আকাশপথে রাজস্বের রাজারা: বিশ্বের শীর্ষ ১০ এয়ারলাইনস

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৯ বার
আকাশপথে রাজস্বের রাজারা: বিশ্বের শীর্ষ ১০ এয়ারলাইনস

প্রকাশ:  ২৬  জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের যাতায়াতের ধরন বদলে গেছে আমূল। একসময় সমুদ্রপথে সপ্তাহ বা মাসব্যাপী ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ ছিল মহাদেশ পাড়ি দেওয়ার একমাত্র উপায়। আজ সেই বাস্তবতা ইতিহাস। আধুনিক উড়োজাহাজ মানুষের কাছে দূরত্বকে ছোট করে এনেছে, সময়কে করেছে সাশ্রয়ী। এই পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বব্যাপী বিমান পরিবহন শিল্পও পরিণত হয়েছে একটি বিশাল রাজস্বভিত্তিক খাতে। কোটি কোটি যাত্রী পরিবহন, কার্গো সেবা, আধুনিক বহর, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা এবং বৈশ্বিক সংযোগ—সব মিলিয়ে এয়ারলাইনস শিল্প এখন বিশ্ব অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি।

২০২৫–২৬ অর্থবছরের আর্থিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কিছু বিমান সংস্থা আয়ের দিক থেকে অন্যদের অনেকটাই ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও চীনের বড় বড় এয়ারলাইনসগুলো এই তালিকায় প্রভাব বিস্তার করেছে। রাজস্বের এই শীর্ষ দশে জায়গা করে নেওয়া প্রতিটি এয়ারলাইনসের পেছনে আছে দীর্ঘ ইতিহাস, কৌশলগত সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎমুখী পরিকল্পনা।

এই তালিকার দশম স্থানে রয়েছে চীনের সাংহাইভিত্তিক চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনস। প্রায় ১৮ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলারের রাজস্ব নিয়ে তারা চীনের ‘বিগ থ্রি’ এয়ারলাইনসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থা বর্তমানে স্কাইটিম জোটের সদস্য। ৮০০টির বেশি উড়োজাহাজের বহর নিয়ে তারা এশিয়ার অন্যতম আধুনিক বিমান সংস্থা হিসেবে পরিচিত। সাংহাই পুডং ও হংকিয়াও ছাড়াও বেইজিং দাসিং, শিয়ান ও কুনমিংকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন আড়াই হাজারের বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করে তারা। ৪০টি দেশ ও অঞ্চলের ২৫৫টির বেশি গন্তব্যে বিস্তৃত এই নেটওয়ার্ক তাদের রাজস্ব প্রবাহকে শক্তিশালী করেছে।

নবম স্থানে থাকা এয়ার চায়না লিমিটেড মূলত চীনের জাতীয় বিমান সংস্থা হিসেবে পরিচিত। ২৩ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারের রাজস্ব অর্জন করা এই সংস্থার সদর দপ্তর বেইজিংয়ে। স্টার অ্যালায়েন্সের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে এয়ার চায়না ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বাজারে বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছে। ৪০০টির বেশি উড়োজাহাজ নিয়ে তারা ছয়টি মহাদেশে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করে। ২০২৬ সালকে সামনে রেখে বহর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে বড় ধরনের বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে তারা।

অষ্টম স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের স্বল্পমূল্যের জনপ্রিয় এয়ারলাইনস সাউথওয়েস্ট। প্রায় ২২ দশমিক ০৩ বিলিয়ন ডলারের রাজস্ব নিয়ে এই সংস্থাটি ভিন্নধর্মী ব্যবসায়িক মডেলের জন্য পরিচিত। কেবল বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজ দিয়ে গঠিত তাদের বহর যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে ব্যাপক জনপ্রিয়। ২০২৪ সালে তারা প্রায় ১৪ কোটি যাত্রী পরিবহন করে এবং উল্লেখযোগ্য মুনাফা অর্জন করে। আসনব্যবস্থা ও সেবার ধরনে সাম্প্রতিক পরিবর্তন ভবিষ্যতে তাদের রাজস্ব আরও বাড়াতে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সপ্তম স্থানে থাকা চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইনস রাজস্ব আয় করেছে প্রায় ২৪ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলার। বহরের আকারে এটি এশিয়ার সবচেয়ে বড় এয়ারলাইনস। গুয়াংজু ও বেইজিং দাসিংকে কেন্দ্র করে ৯০০টির বেশি উড়োজাহাজে তারা বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে। চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারের পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে তাদের উপস্থিতি ক্রমেই বাড়ছে।

ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে ইউরোপের অন্যতম বড় এয়ারলাইনস হোল্ডিং কোম্পানি এয়ার ফ্রান্স–কেএলএম গ্রুপ। প্রায় ৩৫ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলারের রাজস্ব নিয়ে এই ফরাসি–ডাচ গোষ্ঠী ৯০টির বেশি দেশে সেবা দিয়ে আসছে। প্যারিস ও আমস্টারডামকে কেন্দ্র করে তাদের বহর ৫০০টির বেশি উড়োজাহাজে বিস্তৃত। যাত্রী পরিবহনই তাদের আয়ের প্রধান উৎস, তবে ভবিষ্যতে অংশীদারত্ব ও রুট সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজস্ব বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

পঞ্চম স্থানে থাকা ইন্টারন্যাশনাল কনসলিডেটেড এয়ারলাইনস গ্রুপ বা আইএজি রাজস্ব আয় করেছে প্রায় ৩৭ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ ও ইবেরিয়ার একীভবনের মাধ্যমে গঠিত এই গোষ্ঠী ইউরোপীয় বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। তাদের বহরের বিস্তৃতি ও কাতার এয়ারওয়েজে উল্লেখযোগ্য মালিকানা আইএজিকে বৈশ্বিক পর্যায়ে আরও শক্তিশালী করেছে।

চতুর্থ স্থানে রয়েছে জার্মানির ডয়চে লুফথানসা এজি। প্রায় ৪৩ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারের রাজস্ব নিয়ে এটি ইউরোপের সবচেয়ে বড় এয়ারলাইনস গ্রুপ। শতবর্ষের কাছাকাছি ইতিহাসের এই সংস্থা বহর আধুনিকায়ন ও দীর্ঘপাল্লার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় বিনিয়োগ করছে।

তৃতীয় স্থানে থাকা আমেরিকান এয়ারলাইনস গ্রুপ রাজস্ব আয় করেছে প্রায় ৫৪ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার। যাত্রীসংখ্যার দিক থেকে এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় এয়ারলাইনস। ৫০টির বেশি দেশে তাদের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক এবং বহর আধুনিকায়নের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও তাদের রাজস্ব ধরে রাখবে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইউনাইটেড এয়ারলাইনস হোল্ডিংস, যার রাজস্ব প্রায় ৫৮ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার। বহরের আকারে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই সংস্থা এশিয়া ও ইউরোপের বাজারে সম্প্রসারণে বিশেষ জোর দিচ্ছে। নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা তাদের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখছে।

সবশেষে, রাজস্ব আয়ের শীর্ষে রয়েছে ডেলটা এয়ারলাইনস। প্রায় ৬২ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারের রাজস্ব নিয়ে ডেলটা বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম বিমান সংস্থা। যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা কেন্দ্রিক এই এয়ারলাইনস বহর আধুনিকায়ন, সেবার মান উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক বিস্তারের মাধ্যমে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।

বিশ্বের শীর্ষ এই দশ এয়ারলাইনস প্রমাণ করে, আকাশপথের প্রতিযোগিতা এখন কেবল যাত্রী পরিবহনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি একটি প্রযুক্তিনির্ভর, কৌশলগত ও বৈশ্বিক ব্যবসা। ভবিষ্যতে টেকসই জ্বালানি, ডিজিটাল সেবা ও নতুন রুটের মাধ্যমে এই শিল্প আরও বিস্তৃত হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত