শিশুটিকে গৃহকর্মী বানিয়ে নির্যাতন, বিমানের এমডি গ্রেপ্তার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৭ বার
শিশুটিকে গৃহকর্মী বানিয়ে নির্যাতন, বিমানের এমডি গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানীর উত্তরা অঞ্চলে এক শিশু কন্যার ওপর বেঁধে দেওয়া ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও তার স্ত্রীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুটি বর্তমানে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মামলার সূত্রে জানা গেছে, শিশুটিকে তার পিতা প্রাথমিকভাবে ১১ বছর বয়সে গৃহকর্মী হিসেবে এমডির বাসায় পাঠান। পরিবারে আর্থিক অভাব থাকায় তারা বিশ্বাস করেছিলেন, শিশুটি সঠিকভাবে রাখা হবে, মাসিক বেতন পাওয়া যাবে এবং বিয়ের খরচও গৃহকর্তারা বহন করবেন।

কিন্তু শিশুটিকে বাসায় পৌঁছে দেখেন ভক্তভোগীর পিতা, তখন তার মুখমণ্ডল, গলা ও পুরো শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শিশুটি জানিয়েছেন, তাকে শুধু মারধরই করা হতো না, বরং গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়াসহ সন্ত্রাসমূলক নির্যাতনের শিকার হতে হতো। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর পিতা দ্রুত উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে রোববার রাতে শিশুটিকে নির্যাতনের অভিযোগে এমডি সাফিকুর রহমান, তার স্ত্রী মোছা বীথি, গৃহকর্মী রূপালী খাতুন ও সুফিয়া বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি কাজী রফিক আহমেদ জানিয়েছেন, আট মাস আগে শিশুটি ওই বাসায় কাজ শুরু করে। শুরু থেকেই তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চলছিল। শিশুটি পুরো শরীরে আঘাতের চিহ্নসহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশের মামলায় বলা হয়েছে, শিশুটি গৃহকর্তার বাসায় আসে জুন মাসে, এবং শেষবার তাকে দেখা হয়েছিল গত বছরের ২ নভেম্বর। পরে তাকে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে শিশুটির অসুস্থতার খবর পেয়ে পিতা তাকে আনেন, তখন শিশুটির শরীরের অবস্থা দেখে তিনি চমকে ওঠেন।

ভুক্তভোগীর বাবা জানান, তিনি একজন হোটেল কর্মচারী। বাসার নিরাপত্তাকর্মী মো. জাহাঙ্গীর তার মেয়ের জন্য কাজ খুঁজছিলেন। তিনি বিশ্বাস করেছিলেন, শিশুটি ভালোভাবে রাখা হবে। কিন্তু কষ্টের বিষয়, শিশুটি বাসায় পৌঁছে ভয়ে কথা বলতে পারছিল না। গৃহকর্তাদের কাছ থেকে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

মামলার তদন্ত ও গ্রেপ্তারের পর পুলিশ আদালতে চারজনকে হাজির করলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার ধারাবাহিকতায় শিশুটিকে দেওয়া শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, বেতনের প্রতিশ্রুতি না রাখা, শিশুর শিক্ষা ও সাধারণ নিরাপত্তা অগ্রাহ্য করার বিষয়গুলো প্রমাণের জন্য তদন্ত চলছে।

শিশুটির কষ্টের গল্প মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সতর্কবার্তা বহন করছে। এটি শিশু শ্রম, শিশু নির্যাতন ও আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের শিশুদের নিরাপত্তা বিষয়ে সমাজকে সচেতন করার আহ্বান জানাচ্ছে। সমাজে শিশুদের অধিকার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে যথাযথ আইন প্রয়োগ ও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত