প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আফগানিস্তান ক্রিকেট দল চেন্নাইয়ের এমএ চিদাম্বরাম চিপক স্টেডিয়ামে নতুন এক রেকর্ড স্থাপন করেছে। নিজেদের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাট হাতে ঝড় তুলেছেন গুলবাদিন নাইব। তার আগ্রাসী ফিফটির সঙ্গে সেদিকউল্লাহ আতল, দারউইশ রাসুলি ও আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস মিলিয়ে দল ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮২ রান সংগ্রহ করেছে। এটি স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ হিসেবে রেকর্ড হয়েছে।
খেলাটি ‘ডি’ গ্রুপের অংশ হিসেবে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হয়। টস জিতে আফগানিস্তান প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়। ইনিংসের শুরুটা কিছুটা ধীর ছিল। ষষ্ঠ ওভারে জোড়া উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দল। ১২ বলে ১০ রান করে ইব্রাহিম জাদরান এবং ২২ বলে ২ চার ও ১ ছক্কার সাহায্যে ২৭ রান করে আউট হন রহমানউল্লাহ গুরবাজ। দুজনকেই সাজঘরে ফেরান নিউজিল্যান্ডের বোলার লকি ফার্গুসন।
চাপে থাকা দলকে স্থিতিশীল করতে তৃতীয় উইকেটে জুটি বাঁধেন গুলবাদিন নাইব ও সেদিকউল্লাহ আতল। ক্রিজে বসে ধীরে ধীরে তারা আক্রমণাত্মক শৈলী তৈরি করেন। দুজনের জুটিতে আসে ৭৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ অবদান। ২৪ বলে ২ চারের সঙ্গে ২৯ রান করে দলীয় ১২৩ রানে বিদায় নেন আতল। অন্যপ্রান্তে দ্রুত এগিয়ে যান গুলবাদিন। মাত্র ৩৫ বলে ৪ ছক্কা ও ৩ চারের সাহায্যে ৬৩ রান করে ইনিংসের ১৮তম ওভারের দ্বিতীয় বলে আউট হন।
শেষদিকে দারউইশ রাসুলি ১৩ বলে ২০ রান এবং আজমতউল্লাহ ওমরজাই ৭ বলে ১৪ রান যোগ করে দলকে ১৮২ রানে পৌঁছে দেন। এই ইনিংস আফগানিস্তানের জন্য চিপক স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ হিসেবে রেকর্ডে যুক্ত হয়েছে।
নিউজিল্যান্ডের বোলিং ইউনিটে লকি ফার্গুসন ছিলেন সবচেয়ে কার্যকরী। চার ওভার বল করে তিনি ২ উইকেট নিলেও তুলনামূলকভাবে খরুচে ছিলেন। এক উইকেট নিয়েছেন ম্যাট হ্যানরি, জ্যাকব ডাফি এবং রাচিন রবীন্দ্র। আফগানিস্তানের রেকর্ড ইনিংস নিউজিল্যান্ডের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
অফ স্পিনের দায়িত্বে রশিদ খানসহ অভিজ্ঞ মোহাম্মদ নবি ও মুজিব উর রহমান ছিলেন, যারা ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিং বিভাগেও দলের শক্তি বাড়িয়েছেন। পেস বোলিংয়ের ক্ষেত্রে আস্থা জোগাচ্ছেন ফজলহক ফারুকী ও জিয়াউর রহমান। পুরো ইনিংসে আফগানিস্তানের বোলিং ও ব্যাটিং সমন্বয় দলকে প্রতিপক্ষের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শক্তিশালী করেছে।
এই জয়ের সুযোগের সঙ্গে আফগানিস্তান দলের খেলোয়াড়দের আগ্রাসী মানসিকতা এবং মাঠে দৃঢ় মনোবল তাদেরকে নতুন রেকর্ডের দিকে ধাবিত করেছে। গুলবাদিন নাইবের ফিফটি শুধু ব্যাক্তিগত সাফল্য নয়, এটি পুরো দলের আত্মবিশ্বাস এবং বিশ্বকাপ মঞ্চে তাদের সক্ষমতার প্রতিফলন।