ইসরায়েলে জোট ভাঙনের ঢেউ, অস্তিত্ব সংকটে নেতানিয়াহুর সরকার

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই, ২০২৫
  • ৫৭ বার
ইসরায়েলে জোট ভাঙনের ঢেউ, অস্তিত্ব সংকটে নেতানিয়াহুর সরকার

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম রাজনৈতিক শক্তি ইসরায়েল এখন এক গভীর রাজনৈতিক টালমাটাল অবস্থার মুখোমুখি। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সরকার থেকে বেরিয়ে গেছে কট্টর ডানপন্থী ধর্মীয় দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম (ইউটিজে), যা বর্তমান সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে বিপজ্জনকভাবে নড়বড়ে করে দিয়েছে।

জোট ত্যাগের ঘোষণা আসে ইয়েশিভা শিক্ষার্থীদের সামরিক পরিষেবা থেকে অব্যাহতির বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থতার প্রতিবাদে। ইউটিজের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকার একাধিকবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও পবিত্র ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় আইন পাস করেনি। এর প্রতিবাদেই দলটির সাতজন সংসদ সদস্যের মধ্যে ছয়জন ইতোমধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

উল্লেখযোগ্য যে, এর আগেই ইউটিজের চেয়ারম্যান ইৎজাক গোল্ডনফ পদত্যাগ করেছিলেন। এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে অপ্রত্যাশিত না হলেও, সময়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। একদিকে চলমান গাজা যুদ্ধ, অন্যদিকে সেনা অভাবের সংকটে ভুগছে দেশটি—এই প্রেক্ষাপটে সরকারকে সমর্থন দেওয়া কট্টর ধর্মীয় দলের সরে যাওয়া নেতানিয়াহুকে রাজনৈতিকভাবে বড় রকমের ধাক্কা দিল।

ইউটিজে মূলত দুটি অঙ্গসংগঠন—দেগেল হাতোরাহ ও আগুদাত ইসরায়েল—এর সমন্বয়ে গঠিত। দেগেল হাতোরাহর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় ছাত্রদের সেনা অব্যাহতি বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পর সরকার তার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসে, যা দলটির মতে এক প্রকার বিশ্বাসঘাতকতা।

গত বছর ইসরায়েলের সর্বোচ্চ আদালত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়, সেনাসেবার ক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য রাখা যাবে না। এর ফলে ইয়েশিভা বা ধর্মীয় শিক্ষার্থীদেরকেও সেনাসেবায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়, যা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক দেখা দেয়। বহু বছর ধরে সেনাসেবা থেকে ধর্মীয় শিক্ষার্থীরা অব্যাহতি পেয়ে এলেও এবার সেই সুবিধা বিলুপ্তির পথে।

এখন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটে ১২০ সদস্যের সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেমে এসেছে ৬১-তে, যা কার্যত সরকারকে টিকে থাকার জন্য এক প্রান্তিক অবস্থানে ঠেলে দিয়েছে। এই সংখ্যাগত দুর্বলতায় সরকার আইন প্রণয়ন, বাজেট পাসসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে চরম বাধার সম্মুখীন হতে পারে।

আরেক কট্টর ধর্মীয় দল শেষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জোটে রয়েছে, তবে তারা ইউটিজের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তীব্র। শ্যাসও ইয়েশিভা শিক্ষার্থীদের জন্য অব্যাহতির দাবিতে সোচ্চার, এবং সরকার যদি তাদের দাবি উপেক্ষা করে, তবে তারাও জোট ত্যাগ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নেতানিয়াহু সরকার বর্তমানে যে সংকটের মুখে, তা শুধুই একটি দল বেরিয়ে যাওয়ার ফল নয়। বরং এটি ইঙ্গিত করে গভীর আদর্শিক বিভক্তি, যে বিভক্তি গাজার যুদ্ধ, অভ্যন্তরীণ ধর্মনিরপেক্ষতা বনাম ধর্মীয় রাজনীতির সংঘাত এবং আদালত বনাম নির্বাহী শাখার দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে আরও বিস্তৃত হতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই রাজনৈতিক অস্থিরতা শুধু ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনেই নয়, বরং পুরো অঞ্চলে এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধের জটিলতায় জর্জরিত এক সময় যখন সামরিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তখনই সরকার তার ভিতরে বিশাল ফাটলের মুখোমুখি।

বর্তমানে নেতানিয়াহু এই সংকট থেকে উত্তরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে নতুন করে জোট গঠন কিংবা আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা এখন আর অস্বীকার করা যাচ্ছে না। ইসরায়েলের রাজনীতি আরেকটি অজানা ও অনিশ্চিত অধ্যায়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত