শেষ নির্বাচনী সফরে ঠাকুরগাঁও-নীলফামারী-দিনাজপুরে তারেক রহমান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৫ বার
শেষ নির্বাচনী সফরে ঠাকুরগাঁও-নীলফামারী-দিনাজপুরে তারেক রহমান

প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দেশের রাজনীতিতে যখন উত্তাপ বাড়ছে, ঠিক সেই সময় ঢাকার বাইরে শেষ নির্বাচনী সফরে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধারাবাহিক জনসভা ও গণসংযোগের পর এবার তার সফরের চূড়ান্ত পর্বে যুক্ত হচ্ছে ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী ও দিনাজপুর। এই সফরকে ঘিরে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতূহল।

বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন তারেক রহমান। সেখান থেকে সরাসরি তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, হেলিকপ্টারে তিনি শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে নামবেন এবং পরে শহরের সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত বিশাল জনসভায় বক্তব্য রাখবেন। এরপর নীলফামারী হয়ে দিনাজপুরে গিয়ে আরেকটি বড় জনসভায় অংশ নেয়ার কথা রয়েছে তার।

এই সফরকে ঘিরে তিন জেলাতেই উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। বিভিন্ন সড়ক, জনসভাস্থল ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণ দিয়ে সাজানো হচ্ছে এলাকা। দলীয় সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন পর দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়ে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে এক ধরনের আবেগ কাজ করছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে বিএনপির ঐতিহ্যগত সমর্থন এবং অতীতের রাজনৈতিক স্মৃতি এই সফরকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

তারেক রহমানের এই সফর শুধু একটি নির্বাচনী কর্মসূচি নয়, বরং বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসের ধারাবাহিকতার একটি প্রতীকী অধ্যায় হিসেবেও দেখা হচ্ছে। দিনাজপুরের বিরামপুরের সরকারি কলেজ মাঠে ১৯৭৭ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং ২০০১ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া বক্তব্য দিয়েছিলেন। সেই একই মাঠে এবার বক্তব্য রাখবেন তাদের বড় ছেলে তারেক রহমান। দলীয় নেতারা বলছেন, এটি শুধু একটি জনসভা নয়, বরং উত্তরাঞ্চলের রাজনীতিতে বিএনপির উত্তরাধিকার ও ধারাবাহিকতার একটি শক্ত বার্তা বহন করবে।

এর আগে উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গের বিভিন্ন জেলায় অনুষ্ঠিত জনসভাগুলোতে বিপুল জনসমাগম লক্ষ্য করা গেছে। ঢাকার বাইরে তারেক রহমানের সফরগুলোতে শুধু দলীয় কর্মী নয়, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষও অংশ নিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি বিএনপির মাঠপর্যায়ের সংগঠন কতটা সক্রিয় এবং জনগণের মধ্যে দলটির গ্রহণযোগ্যতা কতটা রয়েছে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও কর্মসংস্থানের অভাব নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ এই জনসভাগুলোতে বারবার উঠে এসেছে।

বিএনপি সূত্র জানায়, আসন্ন নির্বাচনে উত্তরাঞ্চলের আসনগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি। কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য, সেচ সংকট এবং কর্মসংস্থানের বিষয়গুলোকে সামনে রেখে তারেক রহমান তার বক্তব্যে দিকনির্দেশনা দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, ভোটাধিকার এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও কথা বলতে পারেন।

জনসভাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্ভাব্য যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে নেওয়া হয়েছে কঠোর প্রস্তুতি। সভাস্থল ও আশপাশের এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। পাশাপাশি যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় প্রশাসন কাজ করছে বলে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, শান্তিপূর্ণভাবে জনসভা সম্পন্ন করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

এই সফরের রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকার বাইরে শেষ নির্বাচনী সফর হিসেবে উত্তরবঙ্গকে বেছে নেয়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই অঞ্চল অতীতে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন এলেও, এখানকার ভোটারদের মনোভাব এখনও বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তারেক রহমানের সরাসরি উপস্থিতি দলীয় নেতাকর্মীদের চাঙা করার পাশাপাশি ভোটারদের মধ্যেও নতুন বার্তা পৌঁছে দিতে পারে।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই সফর নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সমর্থকরা এটিকে ‘ঐতিহাসিক সফর’ হিসেবে উল্লেখ করছেন, আবার সমালোচকরাও রাজনৈতিক বক্তব্য ও কর্মসূচি নিয়ে নিজেদের মত প্রকাশ করছেন। সব মিলিয়ে, এই সফর উত্তরাঞ্চলের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তারেক রহমানের সফরসূচি অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁওয়ের জনসভা শেষে তিনি নীলফামারী হয়ে দিনাজপুরে যাবেন। প্রতিটি জনসভায় দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন। দলীয় সূত্র বলছে, এই সফরের মধ্য দিয়েই ঢাকার বাইরে তারেক রহমানের নির্বাচনী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে। এরপর রাজধানীকেন্দ্রিক কর্মসূচি ও নির্বাচনী কৌশল চূড়ান্ত করার দিকে মনোযোগ দেবে বিএনপি।

সব মিলিয়ে, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী ও দিনাজপুর সফর শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির শক্তি প্রদর্শন, ঐতিহ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। এই সফরের বার্তা ও প্রতিক্রিয়া নির্বাচনের মাঠে কীভাবে প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত