ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদে আমন্ত্রণ পেলেন পুতিন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৭ বার
ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘শান্তি পর্ষদে’-এ আমন্ত্রণ পেলেন পুতিন

প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন, তিনি প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’-এ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এই বোর্ড গঠনের মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্বজুড়ে সংঘাত নিরসন, বিশেষত গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং পুনর্গঠন কার্যক্রম তদারকি করা। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে সোমবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন দিক নির্দেশনা দিতে পারে।

আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এমন এক সময়ে যখন ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হচ্ছে। চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাতে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তবুও শান্তি আলোচনা ধীর গতিতে এগোচ্ছে। ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে যুদ্ধ এখনও অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের বোর্ডের প্রস্তাবকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা একটি উদ্যোগমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

হোয়াইট হাউস সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্পের সভাপতিত্বে গঠিতব্য এই ‘বোর্ড অব পিস’-এ অংশ নিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রভাবশালী নেতা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। বোর্ডের কাঠামো তিন স্তর বিশিষ্ট হবে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও আরব দেশগুলোকে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ দেওয়া হবে। বোর্ডের মূল লক্ষ্য হবে গাজায় ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করা, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পুনর্গঠন কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।

রাশিয়ার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট পুতিনও এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছেন। পেসকভ বলেন, মস্কো আমন্ত্রণের সব সূক্ষ্ম বিষয় নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করছে। তবে পুতিন এতে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করা হয়নি। পাশাপাশি, রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোকেও এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের ঘোষিত ২০ দফা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই বোর্ড আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গাজায় শান্তি স্থাপন ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে বাস্তবায়নযোগ্যতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হলে সব পক্ষের স্বচ্ছ ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। বিশেষ করে, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক, ইউক্রেন যুদ্ধের পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ বোর্ডের কার্যকারিতা প্রভাবিত করবে।

বিশ্বজুড়ে এই প্রস্তাবিত বোর্ড নিয়ে সমালোচনা এবং সমর্থন উভয়ই প্রকাশ পেয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, শীর্ষ পর্যায়ে ট্রাম্প, ইসরায়েলপন্থী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের মতো বিতর্কিত ব্যক্তিদের রাখা হলেও ফিলিস্তিনিদের শুধুমাত্র তৃতীয় স্তরে সীমিত দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই কারণে তারা মনে করছেন, বোর্ডের কার্যকারিতা ও ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল পক্ষগুলোর যথাযথ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা না হলে গাজায় স্থায়ী শান্তি অর্জন করা কঠিন হবে।

এই উদ্যোগকে অনেক কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞ ‘রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের কৌশল’ হিসেবে দেখছেন। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, বোর্ড শুধুমাত্র গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব বজায় রাখার একটি কৌশল হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। বোর্ড গঠনের প্রস্তাব প্রকাশের পর বিশ্বমঞ্চে অনেক দেশ এ বিষয়ে তাদের অবস্থান প্রকাশ করেছে। ইউরোপীয় দেশগুলো মূলত বোর্ডের কাঠামো এবং অংশগ্রহণ পদ্ধতির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চাইছে, যাতে কোনো পক্ষের একতরফা প্রভাব বেড়ে না যায়।

প্রস্তাবিত বোর্ডের কাঠামো তিন স্তর বিশিষ্ট। প্রথম স্তর হবে প্রধান কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র এবং প্রধান জোটশক্তির দেশগুলো প্রতিনিধিত্ব করবে। দ্বিতীয় স্তরে থাকবে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার সংস্থা, যারা গাজায় কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব পাবে। তৃতীয় স্তরে ফিলিস্তিন ও স্থানীয় জনগণকে সীমিত পৌর দায়িত্বে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এই বিভাজন সমালোচকদের মতে কার্যকারিতা ও ন্যায্যতা নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বোর্ডের সাফল্য নির্ভর করবে অংশগ্রহণকারী দেশ ও নেতাদের রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর। ট্রাম্পের এই উদ্যোগে পুতিন এবং অন্যান্য শক্তিধর নেতা যোগ দান করলে বোর্ডের বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। তবে একই সঙ্গে সমালোচনা চলছেই, কারণ বোর্ডের শীর্ষ পর্যায়ে যেসব ব্যক্তি রয়েছেন, তারা মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে আগ্রাসী নীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারে পরিচিত।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পুনর্গঠন কার্যক্রমের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য। শুধুমাত্র উচ্চ পর্যায়ের নেতা বা রাষ্ট্রপ্রধানদের অংশগ্রহণই যথেষ্ট নয়; স্থানীয় জনগণ, মানবাধিকার সংস্থা এবং পুনর্গঠন সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম না থাকলে প্রকৃত শান্তি অর্জন করা কঠিন হবে। গাজায় সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে এই বোর্ড কীভাবে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, তা বিশ্বমঞ্চের অন্যতম নজরদারি বিষয় হবে।

একই সঙ্গে, ট্রাম্পের এই প্রস্তাবিত উদ্যোগ বিশ্বমঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক অবস্থানকে দৃঢ় করার প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। এটি ন্যাটো এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে, রাশিয়ার অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে বোর্ডের বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা বেড়ে যেতে পারে, তবে রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সমন্বয় না হলে কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

তবে ট্রাম্প এই বোর্ডের মাধ্যমে গাজায় শুধু যুদ্ধ বন্ধ করতে চাইছেন না, বরং সেখানে স্থিতিশীল ও কার্যকর শাসন ব্যবস্থা স্থাপন, মানবিক সহায়তা কার্যক্রম তদারকি এবং পুনর্গঠন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি বৈশ্বিক মঞ্চ সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এটি সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়ায় একটি নতুন অধ্যায় যুক্ত হবে।

সংক্ষেপে বলা যায়, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ শুধু গাজা শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বাড়ানোর এবং বিভিন্ন দেশকে সক্রিয়ভাবে আলোচনায় যুক্ত করার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে কার্যকরী সমাধান অর্জনের জন্য বোর্ডের কাঠামো, অংশগ্রহণকারীদের সমন্বয়, এবং স্থানীয় জনগণের সঠিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত