প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ওপার বাংলার জনপ্রিয় ও স্পষ্টভাষী অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখার্জি আবারও আলোচনার কেন্দ্রে। অভিনয় নয়, বরং প্রেম ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে দেওয়া এক মন্তব্যকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। একাধিক প্রেম করা অন্যায় নয়—এমন মন্তব্যের পর নেটিজেনদের একাংশ তাকে নৈতিকতার কাঠগড়ায় দাঁড় করালেও, সমালোচনার মুখে নীরব থাকেননি স্বস্তিকা। বরং কড়া ভাষায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, প্রেম করা ব্যক্তিগত বিষয় এবং এতে সমাজের অনুমতির প্রয়োজন নেই।
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে স্বস্তিকা মুখার্জি বলেন, মানুষের জীবনে একই সঙ্গে একাধিক প্রেম থাকা অস্বাভাবিক বা খারাপ কিছু নয়। বরং মানুষ যদি প্রেমে থাকতে চায়, ভালোবাসা ভাগ করে নিতে চায়—তাতে দোষের কিছু নেই। এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরপরই সামাজিক মাধ্যমে তা ভাইরাল হয়ে যায়। ফেসবুক, এক্স ও ইনস্টাগ্রামে শুরু হয় পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা। কেউ কেউ স্বস্তিকার বক্তব্যকে আধুনিক ও সাহসী বলে স্বাগত জানান, আবার অনেকেই তার মন্তব্যকে ‘অনৈতিক’, ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ ও ‘সমাজবিরোধী’ বলে আখ্যা দেন।
সমালোচনার মাত্রা যখন বাড়তে থাকে, তখন নিজের ফেসবুক পেজে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন অভিনেত্রী। সেখানে কোনো রাখঢাক না রেখেই তিনি লেখেন, “হ্যাঁ বলেছি, বেশ করেছি।” এই একটি বাক্যই যেন তার মানসিক দৃঢ়তার প্রকাশ। স্বস্তিকা স্পষ্ট করে জানান, প্রেম নিয়ে মিডিয়া যতবার প্রশ্ন করবে, তিনি ততবারই একই উত্তর দেবেন। কারণ, তিনি কোনো ধর্মগুরু নন, কোনো নীতিনির্ধারকও নন—তিনি একজন সাধারণ মানুষ, যিনি নিজের মতো করে বাঁচতে চান।
পোস্টে স্বস্তিকা প্রশ্ন তোলেন, সমাজে প্রেম করা কবে থেকে এত বড় অপরাধ হয়ে গেল যে তা নিয়ে সারাক্ষণ নৈতিকতার বিচার করতে হবে? তার ভাষায়, মানুষ তার কথাগুলো এমনভাবে নিচ্ছে যেন তিনি সবাইকে একাধিক প্রেম করতে উপদেশ দিচ্ছেন। অথচ তিনি শুধু নিজের মতামত ব্যক্ত করেছেন। স্বস্তিকার মতে, ব্যক্তিগত অনুভূতি ও সম্পর্কের বিষয়গুলো একান্তই ব্যক্তির নিজস্ব, সেখানে বাইরের লোকের নাক গলানোর অধিকার নেই।
তিনি আরও লেখেন, মানুষের হাতে যদি সময় থাকে, তবে সেই সময় প্রেম করে কাটানোই ভালো। প্রেম মানুষকে মানবিক করে, জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দেয়। তা না হলে মানুষ সেই সময় আজেবাজে বিষয় নিয়ে তর্ক-বিতর্কে, বিদ্বেষ ছড়াতে বা অন্যের চরিত্র বিশ্লেষণে ব্যয় করে। এই মন্তব্যের মাধ্যমে স্বস্তিকা মূলত সোশ্যাল মিডিয়ার নেতিবাচক চর্চার দিকেই ইঙ্গিত করেন বলে মনে করছেন অনেকে।
পোস্টের শেষ অংশে অভিনেত্রী সমালোচকদের উদ্দেশে পরামর্শ দেন—ফেসবুকে অন্যের জীবন নিয়ে মন্তব্য না করে নিজের ভালো থাকার পথ খুঁজে বের করতে। তার মতে, নিজের জীবনে শান্তি না থাকলেই মানুষ অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে এত আগ্রহ দেখায়। এই বক্তব্য অনেকের কাছে রূঢ় মনে হলেও, সমর্থকদের দাবি—এটাই স্বস্তিকার স্বভাব, সোজাসাপ্টা ও আপসহীন।
স্বস্তিকা মুখার্জি এমন একজন অভিনেত্রী, যিনি বরাবরই সামাজিক প্রচলিত ধ্যানধারণার বাইরে গিয়ে কথা বলতে ভালোবাসেন। নারী স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত পছন্দ, সম্পর্কের স্বাধীনতা—এই বিষয়গুলো নিয়ে তিনি আগেও একাধিকবার মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছেন। তবে প্রতিবারই তিনি নিজের অবস্থানে অটল থেকেছেন। তার সমর্থকদের মতে, এই সাহসী মনোভাবই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
এই বিতর্কের পেছনে সামাজিক বাস্তবতাও বড় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। উপমহাদেশীয় সমাজে প্রেম ও সম্পর্ক এখনো অনেকাংশে ট্যাবু হিসেবে বিবেচিত। বিশেষ করে একজন নারী যদি নিজের প্রেমজীবন নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেন, তবে সমালোচনার মুখে পড়ার সম্ভাবনা আরও বেশি। স্বস্তিকার বক্তব্য সেই চিরাচরিত মানসিক কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করেছে বলেই এত প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন সমাজ বিশ্লেষকেরা।
এদিকে বিতর্কের মাঝেও স্বস্তিকা ব্যস্ত সময় পার করছেন তার নতুন ওয়েব সিরিজ ‘কালীপটকা’-এর প্রচারণা নিয়ে। এই সিরিজে তার চরিত্র ও অভিনয় নিয়েও ইতোমধ্যে দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অনেকে বলছেন, ব্যক্তিগত মতামত নিয়ে যত বিতর্কই হোক, অভিনয়শিল্পী হিসেবে স্বস্তিকার জনপ্রিয়তায় এর বড় কোনো প্রভাব পড়বে না। বরং তার স্পষ্টভাষী অবস্থান তাকে আরও আলোচনায় রাখছে।
সব মিলিয়ে, একাধিক প্রেম নিয়ে স্বস্তিকা মুখার্জির মন্তব্য শুধু একজন অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত মতামত হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। এটি সমাজে প্রেম, সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে। এই বিতর্ক শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, তা সময়ই বলবে। তবে স্বস্তিকার বক্তব্য একথা স্পষ্ট করে দিয়েছে—নিজের জীবন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তিনি কারও কাছেই ছেড়ে দিতে রাজি নন।