৪৫ মিলিয়ন বাজেটে ৩০০ মিলিয়ন আয়, ইতিহাস গড়ল সিডনি সুইনির সিনেমা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৮ বার
৪৫ মিলিয়ন বাজেটে ৩০০ কোটির ঝড়, সিডনির সিনেমায় ইতিহাস

প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

হলিউডে তারকাখ্যাতি পাওয়া সহজ, কিন্তু সেই জনপ্রিয়তাকে টিকিয়ে রেখে বক্স অফিসে ইতিহাস গড়া খুব কম শিল্পীর পক্ষেই সম্ভব। এই কঠিন কাজটাই করে দেখালেন ২৮ বছর বয়সী অভিনেত্রী সিডনি সুইনি। এইচবিওর জনপ্রিয় সিরিজ ‘ইউফোরিয়া’ দিয়ে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেত্রীর জন্য ২০২৫ সাল শুরু হয়েছিল মিশ্র অনুভূতির মধ্য দিয়ে। একটি সিনেমা বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়লেও আরেকটি ছবি তাঁকে এনে দিয়েছে অভাবনীয় সাফল্য ও স্বস্তি। সেই সিনেমার নাম ‘দ্য হাউসমেইড’।

নারীকেন্দ্রিক মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার ঘরানার এই সিনেমা ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে বক্স অফিসে ২৯৪ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০০ কোটি টাকার সমান। মাত্র ৪৫ মিলিয়ন ডলারের বাজেটে নির্মিত এই ছবি শুধু সিডনি সুইনির ক্যারিয়ারেই নয়, পরিচালক পল ফিগের দীর্ঘ কর্মজীবনেও নতুন রেকর্ড গড়েছে।

ফ্রেইডা ম্যাকফ্যাডেনের একই নামের বেস্টসেলার উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘দ্য হাউসমেইড’-এ সিডনি সুইনির সঙ্গে অভিনয় করেছেন অস্কার মনোনীত অভিনেত্রী আমান্ডা সেফ্রিড ও ব্র্যান্ডন স্কলেনার। শুরুতে ছবিটি নিয়ে খুব বেশি প্রত্যাশা ছিল না। বরং মুক্তির আগের সময়ে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন সিডনি সুইনি—তাঁকে ঘিরে আমেরিকান ঈগল জিনসের একটি বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয়। অনেকেই ভেবেছিলেন, সেই বিতর্ক হয়তো তাঁর ক্যারিয়ারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ‘দ্য হাউসমেইড’ সব আলোচনাকে ছাপিয়ে বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে।

২৩ থেকে ২৫ জানুয়ারির সপ্তাহান্তে ছবিটি বিশ্বজুড়ে আয় করে ২৯৪ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার। এর মাধ্যমে এটি পরিচালক পল ফিগের আগের রেকর্ডধারী সিনেমা ‘ব্রাইডসমেইডস’-এর (২৮৯ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার) আয়কে ছাড়িয়ে যায়। মুদ্রাস্ফীতির হিসাব ছাড়াই এটি ফিগের পরিচালিত সিনেমাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ আয় করা ছবি হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। একই সঙ্গে এটি ২০২৪ সালের আলোচিত বই থেকে নির্মিত সিনেমা ‘ইট এন্ডস উইথ আস’-এর (২৫০ মিলিয়ন ডলার) আয়কেও পেছনে ফেলেছে।

এই সাফল্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মহামারির পরও বিশ্ব বক্স অফিস এখনো পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। অনেক বিশ্লেষকের ধারণা ছিল, মাঝারি বাজেটের ছবি—বিশেষ করে নারীকেন্দ্রিক গল্প—বড় পর্দার চেয়ে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মেই বেশি সফল হবে। কিন্তু ‘দ্য হাউসমেইড’ সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে।

পল ফিগের জন্য এই সাফল্য নতুন কিছু নয়, আবার পুরোপুরি সহজও নয়। প্রায় ১৫ বছর আগে ‘ব্রাইডসমেইডস’ বানিয়ে তিনি প্রমাণ করেছিলেন, নারীকেন্দ্রিক সিনেমাও বক্স অফিস কাঁপাতে পারে। সেই সময় আর-রেটেড কমেডির স্বর্ণযুগে একটি পুরোপুরি নারীপ্রধান ছবি বানিয়ে তিনি ঘরানার সীমা ভেঙে দিয়েছিলেন। ইউনিভার্সালের সেই ছবি সে বছর সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমার তালিকায় ১২ নম্বরে ছিল। এরপর তিনি হয়ে ওঠেন হলিউডের ‘টোস্ট অব দ্য টাউন’। মেলিসা ম্যাককার্থির সঙ্গে গড়ে ওঠে তাঁর সফল পেশাগত জুটি। একের পর এক হিট আসে—‘দ্য হিট’ (২০১৩), ‘স্পাই!’ (২০১৫)।

তবে এই পথচলা সব সময় মসৃণ ছিল না। ‘ঘোস্টবাস্টার্স’-এর নারীপ্রধান রিবুট বিশ্বজুড়ে ২২৯ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করলেও উচ্চ বাজেট ও বিপুল বিপণন খরচের কারণে সেটিকে আর্থিকভাবে ব্যর্থ হিসেবেই দেখা হয়। এরপর বড় স্টুডিওগুলো থেকে খানিকটা দূরে সরে যান ফিগ। তবু নারীকেন্দ্রিক গল্প থেকে তিনি সরে দাঁড়াননি। ‘আ সিম্পল ফেভার’ লায়ন্সগেটের সঙ্গে তৈরি হয়, আর এর সিকুয়েল ‘আ সিম্পল ফেভার ২’ মুক্তি পায় সরাসরি অ্যামাজন প্রাইমে, যার পেছনে বড় কারণ ছিল মহামারি পরিস্থিতি।

‘দ্য হাউসমেইড’ নিয়ে পল ফিগ নিজেই বলেন, তাঁকে বারবার হলিউডকে প্রমাণ করতে হয়েছে যে নারীরা সিনেমা হলে আসে। তাঁর ভাষায়, ভালো কনটেন্ট পেলে নারী দর্শকরা হলমুখী হন, আর তারাই বিশাল এক দর্শকগোষ্ঠী। তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করেছেন, শুধু নারীকেন্দ্রিক হলেই চলবে না—মানসম্মত গল্প ও নির্মাণ জরুরি।

এই ছবির গল্প ঘুরে বেড়ায় সিডনি সুইনি অভিনীত গৃহকর্মী মিলি ক্যালোওয়ের জীবনকে ঘিরে। কারাভোগের পর নতুন করে জীবন শুরু করতে তিনি লং আইল্যান্ডের ধনী উইনচেস্টার পরিবারের বাড়িতে আবাসিক গৃহকর্মীর কাজ নেন। বাহ্যিকভাবে ঝাঁ-চকচকে প্রাসাদের আড়ালে লুকিয়ে থাকা অস্বস্তিকর পারিবারিক গোপন রহস্য ধীরে ধীরে উন্মোচিত হতে থাকে। মিলি ও তাঁর নিয়োগকর্তা নিনা উইনচেস্টারের মধ্যে ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণের যে সূক্ষ্ম টানাপোড়েন, সেটিই ছবির মূল চালিকাশক্তি।

সিডনি সুইনির ক্যারিয়ারের দিক থেকেও এটি এক বিশাল মাইলফলক। প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে এটিই তাঁর সবচেয়ে বেশি আয় করা সিনেমা, যা সহজেই ছাড়িয়ে গেছে ‘এনিওয়ান বাট ইউ’-এর (২০৮ মিলিয়ন ডলার) বক্স অফিস আয়। এমনকি ২০২৫ সালের বহু আলোচিত সিনেমা ও সম্ভাব্য অস্কার প্রতিযোগী ছবির চেয়েও বেশি আয় করেছে ‘দ্য হাউসমেইড’।

ছবিটির সাফল্যের পেছনে রয়েছে শক্তিশালী প্রযোজনাগত পরিকল্পনাও। প্রযোজক কার্লি এলটার বইটি প্রকাশের আগেই পাণ্ডুলিপি পড়ে মুগ্ধ হন এবং টড লিবারম্যানের সঙ্গে এটি লায়ন্সগেটের নির্বাহী চেলসি কুজাওয়ার কাছে নিয়ে যান। এরপর লায়ন্সগেট প্রেসিডেন্ট এরিন ওয়েস্টারম্যান বই প্রকাশের আগেই স্বত্ব কিনে নেন, যা প্রকল্পটিকে দ্রুত বাস্তব রূপ দিতে সহায়তা করে।

লায়ন্সগেট মোশন পিকচার গ্রুপের চেয়ারম্যান অ্যাডাম ফোগেলসন বলেন, সঠিক বাজেট ও সঠিক অংশীদারদের নিয়ে কাজ করলে নারীকেন্দ্রিক সিনেমা সৃজনশীল ও আর্থিক—দুটো দিক থেকেই অভাবনীয় সাফল্য আনতে পারে।

সব মিলিয়ে, ‘দ্য হাউসমেইড’ শুধু একটি সফল সিনেমাই নয়, বরং এটি প্রমাণ করেছে—ভালো গল্প, শক্তিশালী অভিনয় ও দর্শককেন্দ্রিক নির্মাণ থাকলে মাঝারি বাজেটের ছবিও বিশ্ব বক্স অফিসে ইতিহাস গড়তে পারে। সিডনি সুইনি ও পল ফিগের জন্য এই সাফল্য নিঃসন্দেহে ক্যারিয়ারের এক উজ্জ্বল অধ্যায়, যা আগামী দিনে নারীকেন্দ্রিক সিনেমার পথ আরও প্রশস্ত করবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত