ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড হুমকিতে ইউরোপের প্রতিক্রিয়া কী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৮৩ বার
ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড হুমকি ইউরোপ

প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের বিরোধিতা করলে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে অচিরেই উত্তেজনা তৈরি করেছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাজ্য থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ এবং ১ জুন থেকে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। একই শুল্ক ন্যাটোর সাতটি মিত্র দেশের—ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড—ওর ওপর প্রয়োগ করা হবে, যতক্ষণ না ডেনমার্ক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড বিক্রির বিষয়ে চুক্তি করে।

তবে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইউরোপের দেশগুলো একজোট অবস্থান নিয়েছে। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হুমকি দিয়ে গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা দাবি করা সম্ভব নয়। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভেট কুপারও জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার কেবল গ্রিনল্যান্ডবাসী ও ডেনমার্কের হাতে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কায়া ক্যালাস বলেন, “কোনো সংঘাতে জড়ানোর ইচ্ছা আমাদের নেই, তবে আমরা নিজেদের অবস্থান থেকে সরে যাব না। সার্বভৌমত্ব বাণিজ্যের বিষয় হতে পারে না।”

এদিকে ট্রাম্প সামরিক শক্তি ব্যবহার প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করেননি। ডেনমার্ক সতর্ক করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ ন্যাটোর নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপের কয়েকটি দেশ প্রতীকীভাবে অল্পসংখ্যক সেনা গ্রিনল্যান্ডে মোতায়েন করেছে। ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে বলেছেন, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষায় ন্যাটো ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাবে।

একই সময়ে, ট্রাম্প ও নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরের কথোপকথন প্রকাশ পেয়েছে, যেখানে ট্রাম্প নরওয়েকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না দেওয়ার জন্য দায়ী করার অভিযোগ তুলেছেন। জবাবে স্টোর স্পষ্ট করেছেন, নরওয়ের সরকারের এতে কোনো ভূমিকা নেই এবং গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অংশ, নরওয়ে ডেনমার্কের অবস্থানকে পূর্ণ সমর্থন করছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার যৌথ প্রতিরক্ষা সংস্থা নোরাড জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ডের পিটুফিক স্পেস বেসে একাধিক বিমান পাঠানো হয়েছে। নোরাড জানিয়েছে, এটি পূর্বপরিকল্পিত ও নিয়মিত কার্যক্রম, যা ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডকে আগেই জানানো হয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের শুল্ক হুমকি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে তার অবস্থান ইউরোপে নীতিগত ও কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো চুক্তি বা পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত, ট্রাম্পের হুমকি বাস্তবায়িত হলে তা ন্যাটোর মিত্র দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে প্রতিক্রিয়া এবং করণীয় নির্ধারণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে জরুরি বৈঠক ডেকেছে। এই বৈঠকে ডেনমার্ক, নরওয়ে, যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশ অংশগ্রহণ করবে। বৈঠকে আলোচিত হবে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক দিক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, এবং গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব রক্ষার উপায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের হুমকি ও কূটনৈতিক চাপের প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় দেশগুলোর একত্রিত প্রতিক্রিয়া এবং ডেনমার্কের নেতৃত্বে কার্যক্রম গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে মূল ভূমিকা রাখবে। আর যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের পদক্ষেপ কেবল বাণিজ্য বা নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নয়, আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি নতুন পরীক্ষা হিসেবে ধরা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com