প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)-এর সহ-সভাপতি আব্দুর রশিদ জিতু বিএনপিতে যোগদান করেছেন। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় সদস্যপদ গ্রহণ করেন। জিতুর সঙ্গে জাকসুর কয়েকটি হল সংসদের প্রতিনিধিরাও ছাত্রদলে যোগ দেন। এই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মিলন অনুষ্ঠানটি ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন সঞ্চালনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সহসভাপতি তহিদুর রহমান আওয়াল এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের অন্যান্য নেতারা। ছাত্রদলে যোগদানকারী জাকসুর সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন নবাব সলিমুল্লাহ হলের ভিপি ইবনে শিহাব, আল বেরুনী হলের ভিপি রিফাত আহমেদ শাকিল, এ এফ এম কামাল উদ্দীন হলের ভিপি জি এম এম রায়হান কবির, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের ভিপি অমিত বণিক, নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলের ভিপি বুবলি আহমেদ, বেগম খালেদা জিয়া হলের ভিপি ফারজানা রিথি, মীর মোশাররফ হোসেন হলের জিএস শারিয়ান নাজিম রিয়াদ, শহিদ রফিক-জব্বার হলের জিএস শরিফুল ইসলাম এবং শহিদ সালাম-বরকত হলের ভিপি মারুফ হাসান। এর আগে শহিদ সালাম-বরকত হলের জিএস মাসুদ রানা এবং এ এফ এম কামাল উদ্দীন হলের এজিএস রিপন মণ্ডলও ছাত্রদলে যোগদান করেছেন।
ছাত্রদলে যোগদান অনুষ্ঠান এবং সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে ছাত্রদল সবসময় শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষার জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, “বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা, ষড়যন্ত্র এবং অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে নির্বাচনের আয়োজন করা হয়, কোথাও কোথাও ব্যালট পেপার জালিয়াতির ঘটনাও ঘটেছে। তবুও আমরা সব ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি এবং মেধাভিত্তিক ছাত্র রাজনীতি উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছি।”
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-সভাপতি আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, “বাংলাদেশ বর্তমানে একটি পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর দীর্ঘ ৩৩ বছর পর অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক জাকসু নির্বাচনে আমি স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন প্যানেল থেকে সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হই। আমি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে যে দলটি কাজ করে, সেই দলের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে চাই।”
জিতু আরও বলেন, “আমি বিশ্বাস করি বিএনপি এই চেতনাগুলো ধারণ করে এবং একটি সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য বিএনপির বিকল্প নেই। বাংলাদেশপন্থী রাজনীতি এবং দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের সংগ্রাম একমাত্র বিএনপির মাধ্যমে সম্ভব।”
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জাকসু নির্বাচনে আব্দুর রশিদ জিতু তিন হাজার ৩৩৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তিনি ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন’ প্যানেল থেকে নির্বাচন করেন। তার নির্বাচনী জয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা এবং নতুন রাজনৈতিক প্রত্যাশা তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জাকসু সহ-সভাপতি হিসেবে জিতুর কাজ এবং ছাত্রদলে যোগদান ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে। তিনি শুধু শিক্ষার্থী রাজনীতি নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আশ্বাস দিয়েছেন। তার এই পদক্ষেপ ছাত্ররাজনীতিতে বিএনপির প্রভাব বৃদ্ধি করতে সহায়ক হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জিতুর যোগদান শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দলের যুব-নেতৃত্বের শক্তি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি, এটি ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং জাতীয় রাজনীতিতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণকে আরও সক্রিয় করবে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা বলেন, জিতু এবং তার সঙ্গে যোগদানকারী অন্যান্য জাকসুর সদস্যরা দলের তরুণ প্রজন্মকে সংগঠিত করতে এবং ছাত্র-রাজনীতিতে নতুন উদ্দীপনা যোগ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। তারা শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নেতৃত্ব দেবেন।
এই যোগদান অনুষ্ঠানটি ছাত্ররাজনীতি এবং জাতীয় রাজনীতির সংযোগ বৃদ্ধিতে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে ধরা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, জিতুর যোগদান বিএনপি ও ছাত্রদলের মধ্যে একটি শক্তিশালী সম্পর্ক স্থাপনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।