আয়কর রিটার্ন জমার সময় আরও এক মাস বাড়াল এনবিআর

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৪ বার
আয়কর রিটার্ন জমার সময় আরও এক মাস বাড়াল এনবিআর

প্রকাশ: ২৯  জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ব্যক্তি করদাতাদের জন্য স্বস্তির খবর দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা আরও এক মাস বাড়ানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার একটি বিশেষ আদেশ জারির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছে সংস্থাটি। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ব্যক্তি করদাতারা কোনো ধরনের জরিমানা ছাড়াই আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।

এ নিয়ে চলতি অর্থবছরে তৃতীয় দফায় আয়কর রিটার্ন জমার সময় বাড়ানো হলো। এর আগে এনবিআর দুই দফায় এক মাস করে সময় বাড়িয়েছিল। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি বছর আয়কর রিটার্ন জমার শেষ সময় থাকে ৩০ নভেম্বর। তবে বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশে প্রায় প্রতিবছরই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পর্যাপ্ত সংখ্যক করদাতা রিটার্ন দাখিল করতে না পারায় এনবিআরকে সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

এনবিআরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনলাইন রিটার্ন ব্যবস্থায় অনেক করদাতা এখনও পুরোপুরি অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারেননি। পাশাপাশি বিভিন্ন কারিগরি জটিলতা, করদাতাদের প্রস্তুতির ঘাটতি এবং বছরের শেষভাগে নানা সামাজিক ও ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে সময়মতো রিটার্ন জমা দিতে না পারার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এই সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে।

বর্তমানে দেশে কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএনধারীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখের বেশি। আইন অনুযায়ী, যেসব টিআইএনধারীর করযোগ্য আয় রয়েছে, তাদের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক। তবে এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৪ লাখ টিআইএনধারী তাদের রিটার্ন জমা দিয়েছেন। অর্থাৎ এখনও বিপুলসংখ্যক করদাতা রিটার্ন দাখিলের বাইরে রয়ে গেছেন। সময় বাড়ানোর ফলে এই সংখ্যাটি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করছে রাজস্ব কর্তৃপক্ষ।

চলতি অর্থবছরে আয়কর ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া প্রায় সব করদাতাকে এবার অনলাইনে বা ই-রিটার্নের মাধ্যমে রিটার্ন জমা দিতে হচ্ছে। এনবিআরের লক্ষ্য হলো, কর ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর করা। এর ফলে একদিকে যেমন করদাতারা ঘরে বসেই রিটার্ন জমা দিতে পারছেন, অন্যদিকে রাজস্ব প্রশাসনের জন্যও তথ্য সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ সহজ হচ্ছে।

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দেওয়ার প্রক্রিয়াকে আগের তুলনায় অনেক সহজ করা হয়েছে বলে দাবি এনবিআরের। করদাতাদের প্রথমে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। নিবন্ধনের সময় টিআইএন, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হয়। নিবন্ধন শেষে ব্যবহারকারী নাম ও পাসওয়ার্ড দিয়ে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ধাপে ধাপে রিটার্ন ফরম পূরণ করা যায়।

ই-রিটার্ন ব্যবস্থার একটি বড় সুবিধা হলো, এখানে কোনো কাগজপত্র আপলোড করার বাধ্যবাধকতা নেই। করদাতাকে শুধু প্রয়োজনীয় তথ্য অনলাইনে দিতে হয়। তবে এনবিআর স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যেসব কাগজপত্রের তথ্য দিয়ে রিটার্ন দাখিল করা হবে, সেগুলো অবশ্যই সংরক্ষণ করে রাখতে হবে। কারণ ভবিষ্যতে নিরীক্ষা বা অন্য কোনো প্রয়োজনে কর কর্তৃপক্ষ এসব কাগজপত্র দেখতে চাইতে পারে।

কর পরিশোধের ক্ষেত্রেও অনলাইন ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও আধুনিক করা হয়েছে। রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় করদাতারা ঘরে বসেই কর পরিশোধ করতে পারবেন। ব্যাংক ট্রান্সফার ছাড়াও ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, রকেট, নগদসহ বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে কর পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। এতে ব্যাংকে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা অনেকটাই কমে গেছে।

এনবিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, সময় বাড়ানো হলেও করদাতাদের শেষ মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কারণ শেষদিকে একসঙ্গে অনেক করদাতা রিটার্ন জমা দিতে গেলে ওয়েবসাইটে চাপ বাড়ে এবং কারিগরি সমস্যার আশঙ্কা থাকে। আগেভাগে রিটার্ন জমা দিলে এসব ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে কর সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করতে হলে শুধু সময় বাড়ানোই নয়, করদাতাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি। অনেক মানুষ এখনও মনে করেন, আয়কর রিটার্ন দেওয়া মানেই বাড়তি ঝামেলা বা আর্থিক চাপ। অথচ বাস্তবে রিটার্ন দেওয়া একটি নাগরিক দায়িত্ব, যা দেশের উন্নয়ন ও রাষ্ট্রীয় সেবার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

এনবিআর আশা করছে, বাড়তি এক মাস সময় পাওয়ায় নতুন ও পুরোনো উভয় ধরনের করদাতা আরও উৎসাহ নিয়ে রিটার্ন দাখিল করবেন। বিশেষ করে তরুণ পেশাজীবী, ফ্রিল্যান্সার ও ছোট উদ্যোক্তারা অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে সহজেই কর ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সব মিলিয়ে আয়কর রিটার্ন জমার সময়সীমা বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত করদাতাদের জন্য স্বস্তির হলেও, এনবিআর বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে—এটি শেষ সুযোগ নয়, বরং একটি সহায়ক পদক্ষেপ। ভবিষ্যতে কর ব্যবস্থাকে আরও শৃঙ্খলিত করতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রিটার্ন দাখিলের সংস্কৃতি গড়ে তোলাই হবে মূল লক্ষ্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত