আরিয়ানের সিরিজ নিয়ে মানহানি মামলা খারিজ হাইকোর্টে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪২ বার
আরিয়ানের সিরিজ নিয়ে মানহানি মামলা খারিজ হাইকোর্টে

প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানের পরিবারকে ঘিরে আলোচিত এক আইনি অধ্যায়ের অবসান ঘটাল দিল্লি হাইকোর্ট। শাহরুখপুত্র আরিয়ান খানের প্রথম পরিচালিত ওয়েব সিরিজ ‘দ্য ব্যাডস অফ বলিউড’ নিয়ে করা দুই কোটি টাকার মানহানি মামলা খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। মামলাটি করেছিলেন ভারতীয় রাজস্ব পরিষদের কাস্টমস কর্মকর্তা সমীর ওয়াংখেড়ে। আদালতের এই সিদ্ধান্ত শুধু সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর জন্যই নয়, বরং শিল্পীসত্তা, সৃজনশীল স্বাধীনতা এবং মানহানি আইনের সীমা নিয়ে বৃহত্তর আলোচনাকেও নতুন করে সামনে এনেছে।

দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি পুরুষেন্দ্র কুমার কৌরবের বেঞ্চ মামলাটি খারিজের আদেশ দেন। আদালত স্পষ্টভাবে বলেন, এই মামলাটি শুনানির জন্য দিল্লি হাইকোর্ট উপযুক্ত ফোরাম নয়। অর্থাৎ, মামলার অভিযোগ ও প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে হাইকোর্টের এখতিয়ার এখানে প্রযোজ্য নয় বলে মনে করেছেন বিচারপতিরা। ফলে মামলার মূল অভিযোগের সারবত্তা বা সত্য-মিথ্যা নির্ণয়ের পর্যায়ে না গিয়েই আবেদনটি খারিজ হয়ে যায়।

সমীর ওয়াংখেড়ের অভিযোগের কেন্দ্রে ছিল আরিয়ান খানের পরিচালিত ওয়েব সিরিজ ‘দ্য ব্যাডস অফ বলিউড’। তার দাবি অনুযায়ী, সিরিজটিতে এক সরকারি কর্মকর্তার চরিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে, যাকে ব্যঙ্গাত্মক ও নেতিবাচকভাবে দেখানো হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, ওই চরিত্রের মুখাবয়ব, আচরণ, কথাবার্তা এবং কাজের ধরন বাস্তবে সমীর ওয়াংখেড়ের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। বিশেষ করে চরিত্রটির মুখে বারবার উচ্চারিত ‘সত্যমেব জয়তে’ স্লোগানটি তার পরিচিত বক্তব্যের সঙ্গে মিলে যায় বলে তিনি দাবি করেন। এই মিলের মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেই মানহানি মামলার আশ্রয় নেন তিনি।

সমীর ওয়াংখেড়ে মামলায় শাহরুখ খান, তার প্রযোজনা সংস্থা এবং আরিয়ান খানের বিরুদ্ধে মোট দুই কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। তার বক্তব্য ছিল, জনপ্রিয় একটি ওয়েব সিরিজের মাধ্যমে একজন বাস্তব সরকারি কর্মকর্তাকে ইঙ্গিত করে ব্যঙ্গ করা হলে সেটি শুধু ব্যক্তিগত সম্মানহানিই নয়, বরং জনসেবার সঙ্গে যুক্ত একটি প্রতিষ্ঠানের মর্যাদাও ক্ষুণ্ন করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং বিভিন্ন মহলে এই অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়, বিশেষ করে আরিয়ান খানের নাম জড়িত থাকায় বিষয়টি আরও বেশি আলোচনায় আসে।

তবে দিল্লি হাইকোর্ট মামলাটি খারিজ করে দেওয়ায় আপাতত এই অভিযোগের বিচারিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, মানহানির মতো সংবেদনশীল অভিযোগ আনতে হলে সঠিক এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে সুনির্দিষ্ট আইনি ভিত্তিতে মামলা করতে হয়। এখতিয়ার সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্তের ফলে মামলার অভিযোগের মেরিট বা প্রকৃত ক্ষতির বিষয়টি আর আলোচনায় আসেনি।

‘দ্য ব্যাডস অফ বলিউড’ আরিয়ান খানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। শাহরুখ ও গৌরী খানের পুত্র হিসেবে ছোটবেলা থেকেই আলোচনায় থাকলেও, এই সিরিজের মাধ্যমে তিনি প্রথমবারের মতো পরিচালক হিসেবে নিজস্ব পরিচয় তৈরি করার চেষ্টা করেছেন। সিরিজটিতে বলিউড ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের নানা অন্ধকার দিক, ক্ষমতার রাজনীতি এবং তারকাখ্যাতির আড়ালে লুকিয়ে থাকা বাস্তবতাকে ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে বলে নির্মাতা পক্ষ জানিয়েছে।

এই ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেছেন ববি দেওল, মনোজ পাহওয়া, রজত বেদী, রাঘব জুয়াল ও গৌতমী কাপুরসহ একঝাঁক পরিচিত মুখ। সিরিজটি মুক্তির পর থেকেই আলোচনায় ছিল তার বিষয়বস্তু ও উপস্থাপনার ধরন নিয়ে। কেউ কেউ একে সাহসী ও ব্যতিক্রমী প্রচেষ্টা হিসেবে দেখেছেন, আবার কেউ কেউ সমালোচনা করেছেন বাস্তব চরিত্রের সঙ্গে মিল থাকার অভিযোগ তুলে।

আইনি বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলাটি খারিজ হওয়া সৃজনশীল কাজের স্বাধীনতার প্রশ্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হতে পারে। চলচ্চিত্র বা ওয়েব সিরিজে কাল্পনিক চরিত্র তৈরি করলেও অনেক সময় বাস্তব জীবনের সঙ্গে মিল পাওয়া যায়। তবে সেটিকে সরাসরি মানহানি হিসেবে বিবেচনা করা হবে কি না, তা নির্ভর করে উপস্থাপনার স্পষ্টতা, উদ্দেশ্য এবং ক্ষতির প্রমাণের ওপর। দিল্লি হাইকোর্টের সিদ্ধান্তে সেই বিতর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

অন্যদিকে, সমীর ওয়াংখেড়ের জন্য এই রায় একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। মামলাটি খারিজ হলেও তার সামনে আইনি পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। তিনি চাইলে অন্য কোনো উপযুক্ত আদালতে নতুন করে মামলা করতে পারেন বা উচ্চতর আদালতে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারেন। এখন প্রশ্ন উঠছে, তিনি পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে কোন পথ বেছে নেবেন।

শাহরুখ খান বা আরিয়ান খান এই রায়ের পর এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। তবে তাদের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, তারা আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বিষয়টিকে আইনি প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ হিসেবেই দেখছেন। বলিউড অঙ্গনেও অনেকেই মনে করছেন, এই রায়ের মাধ্যমে আরিয়ান খানের পরিচালনায় আত্মপ্রকাশ ঘিরে তৈরি হওয়া আইনি জটিলতা আপাতত কেটে গেল।

এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারও স্পষ্ট হলো, জনপ্রিয় সংস্কৃতি ও আইনের সংঘাত কতটা জটিল হতে পারে। একটি ওয়েব সিরিজ বা চলচ্চিত্র কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, তা সমাজের নানা স্তরে প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে, এমনকি আদালতের দরজায়ও পৌঁছে যেতে পারে। দিল্লি হাইকোর্টের এই রায় সেই বাস্তবতাকেই নতুনভাবে সামনে এনেছে, যেখানে সৃজনশীল স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত সম্মান এবং আইনি এখতিয়ারের সীমারেখা একে অপরের সঙ্গে মিলেমিশে রয়েছে।

আগামী দিনে সমীর ওয়াংখেড়ে কী সিদ্ধান্ত নেন, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে গণমাধ্যম ও দর্শকরা। তবে আপাতত দিল্লি হাইকোর্টের রায়ে স্পষ্ট—আরিয়ান খানের প্রথম ওয়েব সিরিজকে ঘিরে করা এই মানহানি মামলা এখানেই শেষ হলো।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত