প্রকাশ: ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
পাকিস্তান বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে জয়ের মাধ্যমে, তবে দলের তারকা ব্যাটসম্যান বাবর আজম ব্যাট হাতে ফর্মে নেই। ডাচদের বিপক্ষে পাকিস্তানের জয় নিশ্চিত হলেও বাবর মাত্র ১৮ বলে ১৫ রান করতে সক্ষম হন। এই ইনিংস শুধু সাম্প্রতিক ম্যাচের নয়, ২০২৫ সালের শুরু থেকে বাবরের টি-টোয়েন্টি পারফরম্যান্স ধারাবাহিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে এসেছে।
২০২৫ সালের শুরু থেকে ৩৪টি টি-২০ খেলায় বাবর ব্যাট করেছেন মাত্র ১১৬.২৩ স্ট্রাইকরেটে। এই সময়ে তিনি ৭৯টি চারের পাশাপাশি মাত্র ছয়টি ছয় মেরেছেন। ডাচদের বিপক্ষে ১৮ বলের ইনিংসে তাঁর একমাত্র বাউন্ডারি ছাড়া অন্য কোনো উল্লেখযোগ্য আঘাত লক্ষ্য করা যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে ভারতের সাবেক কোচ ও ধারাভাষ্য রবি শাস্ত্রী মনে করেন, বাবরের ইনিংসে বাউন্ডারি মারার চেষ্টা থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আইসিসির রিভিউয়ে সাঞ্জানা গনেসান এবং রিকি পন্টিংয়ের সঙ্গে আলাপকালে শাস্ত্রী বলেছেন, প্রথম কয়েক বলেই আউট হয়ে যাওয়া খারাপ কিছু নয় যদি ব্যাটসম্যানের মধ্যে স্পষ্টভাবে বাউন্ডারি মারার চেষ্টা থাকে। শাস্ত্রী আরও বলেছেন, ‘যখন আপনি ক্যারিয়ারের ওই পর্যায়ে পৌঁছে যান, তখন ভার বহন করতে হয়। চাপ থাকে, মানুষ আশা করে আপনি পারফর্ম করবেন। প্রথম কয়েকটা বলেই আউট হয়ে গেলে আমার আপত্তি নেই, কিন্তু আপনাকে ইন্টেন্ট দেখাতে হবে। দুয়েকটা বাউন্ডারি মারার চেষ্টা করতে হবে, ভালো পজিশনে ঢুকতে হবে এবং বোলার কী করতে যাচ্ছে সেটা আগে থেকে আন্দাজ করতে হবে। এতে খুব দ্রুত পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।’
রবির এই মন্তব্য স্পষ্টভাবে নির্দেশ করছে, বাবরকে কেবল রান করা নয়, তার খেলার ধারা এবং মানসিকতা গুরুত্বপূর্ণ। খেলোয়াড় হিসেবে তার দায়িত্ব শুধু নিজের স্কোর নয়, দলের মোমেন্টাম ধরে রাখা। শাস্ত্রী বিশ্বাস করেন, ব্যাটসম্যানের আক্রমণাত্মক মনোভাবই ম্যাচের গতি পরিবর্তনের জন্য বড় প্রভাব ফেলে।
অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি রিকি পন্টিং বাবরের খেলার ধরন নিয়ে মন্তব্য করেছেন, ‘যদি ১৮ বলে ১৫ রান করেন, তাহলে শুধু নিজের ওপর চাপই নয়, অপর প্রান্তে থাকা ব্যাটারের ওপরও চাপ বেড়ে যায়। তখন ওই ব্যাটার বুঝে যায় যে বাউন্ডারি মারার দায়িত্ব এখন তার। বাবরের শুরুটা দ্রুত হওয়া দরকার। প্রথম কয়েকটা বলেই তার বাউন্ডারি দরকার, নইলে ক্রিজে আসার সময় মোমেন্টাম প্রতিবারই অন্য দিকে চলে যায়।’
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যাটসম্যানের প্রাথমিক বাউন্ডারি খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটি দলকে আত্মবিশ্বাস দেয় এবং বোলারকে মানসিক চাপের মধ্যে ফেলে। বাবরের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের ক্ষেত্রে এটি আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তার খেলা পুরো দলের পারফরম্যান্সকে প্রভাবিত করে।
ক্রিকেট বিশ্লেষকরা বলছেন, বাবরের সাম্প্রতিক ফর্মে আক্রমণাত্মকতার অভাব দেখা যাচ্ছে। যদিও তিনি দলের সবচেয়ে বড় তারকা, তার ইনিংসের ধীরগতি দলকে চাপের মধ্যে ফেলে। শাস্ত্রী এবং পন্টিংর মতামত অনুযায়ী, বাবরের উচিত স্বাভাবিকভাবে আক্রমণাত্মক মনোভাব বজায় রাখা, তবে সতর্কতার সাথেই। প্রথম কয়েক বলেই আউট হয়ে যাওয়া মানসিকভাবে খারাপ হলেও এটি দলকে দীর্ঘমেয়াদে সুবিধা দিতে পারে, কারণ বোলারদের উপর চাপ সৃষ্টি হয় এবং অন্য ব্যাটসম্যানদের সুযোগ তৈরি হয়।
শাস্ত্রী বলেন, ‘ব্যাটসম্যান হিসেবে আপনার ইন্টেন্ট স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন। বাউন্ডারি মারার চেষ্টা এবং খেলায় আক্রমণাত্মকতার উপস্থিতি দর্শক এবং প্রতিপক্ষ দুইকে প্রভাবিত করে। এটি শুধু ফলাফলের জন্য নয়, পুরো দলের মানসিকতাকেও প্রভাবিত করে।’ পন্টিংও এ ব্যাপারে যোগ করেন, ‘একজন ব্যাটসম্যানকে খেলার ধরন এমনভাবে রাখতে হবে যে বোলারকে হুমকির মধ্যে রাখতে পারে এবং দলের মোমেন্টাম ধরে রাখতে সহায়তা করে।’
বিশ্লেষকরা আরও বলেন, বাবরের সাম্প্রতিক ফর্মের উদ্বেগপূর্ণ হলেও তার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা টিমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আক্রমণাত্মক খেলার মানসিকতা ফিরিয়ে আনা হলে তিনি দ্রুত নিজেকে এবং দলকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবেন। শাস্ত্রী এবং পন্টিং উভয়েই মনে করেন, ব্যাটসম্যানের ইন্টেন্টই তার পারফরম্যান্সের মূল নির্দেশক। এটি শুধুই ব্যক্তিগত নয়, পুরো দলের মোমেন্টাম ও আত্মবিশ্বাসকে প্রভাবিত করে।
তাই এই পর্যায়ে বাবরের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের খেলায় আত্মবিশ্বাস ধরে রাখা এবং খেলার আগ্রাসী মনোভাব বজায় রাখা। প্রথম কয়েক বলেই আউট হয়ে যাওয়া মানসিক দিক থেকে চাপ সৃষ্টি করতে পারে, তবে দলের জন্য এটি দীর্ঘমেয়াদে উপকারী। বাবরের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং আইকনিক অবস্থান তাকে দলকে নেতৃত্ব দিতে সাহায্য করবে।
সামগ্রিকভাবে, শাস্ত্রী ও পন্টিংর পরামর্শ স্পষ্ট: বাবরের খেলার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বাউন্ডারি মারার ইচ্ছা দেখানো এবং প্রতিটি ইনিংসে আক্রমণাত্মক মানসিকতা বজায় রাখা। এটি তাকে ফর্মে ফিরিয়ে আনবে এবং পাকিস্তান দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জয়ের সুযোগ তৈরি করবে।