায় আছেন জেলার হাজারো ক্রেতা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত