প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ এবং আগাম নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন যে, নির্বাচনে জয়ী হলে বিএনপি এককভাবে সরকার গঠন করবে এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র সঙ্গে কোনো প্রকার ঐক্যের সরকার গঠন করা হবে না। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তিনি জামায়াতকে সরকারে দেখতে চান না, বরং একটি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত বিরোধী দল হিসেবে তাদের কার্যকর ভূমিকা কামনা করেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে সরকার গড়লে বিরোধী দল কে হবে? এই প্রশ্ন নিজেই বিএনপির একক সরকার গঠনের প্রয়োজনীয়তা প্রমাণ করে।’ তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উল্লেখ করেন, বিএনপি এককভাবে সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্তসংখ্যক আসন অর্জনে সক্ষম। দলের নির্বাচনী কৌশল ও আসন বিতরণ প্রসঙ্গে তারেক রহমান জানান, তারা ৩০০ সংসদীয় আসনের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হওয়ার আশা রাখছেন। বিএনপি ২৯২টি আসনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, বাকি আসনগুলোতে তাদের জোট শরিকরা লড়াই করছেন।
সাক্ষাৎকারে তিনি পূর্ববর্তী সরকারের সঙ্গে ২০০১-০৬ সালের অভিজ্ঞতার তুলনা করে বলেন, ‘আগের সরকারের সময় বিএনপি এবং জামায়াত একসঙ্গে শাসন করলেও এবার সেই সমীকরণে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা নেই। জামায়াত আমাদের সরকারের অংশ হবে না। আমরা চাই তারা শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অবদান রাখুক।’ দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও এর আগে একই অবস্থান প্রকাশ করেছেন।
পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে যেকোনো টানাপোড়েন বা চীনের আগ্রহ নিয়ে আমাদের নীতি নির্ধারিত হবে বাংলাদেশের সার্বভৌম স্বার্থের ভিত্তিতে। দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান অগ্রাধিকার পাবে। বন্ধুত্ব বা সহযোগিতা নির্দিষ্ট কোনো দেশের সঙ্গে সীমাবদ্ধ থাকবে না।’
শেখ হাসিনার পরিবার রাজনীতিতে ফিরে আসার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, ‘যদি জনগণ কাউকে গ্রহণ করে এবং তাদের স্বাগত জানায়, তবে রাজনীতির সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত।’ অর্থাৎ, বিএনপি চেয়ারম্যান জনগণের ইচ্ছাকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দিচ্ছেন এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও অংশগ্রহণের গুরুত্বে জোর দিচ্ছেন।
রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গেও তারেক রহমান স্পষ্ট অবস্থান নেন। তিনি বলেন, ‘নিরাপদ পরিবেশ না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে থাকতে পারবে। তবে লক্ষ্য থাকবে তাদের প্রত্যাবাসন। আমরা চাই যে, মানবিক দায়িত্ব পালন করা হোক এবং এই অভিবাসী জনগণ তাদের স্বদেশে নিরাপদে ফিরে যেতে পারুক।’
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নির্বাচন এক ভিন্ন বাস্তবতার মধ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ নির্বাচনের বাইরে এবং নেতৃত্ব ছত্রভঙ্গ। তাই মূল রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা এখন বিএনপি বনাম জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের মধ্যে। এই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের একক সরকারের ঘোষণা দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে প্রতিধ্বনিত হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান নির্বাচনী পরিবেশে রাজনৈতিক স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীলতা এবং দেশের সার্বভৌম স্বার্থ রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি জনগণকে জানানোর চেষ্টা করেছেন যে, ক্ষমতা অর্জন শুধু সরকারের শীর্ষে বসা নয়, বরং জনগণের কল্যাণ, দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, তারেক রহমানের এই বক্তব্য শুধু নির্বাচনী কৌশল নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক দর্শনও প্রকাশ করছে। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে সম্পর্ক, সরকারি ও বিরোধী দলের কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অবস্থান—all–এ স্পষ্ট নীতি গ্রহণের বার্তা দিচ্ছে বিএনপি।
এছাড়া তিনি এই সাক্ষাৎকারে দলের শক্তি, নির্বাচনী প্রস্তুতি এবং জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতির দিকেও জোর দিয়েছেন। এককভাবে সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়ে তিনি বিএনপির সক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস প্রতিফলিত করেছেন, যা ভোটারদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা এবং নির্বাচনী উত্তেজনা বাড়াচ্ছে।