উত্তরায় যাত্রীবিহীন বাসে আগুন, অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা এড়াল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৭ বার
উত্তরায় যাত্রীবিহীন বাসে আগুন, অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা এড়াল

প্রকাশ: ৩০  জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানীর উত্তরা হাউজ বিল্ডিং এলাকায় ভুঁইয়া পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল পৌনে ১০টার দিকে এই আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। তবে বাসটিতে তখন কোনো যাত্রী না থাকায় বড় ধরনের হতাহতের আশঙ্কা থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে। দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবুও এই অগ্নিকাণ্ড রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থার নিরাপত্তা, যানবাহনের রক্ষণাবেক্ষণ এবং চালকদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডিউটি অফিসার খালেদা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, সকাল ৯টা ৪৯ মিনিটে উত্তরা হাউজ বিল্ডিং এলাকায় একটি বাসে আগুন লাগার সংবাদ তারা পান। খবর পেয়ে দ্রুত দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তাদের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় আগুন আশপাশের যানবাহন বা স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়েনি।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ভুঁইয়া পরিবহনের বাসটি ওই সময় পার্কিং করা অবস্থায় ছিল। বাসের চালক ও সহকারী ইঞ্জিনের সুইচ চালু রেখেই নিকটবর্তী একটি চায়ের দোকানে যান। ঠিক সেই সময় বাসের ইঞ্জিন অংশে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। উত্তরা পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোর্শেদ আলম জানান, ইঞ্জিন থেকে হঠাৎ ধোঁয়া বের হতে শুরু করে এবং মুহূর্তের মধ্যেই সেখানে আগুন ধরে যায়। চালক ও সহকারী দ্রুত ঘটনাস্থলে ফিরে এলেও তখন আগুন ইতোমধ্যে বাসের একটি বড় অংশে ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালবেলা হাউজ বিল্ডিং এলাকায় যান চলাচল ছিল স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি। হঠাৎ একটি বাস থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখে অনেকে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা দেখা গেলে আশপাশের মানুষ নিরাপদ দূরত্বে সরে যান। কেউ কেউ মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের দৃশ্য দেখে অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন, যদি বাসটিতে যাত্রী থাকত, তাহলে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারত।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, অগ্নিকাণ্ডের ফলে বাসটির ইঞ্জিন অংশ এবং সামনের একটি বড় অংশ পুড়ে গেছে। তবে আগুন লাগার কারণ হিসেবে প্রাথমিকভাবে যান্ত্রিক ত্রুটিকেই দায়ী করা হচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ।

রাজধানীতে এ ধরনের বাসে আগুন লাগার ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও একাধিকবার যান্ত্রিক ত্রুটি, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট বা অবহেলার কারণে গণপরিবহনে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং পুরোনো বাস দীর্ঘদিন চালানোর প্রবণতা এসব ঘটনার পেছনে বড় কারণ। অনেক বাস মালিক সময়মতো ইঞ্জিন পরীক্ষা, বৈদ্যুতিক লাইনের ত্রুটি মেরামত বা প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ পরিবর্তনে গুরুত্ব দেন না। এর ফলে যাত্রী ও পথচারীদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে।

এই ঘটনায় চালক ও সহকারীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ইঞ্জিন চালু রেখে বাস পার্কিং করে রেখে যাওয়া কতটা নিরাপদ—এ নিয়ে পরিবহন বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ইঞ্জিন চালু অবস্থায় বাস রেখে চালক বা সহকারী দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থাকলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে পুরোনো বাসে এমন অভ্যাস মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উত্তরা হাউজ বিল্ডিং এলাকা একটি ব্যস্ত অঞ্চল। এখানে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ চলাচল করে। সকালবেলায় অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের ভিড় থাকে বেশি। এমন একটি জায়গায় বাসে আগুন লাগার ঘটনা যে কতটা ভয়াবহ হতে পারত, তা সহজেই অনুমান করা যায়। তারা বাসগুলোর নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা এবং চালকদের প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের পর কিছু সময়ের জন্য ওই এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর বাসটি সরিয়ে নেওয়া হয়, যাতে সড়কে যানজট সৃষ্টি না হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীতে গণপরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে কয়েকটি বিষয়ে কঠোর হতে হবে। বাসগুলোর নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা, ইঞ্জিন ও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার মান যাচাই এবং চালক-সহকারীদের নিরাপত্তা সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি ইঞ্জিন চালু রেখে বাস ফাঁকা রেখে যাওয়ার মতো অবহেলা বন্ধ করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরদারি বাড়াতে হবে।

এই ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে অনেকেই মনে করছেন, এটি ছিল একটি সতর্ক সংকেত। অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেলেও ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি হলে তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। তাই এখনই প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ, যাতে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় এবং যাত্রীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।

সবশেষে বলা যায়, উত্তরা হাউজ বিল্ডিং এলাকায় ভুঁইয়া পরিবহনের বাসে আগুন লাগার ঘটনাটি বড় কোনো দুর্ঘটনায় রূপ নেয়নি ঠিকই, তবে এটি নগর জীবনে প্রতিদিন ব্যবহৃত গণপরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে। নিয়মিত তদারকি, সচেতনতা এবং দায়িত্বশীল আচরণই পারে ভবিষ্যতে এমন ঝুঁকি কমাতে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত