৩০ বছরেই ৩০০ কোটির মালিক, হলিউডে শ্যালামের রাজত্ব

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৭ বার
৩০ বছরেই ৩০০ কোটির মালিক, হলিউডে শ্যালামের রাজত্ব

প্রকাশ:  ১৯  জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

হলিউডে তারকা জন্মায় প্রতি বছরই। কিন্তু কজন এমন আছেন, যাঁদের নাম উচ্চারণ করলেই আলাদা করে থেমে যেতে হয়? কজন এমন আছেন, যাঁদের অভিনয়, ব্যক্তিত্ব আর উপস্থিতি মিলেমিশে এক ধরনের সময়ের প্রতিনিধিত্ব করে? মাত্র ৩০ বছর বয়সেই যিনি হয়ে উঠেছেন সেই বিরল নামগুলোর একজন, তিনি টিমোথি শ্যালামে। আজ তিনি শুধু জনপ্রিয় অভিনেতাই নন, বরং প্রায় ২৫ মিলিয়ন ডলার সম্পদের মালিক—বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৩০০ কোটির বেশি। এই বিপুল সাফল্যের পেছনে আছে প্রতিভা, অধ্যবসায় আর সময়কে নিজের করে নেওয়ার এক অনন্য ক্ষমতা।

ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তাঁকে বলা হয়েছে ‘নতুন লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও’। শুরুতে অনেকেই ভেবেছিলেন, এটা হয়তো গণমাধ্যমের বাড়াবাড়ি। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে, শ্যালামে প্রমাণ করেছেন—এই তুলনা মোটেও অমূলক নয়। শৈল্পিক সিনেমা হোক বা বিশাল বাজেটের বাণিজ্যিক ফ্র্যাঞ্চাইজি, সব জায়গায় নিজেকে সমানভাবে মেলে ধরতে পেরেছেন তিনি। শুধু অভিনয় নয়, নিজের নামটাই আজ সিনেমার বাণিজ্যিক সাফল্যের বড় চালিকাশক্তি।

১৯৯৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর নিউইয়র্কে জন্ম টিমোথি শ্যালামের। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি ঝোঁক ছিল তাঁর। স্কুল থিয়েটার, ছোট নাটক আর টিভি সিরিজে কাজ করতে করতেই ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছিল একজন বড় অভিনেতার ভিত। টিভি সিরিজ ‘হোমল্যান্ড’-এ অল্প সময়ের উপস্থিতি কিংবা ক্রিস্টোফার নোলানের ‘ইনস্টারস্টেলার’-এ ছোট চরিত্র—এসব দিয়েই বড় কিছু হয়ে ওঠার ইঙ্গিত মিলেছিল। যদিও তখনো তিনি ছিলেন কেবল সম্ভাবনাময় এক কিশোর।

২০১৭ সালে লুকা গুদানিনোর ‘কল মি বাই ইয়োর নেম’ যেন শ্যালামের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এলিও পার্লম্যান চরিত্রে তাঁর সংবেদনশীল, নরম অথচ গভীর অভিনয় বিশ্বজুড়ে সমালোচকদের মুগ্ধ করে। মাত্র ২২ বছর বয়সে অস্কারের সেরা অভিনেতা বিভাগে মনোনয়ন পাওয়া সবচেয়ে কম বয়সী অভিনেতাদের একজন হয়ে যান তিনি। সেই সঙ্গে বাফটা ও গোল্ডেন গ্লোবের মনোনয়ন। তখনই স্পষ্ট হয়ে যায়, শ্যালামে কেবল ক্ষণস্থায়ী তারকা নন।

এরপর একে একে এসেছে গ্রেটা গারউইগের ‘লেডি বার্ড’ ও ‘লিটল ওমেন’। দুই ছবিতেই ভিন্ন রকম চরিত্রে নিজেকে নতুনভাবে তুলে ধরেন তিনি। ‘বিউটিফুল বয়’-এ মাদকাসক্ত এক তরুণের ভূমিকায় অভিনয় করে আবারও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ান। এসব সিনেমা তাঁকে প্রতিষ্ঠা করে একজন শক্তিশালী অভিনেতা হিসেবে, যিনি আবেগের সূক্ষ্মতম স্তরও পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে পারেন।

তবে শ্যালামেকে বিশ্বব্যাপী সুপারস্টার বানিয়ে দেয় ডেনিস ভিলেন্যুভের ‘ডিউন’। পল অ্যাট্রেইডিস চরিত্রে তাঁর উপস্থিতি শুধু দর্শক নয়, প্রযোজকদেরও বিশ্বাস করিয়ে দেয়—এই তরুণ কাঁধেই ভর করে বড় বাজেটের ফ্র্যাঞ্চাইজি সফল করা সম্ভব। ‘ডিউন’ ও ‘ডিউন: পার্ট টু’—দুটো ছবিই বক্স অফিসে দুর্দান্ত ব্যবসা করে। এর পরপরই মুক্তি পায় মিউজিক্যাল ফ্যান্টাসি ‘ওয়াঙ্কা’, যেটিও দর্শকপ্রিয় হয়। শ্যালামে তখন আর শুধু অভিনেতা নন, তিনি এক বাণিজ্যিক ব্র্যান্ড।

গত বছর আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন তিনি ‘আ কমপ্লিট আননোন’ সিনেমায় কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী বব ডিলানের চরিত্রে অভিনয় করে। এই চরিত্রের জন্য প্রস্তুতি ছিল দীর্ঘ আর গভীর। গিটার ও হারমোনিকা শেখা, ডিলানের জীবনধারা বোঝা, এমনকি তাঁর গান নিজ কণ্ঠে গাওয়া—সব মিলিয়ে প্রায় দুই বছর ধরে নিজেকে ভেঙে নতুন করে গড়েছেন শ্যালামে। সিনেমাটিতে থাকা ২৩টি গানের সবকটিই তিনি নিজে গেয়েছেন। মুক্তির পর সমালোচকেরা একবাক্যে স্বীকার করেছেন, বব ডিলানের তরুণ বয়সের আত্মাকে ধরতে পেরেছেন শ্যালামে। এই চরিত্রের জন্য তিনি জেতেন স্যাগ পুরস্কার।

সবচেয়ে সাম্প্রতিক সাফল্য আসে ‘মার্টি সুপ্রিম’ দিয়ে। শৈল্পিক ধারার এই সিনেমাটি নিয়ে প্রাথমিকভাবে বড় ব্যবসার আশা খুব একটা ছিল না। কিন্তু টিমোথি শ্যালামের তারকাখ্যাতি আর অভিনয়গুণই ছবিটিকে টেনে নিয়ে যায়। এক প্রতিভাবান টেবিল টেনিস খেলোয়াড়ের চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শক ও সমালোচক—দুই পক্ষকেই মুগ্ধ করে। এই ছবির জন্যই ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো গোল্ডেন গ্লোব জেতেন শ্যালামে। তাও আবার হারান নিজের আদর্শ লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওকে। এই জয় যেন প্রতীকীভাবেই জানিয়ে দেয়—নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব এখন তাঁর হাতেই।

পুরস্কার গ্রহণের সময় তাঁর বক্তব্য ছিল আবেগে ভরা ও পরিণত। হার থেকে শেখার কথা, কৃতজ্ঞ থাকার শিক্ষা—সব মিলিয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে একজন সংবেদনশীল মানুষের ছবি, যিনি সাফল্যের মাঝেও মাটিতে পা রেখে চলতে জানেন।

ব্যক্তিগত জীবনেও শ্যালামে এখন আলোচনায়। দুই বছরের বেশি সময় ধরে কাইলি জেনারের সঙ্গে সম্পর্কে আছেন তিনি। শুরুতে সম্পর্কটি গোপন রাখলেও সম্প্রতি বিভিন্ন পুরস্কার মঞ্চে ও প্রিমিয়ারে একসঙ্গে হাজির হয়ে সম্পর্ককে প্রকাশ্যে স্বীকৃতি দিয়েছেন। ক্রিটিকস চয়েস অ্যাওয়ার্ডসে পুরস্কার গ্রহণ করে কাইলিকে ধন্যবাদ জানিয়ে শ্যালামে বলেন, ‘তোমাকে ছাড়া এটা সম্ভব হতো না।’ এই খোলামেলা স্বীকৃতি ভক্তদের মধ্যে তাঁকে আরও মানবিক করে তুলেছে।

আজ ৩০ বছর বয়সেই টিমোথি শ্যালামে শুধু বিপুল সম্পদের মালিক নন, বরং এক প্রজন্মের সাংস্কৃতিক প্রতীক। তাঁর সামনে এখনও বহু বছর, বহু চরিত্র, বহু চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। কিন্তু যে গতিতে তিনি এগোচ্ছেন, তাতে বলা যায়—এই তরুণ অভিনেতার গল্প এখনো মাত্র শুরু।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত