প্লেব্যাক ছাড়ার ঘোষণার পর অরিজিতকে নিয়ে এ আর রহমানের পুরনো মন্তব্য ভাইরাল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৬ বার
প্লেব্যাক ছাড়ার ঘোষণার পর অরিজিতকে নিয়ে এ আর রহমানের পুরনো মন্তব্য ভাইরাল

প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ভারতীয় সংগীত জগতের অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী অরিজিৎ সিং হঠাৎ করেই প্লেব্যাক গান থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই তোলপাড় চলছে সংগীতপ্রেমী মহলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিনোদন অঙ্গনের নানা আড্ডায় ঘুরেফিরে একটাই প্রশ্ন—কেন এই সিদ্ধান্ত, আর সত্যিই কি তিনি পুরোপুরি প্লেব্যাক দুনিয়াকে বিদায় জানাচ্ছেন? ঠিক এমন সময়েই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে অস্কারজয়ী সুরকার এ আর রহমানের দেওয়া একটি পুরনো সাক্ষাৎকার, যেখানে অরিজিতকে নিয়ে তিনি খোলামেলা মন্তব্য করেছিলেন।

গত ২৭ জানুয়ারি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ পোস্টে অরিজিৎ সিং জানান, তিনি আর কোনো নতুন প্লেব্যাক গান গাইবেন না। এই ঘোষণার পরপরই ভক্তদের মধ্যে দেখা দেয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ কেউ একে শিল্পীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে সম্মান জানালেও অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেন। কারণ গত এক দশকের বেশি সময় ধরে বলিউড থেকে শুরু করে আঞ্চলিক চলচ্চিত্র, বিজ্ঞাপন কিংবা স্বাধীন সংগীত—সব ক্ষেত্রেই অরিজিত ছিলেন নির্ভরতার নাম।

এই ঘোষণার পরই যেন স্মৃতির ঝাঁপি খুলে গেছে। অরিজিতের পুরনো সাক্ষাৎকার, বিভিন্ন সুরকার ও গীতিকারদের মন্তব্য, সহশিল্পীদের অভিজ্ঞতা—সবকিছুই নতুন করে আলোচনায় আসতে শুরু করে। ঠিক তখনই বিবিসি এশিয়ান নেটওয়ার্ককে দেওয়া এ আর রহমানের একটি পুরনো সাক্ষাৎকার সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। সেখানে অরিজিৎ সিংকে নিয়ে রহমানের কথাগুলো নতুন প্রেক্ষাপটে ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

সেই সাক্ষাৎকারে এ আর রহমান অরিজিৎ সিংকে ‘রেকলেস’ শব্দটি দিয়ে ব্যাখ্যা করেছিলেন। যদিও শব্দটি অনেক সময় নেতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হয়, রহমানের বক্তব্যে ছিল এক ধরনের স্নেহ ও প্রশংসা। তিনি বলেছিলেন, অরিজিৎ একজন অসাধারণ সংগীতশিল্পী, যিনি শুধু গায়কই নন, সংগীত প্রযোজনা ও প্রোডাকশনের বিষয়েও গভীরভাবে সচেতন। নিজের গ্রামের পরিবেশে বসে কাজ করার যে অভ্যাস অরিজিতের, সেটিকেও রহমান খুব ‘কুল’ বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, এই স্বাধীনচেতা মনোভাবই অরিজিতকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে।

সাক্ষাৎকারে এ আর রহমানকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তার সুরে অরিজিতের গাওয়া কোন গানটি তিনি সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন। উত্তরে রহমান জানান, ‘তুম হি হো’ এবং ‘ওহ গড’—এই দুটি গান তার কাছে বিশেষভাবে প্রিয়। ‘তুম হি হো’ গানটি ২০১৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ইমতিয়াজ আলি পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘তামাশা’-তে ব্যবহৃত হয়, যেখানে দীপিকা পাডুকোন ও রণবীর কাপুর অভিনয় করেছিলেন। এই গানেই প্রথমবার একসঙ্গে কাজ করেন অরিজিৎ সিং ও আলকা ইয়াগনিক, যা তখন থেকেই সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নেয়।

অরিজিতের সংগীতযাত্রা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এ আর রহমান আরও বলেন, নিজের চোখের সামনে তরুণ শিল্পীদের বড় হয়ে ওঠা ও সাফল্য অর্জন করতে দেখা তার কাছে ভীষণ আনন্দের। একজন শিল্পীর সাফল্য মানেই সংগীতের জয়—এই বিশ্বাস থেকেই তিনি নতুন প্রজন্মের গায়কদের এগিয়ে যেতে দেখে গর্ব অনুভব করেন। বিশেষ করে সংগীতশিল্পীদের নিয়ে সমাজে প্রচলিত কিছু নেতিবাচক ধারণা ভাঙতে পারাটাকে তিনি বড় অর্জন হিসেবে দেখেন। একসময় সংগীতশিল্পীদের জীবনযাপন নিয়ে যে কুসংস্কার ছিল, আজ শ্রেয়া ঘোষাল, অরিজিৎ সিংয়ের মতো শিল্পীরা তা বদলে দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন রহমান।

এই পুরনো বক্তব্য নতুন করে ভাইরাল হওয়ার পেছনে মূল কারণ, অরিজিতের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত। অনেকেই মনে করছেন, এ আর রহমানের সেই ‘রেকলেস’ মন্তব্যের মধ্যেই হয়তো লুকিয়ে ছিল অরিজিতের ভবিষ্যৎ পথচলার ইঙ্গিত। নিয়মের বাইরে গিয়ে নিজের মতো করে কাজ করা, ইন্ডাস্ট্রির চাপ বা বাণিজ্যিক হিসাবের বাইরে থাকা—এই বৈশিষ্ট্যগুলোই হয়তো তাকে এমন এক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে।

তবে প্লেব্যাক গান থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও অরিজিৎ যে সংগীত থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন, এমনটা ভাবছেন না তার ঘনিষ্ঠ মহল। অনেকের ধারণা, তিনি হয়তো আরও বেশি মনোযোগ দেবেন স্বাধীন সংগীত, লাইভ কনসার্ট এবং নিজস্ব প্রযোজনার কাজে। এর আগেও তিনি বহুবার বলেছেন, সংগীত তার কাছে পেশার চেয়ে বেশি এক ধরনের সাধনা।

বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের সংগীতপ্রেমীদের কাছেও অরিজিৎ সিং অত্যন্ত জনপ্রিয়। তার কণ্ঠে প্রেম, বিরহ কিংবা জীবনের গভীর অনুভূতি যেন আরও জীবন্ত হয়ে ওঠে। তাই তার এই সিদ্ধান্ত শুধু ভারতের নয়, পুরো বাংলা ভাষাভাষী শ্রোতাদের মধ্যেও আলোড়ন তুলেছে।

এ আর রহমানের ভাইরাল হওয়া মন্তব্য নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছে, একজন শিল্পীকে শুধু তার বর্তমান সিদ্ধান্ত দিয়ে বিচার করা যায় না। তার দীর্ঘ পথচলা, সৃষ্টিশীল স্বাধীনতা এবং নিজের মতো করে বাঁচার সাহসই তাকে আলাদা করে তোলে। অরিজিতের ক্ষেত্রেও হয়তো তাই ঘটছে। প্লেব্যাক গান ছাড়লেও সংগীতের জগতে তার প্রভাব যে দীর্ঘদিন থাকবে, সে বিষয়ে খুব একটা সন্দেহ নেই।

সংবাদটি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সংগৃহীত, আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুসন্ধান এবং অনলাইন তথ্য-উপাত্ত পর্যবেক্ষণ করে সম্পূর্ণ পেশাদারিত্ব, দায়বদ্ধতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে প্রস্তুত করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত