মণিরামপুরে মূল লড়াই হবে বিএনপি বিদ্রোহী বনাম জামায়াত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৭ বার
বিএনপি বিদ্রোহী বনাম জামায়াত

প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে সবচেয়ে নজরকাড়া লড়াই দেখা যাচ্ছে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শহীদ মো. ইকবাল হোসেন এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী গাজী এনামুল হকের মধ্যে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোট ভাগাভাগির তীব্র সংঘাতের কারণে তৃতীয় প্রতিদ্বন্দ্বী, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী এবং সাবেক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম নেতা রশীদ আহমাদ পিছিয়ে রয়েছেন।

জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল শহীদ ইকবাল হোসেনকে। তবে দল সিদ্ধান্ত নেয় আসনটি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে ছেড়ে দিতে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় শহীদ ইকবাল হোসেনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এর পরও স্থানীয় নেতাকর্মীদের বড় অংশ তার পক্ষে সক্রিয় হয়ে মাঠে রয়েছেন। মণিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়া, দুর্বাডাঙ্গা ও খেদাপাড়া ইউনিয়নের সীমিত সংখ্যক নেতাকর্মী ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করলেও অন্যান্য ইউনিয়নে শহীদ ইকবালের প্রতি সমর্থন দৃঢ়।

এ আসনে প্রায় পৌনে চার লাখ ভোটার রয়েছেন, যার মধ্যে ধর্মীয় সংখ্যালঘু ভোটারের সংখ্যা প্রায় এক লাখ। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পূজা উদযাপন পরিষদ, মতুয়া সম্প্রদায়সহ সাধারণ হিন্দু ভোটারদের বড় অংশ শহীদ ইকবাল হোসেনের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন। তার তিনবার মণিরামপুর পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হওয়ার অভিজ্ঞতা এবং আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা তাকে দৃঢ় প্রার্থী হিসেবে পরিচিত করেছে। মণিরামপুর বাজারে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে আলাপ থেকে দেখা গেছে, দীর্ঘ রাজনৈতিক উপস্থিতির কারণে শহীদ ইকবালকে সহজে উপেক্ষা করা যায় না, এবং তার প্রভাব এখনও দৃশ্যমান।

অপরদিকে, বিএনপি নেতা ও সমর্থকরা মনে করছেন, আসন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। তাদের ধারণা, ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী যদি তৃতীয় অবস্থানে চলে যায়, তা রাজনৈতিকভাবে নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে। তারা উল্লেখ করেছেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে মণিরামপুরে বিএনপির অন্তত ১২ জন নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন বা মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যেখানে জমিয়ত নেতা রশীদ আহমাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা জিডি নেই। তাই ত্যাগী নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ তার পক্ষে মাঠে নামতে অনাগ্রহী।

নির্বাচনি প্রচারে শহীদ ইকবালের সমর্থনে চোখে পড়ার মতো জনসমাগম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তুলনামূলকভাবে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর প্রচারে লোকসমাগম কম। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকরা নিয়মিত নির্বাচনি প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে নারী ভোটারদের মধ্যে জামায়াতের সাংগঠনিক তৎপরতা অন্য দুই প্রার্থীর তুলনায় বেশি বলে জানা গেছে।

শহীদ মো. ইকবাল হোসেন সাংবাদিকদের জানান, তিনি নিজের জয়ের ব্যাপারে সম্পূর্ণ আশাবাদী এবং কোনো অবস্থাতেই নির্বাচনি মাঠ ছাড়ার প্রশ্ন নেই। জামায়াতের প্রার্থী গাজী এনামুল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আহসান হাবিব লিটন জানান, তারা বিজয়ের পথে রয়েছেন এবং বিএনপির বিদ্রোহী তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যশোর-৫ আসনে এই লড়াই শুধুমাত্র ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার উপর নির্ভর করছে না, বরং এখানে দলীয় সমর্থন, স্থানীয় নেতাকর্মীর সক্রিয়তা এবং সংখ্যালঘু ভোটের প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর শক্তিশালী জনপ্রিয়তা এবং জামায়াতের সংগঠিত প্রচার এই আসনকে ত্রিমুখী লড়াইয়ের জন্য একটি উত্তেজনাপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করেছে। নির্বাচনের ফলাফল যেকোনো দিক হতে পারে, তবে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভোটারদের আচরণ প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনাকে প্রভাবিত করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত