অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২: রাজধানীতে ৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৪ বার
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)

প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানী ঢাকায় ক্রমবর্ধমান অপরাধ প্রবণতা দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) চলমান বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২’-এর আওতায় একদিনেই ৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় একযোগে পরিচালিত অভিযানে এই গ্রেপ্তার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। ডিএমপি জানিয়েছে, নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতেই এই অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বার্তায় জানানো হয়, রাজধানীর একাধিক থানা এলাকায় একযোগে এই অভিযান পরিচালিত হয়। লালবাগ, ডেমরা, সূত্রাপুর, মোহাম্মদপুর, পল্লবী, কাফরুল, আদাবর, যাত্রাবাড়ী, কদমতলী, শাহবাগ, ওয়ারী, ভাষানটেক ও হাতিরঝিল—এই ১৩টি থানা এলাকার বিভিন্ন স্পটে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন ও অভিযুক্ত অপরাধীদের আটক করা হয়। পুলিশ বলছে, এসব এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ডের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত।

ডিএমপির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার হয়েছে শাহবাগ থানা এলাকায়। এখান থেকে ১২ জনকে আটক করা হয়, যা মোট গ্রেপ্তারের একটি বড় অংশ। পুলিশের দাবি, শাহবাগ এলাকায় সম্প্রতি ছিনতাই, মাদক সংশ্লিষ্টতা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক তৎপরতার অভিযোগ বৃদ্ধি পেয়েছিল। সেই প্রেক্ষিতেই এখানে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এছাড়া মোহাম্মদপুর থানা এলাকা থেকে ছয়জন এবং যাত্রাবাড়ী থানা এলাকা থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কদমতলী ও সূত্রাপুর থানা এলাকা থেকে তিনজন করে মোট ছয়জন এবং লালবাগ এলাকা থেকে দুইজনকে আটক করা হয়। অন্যদিকে পল্লবী, কাফরুল, আদাবর, ডেমরা, ওয়ারী, ভাষানটেক ও হাতিরঝিল থানা এলাকা থেকে একজন করে মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে বিভিন্ন বয়সী ও পেশার মানুষ রয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই, মাদক কারবার, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা এবং অন্যান্য অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। ডিএমপির দেওয়া নামের তালিকা অনুযায়ী, লালবাগ এলাকা থেকে মো. সোহেল ও তারেক, ডেমরা থেকে মো. জাহাঙ্গীর হোসেন মুন্সি, মোহাম্মদপুর থেকে শাকিল, রাজু, রনি সহ মোট ছয়জন এবং শাহবাগ এলাকা থেকে মাহমুদুল হাসান মামুন ও শাহাদুল ইসলাম হৃদয়সহ ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া পল্লবী এলাকা থেকে গুরিয়া বেগম, কাফরুল থেকে মাহমুদুল খান এবং হাতিরঝিল এলাকা থেকে মনিরুজ্জামান বাপ্পীকে আটক করা হয়েছে।

ডিএমপি সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে এবং তাদের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তদের অপরাধের ধরন অনুযায়ী তদন্ত আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে, যাতে অপরাধের নেটওয়ার্ক ও সহযোগীদেরও শনাক্ত করা যায়।

‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ মূলত রাজধানীর অপরাধপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে ধারাবাহিকভাবে অভিযান পরিচালনার একটি বিশেষ উদ্যোগ। এর দ্বিতীয় ধাপ বা ফেইজ-২ আরও সমন্বিত ও ব্যাপক পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি। পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু গ্রেপ্তার নয়, অপরাধের মূল উৎস চিহ্নিত করে তা নির্মূল করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।

ডিএমপির মিডিয়া শাখা জানিয়েছে, নগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ জোরদার করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে। বিশেষ করে নির্বাচনকেন্দ্রিক সময় ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে রাজধানীতে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সেজন্য পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

নগরবাসীর একাংশ পুলিশের এই অভিযানে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, নিয়মিত এমন অভিযান পরিচালিত হলে ছিনতাই, মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে। তবে কেউ কেউ মনে করছেন, শুধু অভিযান নয়, দীর্ঘমেয়াদে অপরাধ কমাতে হলে সামাজিক সচেতনতা ও পুনর্বাসনমূলক উদ্যোগও প্রয়োজন।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২’ কোনো একদিনের কার্যক্রম নয়। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে রাজধানীকে অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ নগরীতে রূপান্তর করার চেষ্টা চলছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে ডিএমপি এবং ভবিষ্যতেও এই অভিযান আরও জোরদার হবে।

সব মিলিয়ে, রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের এই বিশেষ অভিযান একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পুলিশের তৎপরতায় একদিনে ৩৮ জন গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনা স্পষ্ট করে দেয়, অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সক্রিয়ভাবে মাঠে রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত